
আজ যুক্তরাষ্ট্রে এবং কাল বাংলাদেশ বরকতময় পবিত্র শবে বরাত
রূপসী বাংলা প্রবাস ডেস্ক: আজ ২০ এপ্রিল শনিবার যুক্তরাষ্ট্রে এবং বাংলাদেশে কাল রবিবার দিবসের আলোকরেখা পশ্চিমে মিলিয়ে যাবার পরই শুরু হবে পরম কাঙ্ক্ষিত মহিমাময় রজনী, পবিত্র লাইলাতুল বারা’ত। শব-ই-বরাত। ভার্জিনিয়ার আর্লিংটনস্থ বায়তুল মোকারম সহ বিভিন্ন মসজিদে পবিত্র শবে বরাত উপলক্ষে বিশেষ দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। এছাড়া দে পবিত্র শবে বরাত উপলক্ষে বাণী দিয়েছেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী।
শব-ই-বরাত – মহিমান্বিত ভাগ্যরজনী। পাপ থেকে সর্বান্তকরণে ক্ষমা প্রার্থনা করে নিষ্কৃতি লাভের অপার সৌভাগ্যের রাত। বর্ণিত আছে যে, রাতে আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের নূরের তাজাল্লি পৃথিবীর নিকট আসমানে প্রকাশ পায়। তখন আল্লাহপাক বলতে থাকেন-আছে কি কেউ ক্ষমা প্রার্থী? যাকে আমি ক্ষমা করব? আছে কি কেউ রিজিক প্রার্থী? যাকে আমি রিজিক প্রদান করব? আছে কি কেউ বিপদগ্রস্ত? যাকে আমি বিপদমুক্ত করব? আল্লাহ তায়ালার মহান দরবার থেকে প্রদত্ত এ আহ্বান অব্যাহত থাকে ফজর অবধি। বস্তুত, শব-ই-বরাত হলো আল্লাহ তায়ালার মহান দরবারে ক্ষমা প্রার্থনার বিশেষ সময়। আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালার নৈকট্য ও সান্নিধ্য লাভের এক দুর্লভ সুযোগ এনে দেয় লাইলাতুন নিসফি মিন শাবান। অতএব, প্রতিটি কল্যাণকামী মানুষের প্রধানতম কর্তব্য হলো এ সুযোগের পূর্ণ সদ্ব্যবহার করা। মহান আল্লাহ’র ইবাদত-বন্দেগিতে নিমগ্ন হয়ে রাত অতিবাহিত করা। তাত্পর্যপূর্ণ এই রাতে বিশেষ বরকত হাসিলের জন্য মুসলিম সমপ্রদায় নফল নামাজ আদায় ও কোরআন তেলাওয়াত, ইস্তেগফার, ইবাদত-বন্দেগি, জিকির-আসকার, তাসবিহ-তাহলিল, দোয়ায় মশগুল থাকেন।
শব-ই-বরাতকে ‘লাইলাতুল বারাআত’ নামে অভিহিত করা হয়। ‘লাইলাতু’ একটি আরবী শব্দ, আর ‘শব’ শব্দটি ফারসী। দুইটি শব্দের অর্থই হ’ল রাত। অপর পক্ষে’ ’বারাআত’ শব্দের অর্থ হ’ল- নাজাত, নিষ্কৃতি বা মুক্তি। এ রাতে বান্দারা মহান আল্লাহ তায়ালার নিকট থেকে মার্জনা লাভ করে থাকেন। এ কারণে এ রাতকে ‘লাইলাতুল বারাআত’ বা শব-ই-বরাত বলা হয়। শাবান মাসের মধ্যবর্তী রাতে পবিত্র শব-ই-বরাত পালিত হয়। এ ব্যাপারে কুরআন শরিফে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ না থাকলেও হাদীস শরীফে এটাকে লাইলাতুন নিসফি মিন শাবান বা মধ্য শাবানের রাত্রি নামে অভিহিত করা হয়েছে। এর পক্ষকাল পরেই আসবে রহমত বরকত নাজাতের মাহে রমজান (১৯ জুন প্রথম রোজা) । একারণে এটাকে বলা হয় রমজানের মুয়াজ্জিন।
এদিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শান্তির ধর্ম ইসলামের চেতনাকে ব্যক্তি, সমাজ ও জাতীয় জীবনের সকল স্তরে প্রতিষ্ঠা এবং পবিত্র শবেবরাতের মাহাত্ম্যে উদ্বুদ্ধ হয়ে মানব কল্যাণ ও দেশ গড়ার কাজে আত্মনিয়োগ করার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।



