
ইয়েমেনের রহস্যময় ‘জাহান্নামের কুয়া’
ইয়েমেনের পূর্বাঞ্চলের বারহুতের কুয়াকে ঘিরে রূপকথার শেষ নেই। ঠিক কবে কীভাবে ওই কুয়ার উৎপত্তি তা এখনো ঠিক করে বলতে পারছেন না বিজ্ঞানীরা। ফলে একে ঘিরে রহস্য আরও ঘনীভূত হয়েছে। স্থানীয় আরবরা একে জাহান্নামের কুয়া হিসেবে চেনে। রাজধানী সানা থেকে ১ হাজার ৩০০ কিলোমিটার দূরে ওমানের সীমান্তের কাছাকাছি আল মাহরা প্রদেশে অবস্থিত ওই ৩০ মিটার চওড়া কুয়াটি। কুয়াটির গভীরতা কত এ নিয়ে বহু বছর কোনো স্পষ্ট ধারণা ছিল না। কিন্তু প্রযুক্তিগত কারণে এখন জানা সম্ভব হয়েছে যে, কুয়াটির গভীরতা ১০০ থেকে ২৫০ মিটারের মতো।
স্থানীয় লোককাহিনী বলে, জাহান্নামের রাক্ষসদের বন্দি করে রাখার জন্যই নাকি ওই কুয়া তৈরি করা হয়েছিল। স্থানীয়দের এমন ধারণা আরও পাকাপোক্ত হয় কুয়াটি থেকে আসা বাজে দুর্গন্ধের কারণে। ইয়েমেনের কর্মকর্তারা জানেন না কুয়ার ভেতরের পরিবেশ কেমন এবং এর ইতিহাস কী। ইয়েমেনের রাজনৈতিক অস্থিরতা ও বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে অন্য দেশের বিজ্ঞানীদের পক্ষে আর মাহরায় যাওয়া সহজ নয়।
আল মাহরার ভূতাত্ত্বিক জরিপ ও খনিজ বিভাগের নির্বাহী পরিচালক সালেহ বাবহির এএফপিকে বলেন, ‘এটা অনেক গভীর। আমরা কখনো এই কুয়ার তলায় পৌঁছাতে পারিনি। কুয়ার উপরিতলে অক্সিজেন থাকলেও ভেতরে কোনো অক্সিজেন নেই। আমরা একাধিকবার ওই এলাকায় যাই এবং কুয়াটিতে প্রবেশের চেষ্টা করি। মাত্র ৫০-৬০ মিটার পর্যন্ত নামতে পেরেছিলাম আমরা। কুয়ার ভেতরে আমরা অদ্ভুত কিছু ব্যাপার খেয়াল করি। বাজে দুর্গন্ধও আসে। গোটা পরিস্থিতিই আসলে রহস্যজনক।’ বাবহিরের মতে, ওই কুয়ার বয়স কয়েক মিলিয়ন বছর। কুয়াসহ গোটা এলাকা নিয়ে আরও গবেষণা প্রয়োজন বলেও মনে করেন তিনি।
ভিডিওগ্রাফাররা কুয়ার ভেতরের পরিবেশের দৃশ্য ধারণ করার চেষ্টা করেছিলেন অনেকবার। কিন্তু তাদের কোনো চেষ্টাই সফল হয়নি। গত কয়েক শতক ধরেই কুয়াটি ঘিরে বিভিন্ন অতিপ্রাকৃতিক ব্যাখ্যার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা অনেকেই বিশ্বাস করেন, জিনেদের সৃষ্টি ওই কুয়া। কুয়াটিকে কেন্দ্র করে রহস্যময় গল্প এতটাই প্রচলিত যে, স্থানীয়রা না পারতে কুয়াটির ধারেকাছেও যায় না। শুধু তাই নয়, কুয়াটির কাছে কেউ ভুল করে গেলেও তার নাকি সৌভাগ্যের দরজা বন্ধ হয়ে যায় এমন বিশ্বাসও রয়েছে।



