
যুক্তরাজ্যে কিশোরীদের যৌন নির্যাতন, ‘গ্রুমিং গ্যাং’-এর ৭ সদস্য অভিযুক্ত
যুক্তরাজ্যে ১১ কিশোরী মেয়ের ওপর যৌন অপরাধের অভিযোগে সাতজন পুরুষকে অভিযুক্ত করা হয়েছে বলে ব্রিটিশ পুলিশ বুধবার জানিয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে ৪০টিরও বেশি অভিযোগ আনা হয়েছে। এটি যুক্তরাজ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলা তথাকথিত ‘গ্রুমিং গ্যাং’ কেলেঙ্কারির সর্বশেষ অধ্যায়।
এই সাতজনের বিরুদ্ধে ২০২২ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে পশ্চিম ইংল্যান্ডের শহর ব্রিস্টলে সংঘটিত ধর্ষণ, যৌন নির্যাতনসহ নানা অভিযোগ আনা হয়েছে।
ক্রাউন প্রসিকিউশন সার্ভিসের (সিপিএস) সংগঠিত শিশু যৌন নির্যাতন ইউনিটের কর্মকর্তা জেমস বোল্টন–স্মিথ এক বিবৃতিতে বলেন, ‘ব্রিস্টলে দলভিত্তিক শিশু যৌন শোষণের ঘটনার তদন্তের পর সাতজন পুরুষের বিরুদ্ধে মামলা চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ক্রাউন প্রসিকিউশন সার্ভিস।’
এই মামলাটি যুক্তরাজ্যের দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত ‘গ্রুমিং গ্যাং’–সংক্রান্ত মামলাগুলোর সর্বশেষ সংযোজন, যেগুলোর প্রেক্ষিতে বহু বছরের দাবির পর গত জুন মাসে সরকার একটি সর্বজনীন তদন্ত কমিশন গঠন করে।
বিভিন্ন সরকারি তদন্ত প্রতিবেদনে, বিশেষ করে সংসদ সদস্য লুইস কেইসি পরিচালিত ঐতিহাসিক এক পর্যালোচনায়, দেখা গেছে, মূলত দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত কিছু পুরুষের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে—তারা কয়েক দশক ধরে প্রধানত শ্বেতাঙ্গ, শ্রমজীবী শ্রেণির হাজারো কিশোরী মেয়েকে যৌন নির্যাতন করেছে।
অ্যাভন ও সামারসেট পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত সাতজনের মধ্যে চারজন নিজেদের ইরানি, সিরীয় বা আরব হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন।
সাতজনের মধ্যে ছয়জনের বিরুদ্ধে অন্তত একটি করে ধর্ষণের অভিযোগ এবং অন্য একজনের বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ আনা হয়েছে।
ইংল্যান্ডের উত্তরাঞ্চলীয় শহর রোচডেলে শিশু যৌন শোষণের ঐতিহাসিক তদন্তে এখন পর্যন্ত ৩২ জন অপরাধী দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। তাদের সম্মিলিতভাবে ৪৫০ বছরেরও বেশি কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়েছে।
এদিকে ব্রিটেনের ডানপন্থী কর্মীরা, যার মধ্যে টমি রবিনসনের মতো বিতর্কিত ব্যক্তিরাও রয়েছেন, এই ইস্যুটিকে বহুসংস্কৃতিবাদ ও অভিবাসনবিরোধী আন্দোলনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছেন।



