যুক্তরাষ্ট্র

ইরানে হামলা বাড়ানোর হুমকি ট্রাম্পের, পুরোনো ভুলের পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা

ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলা আরও জোরদার করার হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে বিশ্লেষকেরা বলছেন, সামরিক চাপ বাড়িয়েও তেহরানকে নীতিগত ছাড় দিতে বাধ্য করা কঠিন হবে। এতে বরং সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এক মাস আগে হওয়া অন্তর্বর্তী যুদ্ধবিরতি কার্যত ভেঙে পড়ার পর নতুন করে উত্তেজনা বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য, হরমুজ প্রণালিতে ইরানের প্রভাব কমানো এবং তেহরানকে নিজেদের শর্ত মেনে আলোচনায় ফিরিয়ে আনা। তবে উভয় পক্ষ এখনো পূর্ণমাত্রার যুদ্ধে না জড়ালেও দ্রুত সমাধানের সম্ভাবনা ক্ষীণ হয়ে এসেছে। এরই মধ্যে তেলের দাম বেড়েছে এবং বৈশ্বিক আর্থিক বাজারেও অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার টানা ষষ্ঠ দিনের মতো পাল্টাপাল্টি হামলা হয়েছে। একই সময়ে ইরান ইঙ্গিত দিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি তাদের বিদ্যুৎ অবকাঠামোতে হামলা চালায়, তাহলে ইয়েমেনের হুতি মিত্রদের মাধ্যমে লোহিত সাগরের বাব আল-মান্দেব প্রণালিতেও জাহাজ চলাচলে বাধা সৃষ্টি করা হতে পারে।

মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসনের ভেতরে ইরানের জ্বালানি স্থাপনা, সেতু, খার্গ দ্বীপের তেল টার্মিনাল এবং ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক স্থাপনা ‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন’-এ হামলার মতো বিভিন্ন বিকল্প নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে এসব পদক্ষেপের ঝুঁকি এবং রাজনৈতিক পরিণতি নিয়ে প্রশাসনের মধ্যেই সংশয় রয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক সাবেক মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তা ও বর্তমানে আটলান্টিক কাউন্সিলের গবেষক জনাথন প্যানিকফ বলেন, নতুন হামলায় ইরানের অবস্থান বদলাবে- এমন বিশ্বাস করার কারণ নেই। বরং এতে তেহরানের অবস্থান আরও কঠোর হতে পারে।

অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেন, প্রেসিডেন্ট এখনো কূটনৈতিক সমাধানকে অগ্রাধিকার দেন। তবে তার ভাষ্য, ‘ইরান শুধু সামরিক শক্তির ভাষাই বোঝে’।

যুদ্ধবিরতির ভাঙন, অচল আলোচনা
গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া সমঝোতার ভিত্তিতে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও স্থায়ী চুক্তির আলোচনা এগোয়নি। ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের ওপর নতুন করে তেল বিক্রির নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। পাশাপাশি সাম্প্রতিক সময়ে জাহাজে হামলার জন্য তেহরানকে দায়ী করে ইরানের বন্দরগুলোতেও অবরোধ পুনর্বহাল করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প সামরিক চাপের মাধ্যমে ইরানকে আবার আলোচনার টেবিলে আনতে চাইছেন। কিন্তু হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই পক্ষের অবস্থান এখনো বিপরীতমুখী। ইরান সেখানে নিজেদের ভূমিকা বজায় রাখতে চায়, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও উপসাগরীয় মিত্ররা অবাধ নৌ চলাচল নিশ্চিত করার পক্ষে।

সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কা
রয়টার্সের তিনটি সূত্র জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি হামলা আরও বাড়ায়, তাহলে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের মাধ্যমে বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে তেলবাহী জাহাজ চলাচল ব্যাহত করার প্রস্তুতি নিতে বলেছে তেহরান। এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নতুন করে সংকটে পড়তে পারে।

ইসরায়েলের ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল সিকিউরিটি স্টাডিজের গবেষক ড্যানি সিত্রিনোভিচ বলেন, যত চাপই দেওয়া হোক না কেন, ইরানের নেতৃত্ব সহজে নতি স্বীকার করবে না। তার মতে, ট্রাম্প যদি হামলার পরিধি আরও বাড়ান, তাহলে ইরানও পাল্টা প্রতিক্রিয়া আরও জোরালো করবে।

সূত্র: রয়টার্স

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension