বাংলাদেশ

আহমদ শফীর মৃত্যুর পর হেফাজতে ইসলাম টিকবে তো?

বাংলাদেশে অনেকের কাছেই আহমদ শফী এবং ‘হেফাজতে ইসলাম’ সমার্থক শব্দের মতো।

‘হেফাজতে ইসলাম’ নামটি ব্যাপকভাবে পরিচিত পেতে শুরু করে ২০১৩ সালে ঢাকার শাপলা চত্বরে সমাবেশের পর। তখন থেকে আহমদ শফীও হয়ে ওঠেন ব্যাপক পরিচিত। ব্লগারদের শাস্তির দাবীতে সে সমাবেশ সবাইকে চমকে দিয়েছিল।

বাংলাদেশের সমাজ এবং রাজনীতিতে কওমি মাদ্রাসা-ভিত্তিক এই গোষ্ঠী কতটা প্রভাবশালী সেটি সদর্পে জানিয়ে দেয় শাপলা চত্বরের সেই সমাবেশ।

হেফাজতে ইসলামের নেতা আহমদ শফী কওমি মাদ্রাসার সাথে সম্পৃক্ত মানুষের কাছে আগে থেকেই পরিচিত থাকলে দেশের বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর কাঠে তার ব্যাপক পরিচিত গড়ে উঠে ২০১৩ সালে শাপলা চত্বরে সমাবেশের মাধ্যমে।

বয়সের ভারে ন্যুব্জ হয়ে গেলেও হেফাজতে ইসলামের নেতৃত্বে আহমদ শফীর থাকা নিয়ে কোন প্রশ্ন বা বিতর্ক ওঠে নি। কওমি মাদ্রাসার লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থী এবং শিক্ষকের কাছে আহমদ শফীর পরিচিতি ‘মুরুব্বী’ হিসেবে।

শফির মৃত্যু ও হেফাজতের ভবিষ্যৎ
২০১০ সালে হেফাজতে ইসলাম গঠিত হলেও এটি তেমন কোনও পরিচিত সংগঠন ছিল না।

হেফাজতে ইসলামের নির্বাহী কমিটির মুফতি সাখাওয়াত হোসেন বলেন, এটি ছিল মূলত চট্টগ্রাম-কেন্দ্রিক একটি আঞ্চলিক সংগঠন।

ব্লগারদের বিরুদ্ধে আন্দোলনকে কেন্দ্র হেফাজতে ইসলামের তৎপরতা বাড়ে।

২০১৩ সালে ঢাকার শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সেই ঐতিহাসিক সমাবেশ

এই সংগঠনের সাথে এমন অনেকেই জড়িত আছেন যারা বিভিন্ন ইসলামপন্থী রাজনৈতিক দলের সাথে সম্পৃক্ত। কিন্তু আমীর আহমদ শফীর কোনও রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা বা পরিচয় ছিল না। অনেকে মনে করেন এ কারণে আহমদ শফীর বাড়তি গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হয়েছিল।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক মুহাম্মদ ইয়াহিয়া আখতার মনে করেন, আহমদ শফীর মৃত্যুর পরেও হেফাজতে ইসলাম তেমন কোনও সংকটে পড়বে। এক্ষেত্রে তারা কতটা ঐক্যবদ্ধ থাকতে পারে সেটি জরুরী বিষয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।

অধ্যাপক আখতার বলেন, ‘আহমদ শফী সাহেবের থাকা না থাকা এখানে বড় বিষয় নয়। বয়সগত কারণে গত কয়েক বছর ধরে সিদ্ধান্ত গ্রহণে আহমদ শফী সক্রিয় ছিলেন না বলেই মনে হয়েছে।’

‘হেফাজতে ইসলাম দুর্বল হবে না। রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে তাদের গুরুত্ব সবসময় থাকবে। তবে সেটা ভাগ হবে নাকি ঐক্যবদ্ধ থাকবে – সেটাই হচ্ছে মূল প্রশ্ন।’

অনেকে মনে করেন, গত কয়েক বছরে আহমদ শফীর প্রভাব অনেকটাই কমে গিয়েছিল।

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাথে অতি ঘনিষ্ঠতা, বিভিন্ন সুবিধা গ্রহণের বিষয় নিয়ে হেফাজতে ইসলামের ভেতরে নানা বিভ্রান্তি ও পক্ষ-বিপক্ষ তৈরি হয়েছে।

মৃত্যুর আগের দিন হাটহাজারী মাদ্রাসা থেকে তাকে সরে যেতে বাধ্য করার বিষয়টি প্রমাণ করে করে যে আহমদ শফী তার আগের অবস্থান হারিয়েছেন।

এ পরিস্থিতির জন্য অনেকে আহমদ শফীর ছেলে আনাস মাদানিকেই দায়ী করেন।

অভিযোগ রয়েছে, বয়সের ভারে ন্যূব্জ আহমদ শফীকে গত কয়েক বছর যাবত নানাভাবে সামনে রেখে স্বার্থ হাসিল করেছেন তার ছেলে আনাস মাদানি।

আনাস মাদানি এই অভিযোগ সবসময় অস্বীকার করেছেন।

হেফাজতে ইসলামের নির্বাহী কমিটির সদস্য ও ঢাকার লালবাগ মাদ্রাসার শিক্ষক মুফতি সাখাওয়াত হোসেন বলেন, হেফাজতে ইসলামীর মূল দায়িত্বে অরাজনৈতিক ব্যক্তিরাই থাকবে।

তিনি মনে করেন আহমদ শফীর মৃত্যু তেমন কোনও শূন্যতা তৈরি করবে না।

‘শফী সাহেব যে অবস্থানে গিয়েছিলেন, আগে তো তিনি সে অবস্থানে ছিলেন না। পরে যিনি দায়িত্বে আসবেন তিনি যদি মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাতে পারেন তাহলে আমার মনে হয় না মানুষ শূন্যতায় ভুগবে,’ বলেন মুফতি সাখাওয়াত।

তিনি জানান, হেফাজতে ইসলামের ২২৯ সদস্য বিশিষ্ট একটি শুরা কমিটি আছে। পরবর্তী আমীর কে হবেন এ বিষয়ে শুরা কমিটি সিদ্ধান্ত নেবে।❐

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension