
আসিয়ানকে পাশে চান বাইডেন
চলতি বিশ্বে আন্তর্জাতিক সম্পর্কগুলো ধারণার চেয়ে দ্রুত বদলাচ্ছে। এত দ্রুত যে, অনেক ক্ষেত্রে দু-সপ্তাহ পরে কী হতে পারে, তাও ঠিকঠাক অনুমান করা যাচ্ছে না। এ অবস্থায় দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় জাতিপুঞ্জের (আসিয়ান) সঙ্গে সম্পর্ক নবায়ন করতে আটঘাট বেঁধে নেমেছে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রশাসন।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে,শনিবার (১২ নভেম্বর) আসিয়ানের চলমান ৪০ ও ৪১তম শীর্ষ সম্মেলনে জোটটির সদস্য দেশগুলোর বাইরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনসহ আরও কয়েকজন যোগ দিয়েছেন। তারা জলবায়ু, স্বাস্থ্যখাত, খাদ্য ও জ্বালানি, নিরাপত্তা ও ইউক্রেন যুদ্ধসহ নানা বিষয়ে কথা বলেছেন। এক সপ্তাহের মধ্যে এ অঞ্চলে আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি চীন ও রাশিয়াসহ আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ দেশের প্রতিনিধিরা অংশ নিচ্ছেন।
কম্বোডিয়ার রাজধানী নমপেনে সম্মেলনের তৃতীয় দিন একটি অনুষ্ঠানের শুরুতে কথা বলেন বাইডেন। নিজের প্রশাসনের ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশলের কেন্দ্রে আসিয়ানভুক্ত দেশেগুলো রয়েছে জানিয়ে বাইডেন বলেন, ‘আমাদের সময়ের বৃহত্তম সমস্যাগুলো মোকাবিলা করার জন্য আমাদের যৌথভাবে কাজ করতে হবে। জলবায়ু থেকে শুরু করে স্বাস্থ্য, এসব বিষয় আজ হুমকির মুখে। নিয়ম-নীতি ভিত্তিক আান্তর্জাতিক ব্যবস্থার আলোকে এগুলো সমাধান করার জন্য আমাদের একসঙ্গে কাজ করার কোনো বিকল্প নেই।’
সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমলে যুক্তরাষ্ট্রের ইন্দো-প্যাসিফিক নীতি স্তিতিমিত হয়ে পড়ে। ট্রাম্প তার চার বছরের শাসনামলে আসিয়ানের কোনো একটি বৈঠকে যোগ দেননি। ঠিক এ সময় এ অঞ্চলে আগে থেকে বাড়তে থাকা চীনের আধিপত্য আর বাড়ে। বাইডেন ক্ষমতা গ্রহণ করেই যুক্তরাষ্ট্রের ইন্দো-প্যাসিফিক নীতি ঢেলে সাজাতে শুরু করেন। তারই ধারাবাতিকতায় আসিয়ান সম্মেলনে যোগ দিলেন তিনি।
চীনের আধিপত্যের দিকে ইঙ্গিত করে বাইডেন বলেন, ‘আমরা এমন একটি ইন্দো-প্যাসিফিক গঠন করতে চাই, যেটা হবে মুক্ত ও অবাধ। স্থিতিশীল ও সমৃদ্ধ। চ্যালেঞ্জ গ্রহণে সক্ষম ও নিরাপদ।’ অন্যদিকে যথারীতি রাশিয়ার ইউক্রেন হামলারও নিন্দা করেন তিনি।
প্রতিবেশীদের সঙ্গে সম্পর্ক বাড়ানোর ধারাবাহিক পদক্ষেপ হিসেবে গত বছর চীন-আসিয়ান বহুমাত্রিক কৌশলগত সহযোগিতার একটি চুক্তি করে। চীনের অনুসরণে শনিবার যুক্তরাষ্ট্র-আসিয়ানও এমন একটি সম্পর্কে ঘোষণা দেয়। এ সম্পর্কে বাইডেন বলেন, ‘শুধু বড় বড় কথা নয়। যা বলছি, তা আমাদের প্রতিশ্রুতি।’
আসিয়ানের এবারের শীর্ষ সম্মেলনে জোটটির সদস্যেদের নেতাদের বাইরে বাইডেন ছাড়া আরও যারা অংশ নিয়েছেন, তাদের মধ্যে মধ্যে জাপান, প্রধানমন্ত্রী ফুমিও কিশিদা, অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবেনিজ এবং দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট ইউন সুক-ইওল অন্যতম।
বক্তৃতায় দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট ইউন সুক-ইওল চীন ও জাপানের সঙ্গে সম্পর্ক বাড়ানোর কথা জানিয়েছেন। তিনি এ দুদেশের সঙ্গে আলোচনা গড়ে তোলার জন্য নতুন পদ্ধতির প্রস্তাব করেছেন। ইউন সুক-ইওল বলেন, ‘নানা ধরনের সংকটের জন্য আমাদের যৌথ চেষ্টা এখন থেকেই শুরু করতে হবে। যুদ্ধকালে খাদ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তা কীভাবে নিশ্চিত করা যাবে, তা নিয়ে আমাদের এখন থেকেই ভাবতে হবে।
জাপানের প্রধানমন্ত্রী ফুমিও কিশিদা বলেন, ‘উত্তর কোরিয়া একের পর এক যেভাবে ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করছে, তা অঞ্চলে বড় সংকট তৈরি করেছে। এ অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করে তুলেছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’ ইউন সুক-ইওলের কণ্ঠেও এক অভিযোগ শোনা গেছে।



