
ওবামা- হিলারির ঠিকানায় বোমা: গ্রেপ্তার এক
রূপসী বাংলা আন্তর্জাতিক ডেস্ক : মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমালোচকদের উদ্দেশ্যে ডাকযোগে বোমা পাঠানোর অভিযোগে ফ্লোরিডা থেকে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ৫৬ বছর বয়সী ওই ব্যক্তির নাম সিজার সায়োক। অতীত রেকর্ডের সূত্র ধরে ওই ব্যক্তিকে একজন চিহ্ণিত অপরাধী হিসেবে উল্লেখ করেছেন মার্কিন কর্মকর্তারা। এ খবর জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যম বিবিসি।
সিজারের বিরুদ্ধে ডাকযোগে বিস্ফোরক পাঠানো ও সাবেক প্রেসিডেন্টদের হুমকি দেয়াসহ পাঁচটি অভিযোগ আনা হচ্ছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই ঘটনাকে ‘ঘৃণ্য’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেছেন, ‘আমাদের দেশে এ ধরনের কর্মকাণ্ডের কোন স্থান নেই।’
যুক্তরাষ্ট্রে সাম্প্রতিক সময়ে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা, সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন এবং অভিনেতা রবার্ট ডি নিরোসহ ট্রাম্পের সমালোচন হিসেবে পরিচিত বিভিন্ন ব্যক্তির ঠিকানায় বোমা পাঠানো হয়েছিল।
যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে বিভিন্ন হাইপ্রোফাইল ব্যক্তির ঠিকানায় ১৪টি বিস্ফোরক ডিভাইস পাঠানোর ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার সকালেও ফ্লোরিডা ও নিউ ইয়র্ক সিটিতে এরকম দুটি বিস্ফোরক পাওয়া যায়। পরে ক্যালিফোর্নিয়ায় আরো দুটি প্যাকেট পাওয়া যায়।
যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচনের মাত্র দুই সপ্তাহের-ও কম সময় আগে এই ঘটনা ঘটলো।
যেভাবে গ্রেপ্তার হলেন সিজার
সিজার সায়োকের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের প্লানটেশন শহরে একটি গাড়ির পার্টসের দোকান আছে। গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন ব্যক্তিদের কাছে পাঠানো প্যাকেটের গায়ে তার আঙ্গুলের ছাপ সানাক্ত করার পর তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় এফবিআই।
এফবিআই কর্মকর্তারা বলছেন, তাকে আটক করার ক্ষেত্রে ডিএনএ টেস্ট এবং মোবাইল ফোনের ডাটাও ভালো ভূমিকা রেখেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ বলছে, সিজার সায়োকের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হলে তিনি ৪৮ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হতে পারেন।
কে এই সিজার?
মার্কিন আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো বলছে, সিজারের বাড়ি ফ্লেরিডা অঙ্গরাজ্যের অ্যাভেনচুরা এলাকায়। অনেকটা একই ধরনের অভিযোগে ২০০২ সালেও তাকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। তখন তিনি মিয়ামি-ডাডে কাউন্টিতে বোমা হামলার হুমকি দিয়েছিলেন। এ ঘটনায় তিনি এক বছর কারাবন্দি ছিলেন।
এখানেই শেষ নয়, তার বিরুদ্ধে চুরি ও প্রতারণা অভিযোগও রয়েছে। ১৯৯১ সালে তার বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগ আনা হয়েছিল। ২০১২ সালে তিনি যখন তার মায়ের সঙ্গে থাকতেন, তখন তাকে দেউলিয়া ঘোষণা করেছিল ব্যাংক।
১৯৮০ দশকে নর্থ ক্রারলিনা এক কলেজে ভর্তি হয়েছিলেন সিজার। কিন্তু গ্রাজুয়েট শেষ করতে পারেননি। মাত্র তিন সেমিস্টার করার পরই কলেজে যাওয়া ছেড়ে দেন।
সিজারকে আটক করার পর মার্কিন টেলিভিশন চ্যানেলগুলোতে একটি সাদা ভ্যানের ছবি দেখানো হয়, যা সিজারের বলে দাবি করা হয়ছে। ওই গাড়ির জানালায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ছবি সাঁটানো রয়েছে। এ দেখে ধারণা করা হচ্ছে ওই ব্যক্তি মার্কিন প্রেসিডেন্টের একজন বড় ফ্যান।
সূত্র: বিবিসি



