
কমলার কাছে পরাজয় চূড়ান্ত হবার আগে-পরে যা যা করবেন ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্রের ৫৯তম প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটিক প্রার্থী কমলা হ্যারিসের কাছে কোনভাবেই হার মেনে নেবেন না রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প। ২০২০ সালের মতো এবারও মার্কিন নির্বাচনের ফল নাকচ করে দিয়ে এর স্বচ্ছতা নিয়ে অভিযোগ তুলতে সব ধরনের প্রাথমিক প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছেন তিনি।
প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম সিএনএনের রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও রিপাবলিকান অ্যাটর্নি বেন গিন্সবার্গ বলেন, ট্রাম্পের হোয়াইট হাউসে ফেরার প্রচেষ্টা নির্বাচনের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন প্রতিষ্ঠানকে প্রশ্নবিদ্ধ এবং ক্ষতিগ্রস্ত করছে। গত বছরের নির্বাচনের মতো ২০২৪ সালেও সাতটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গরাজ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। নির্বাচনী কর্মকর্তারা মনে করেন, বিশেষ করে কয়েকটি অঙ্গরাজ্যের ফলাফল যদি অল্প কয়েকটি ব্যালটের ওপর ঝুলে থাকে, সেক্ষেত্রে নিজেদের ফল পক্ষে বাগিয়ে নিতে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর আরেকটি প্রচেষ্টা করবে রিপাবলিকান পার্টির নেতাকর্মীরা।
ইতোমধ্যে ৭৮ বছর বয়সী ট্রাম্প দাবি করেছেন, নাগরিক নন এমন ভোটারদের ভোটাধিকার প্রয়োগ নির্বাচনী ব্যবস্থায় একটি বড় সমস্যা এবং বিদেশ থেকে পাঠানো বা সামরিক ব্যালট যাচাইবাছাই করা হয় না। তিনি আরও অভিযোগ করতে পারেন, কর্মকর্তারা আগাম ভোটিং ব্যবহার করে জালিয়াতি করেছেন এবং বহু মেইল-ইন ব্যালট অবৈধ বলে অভিহিত করবেন, যদিও তিনি তার সমর্থকদের মেইল-ইন ভোটিং ব্যবহার করতে উৎসাহিত করেছেন।
প্রচারণার সময় সবচেয়ে গুরুত্বর যে অভিযোগ তিনি করে আসছেন তা হচ্ছে, তিনি জনসমক্ষে বলেছেন, ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস শুধুমাত্র জালিয়াতির মাধ্যমে নির্বাচনে জয়লাভ করতে পারবেন।
এর আগে, ট্রাম্পের এমন মানসিকতা এবং অনৈতিক প্রস্তুতির বিষয়ে সতর্ক করে দিয়েছেন সাবেক মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টন। ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের সময় জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন বোল্টন । তিনি ২০১৮ সালের এপ্রিল থেকে ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই পদে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি বলেন, ‘এর জন্য আমাদের প্রস্তুত থাকা উচিত’।
সিএনএনের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে বোল্টন এই সতর্কবাণী উচ্চারণ করেন। তাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল ট্রাম্প ফলাফল মেনে নেবেন কিনা। জবাবে তিনি বলেন, ‘না। আমি তা মনে করি না যে ট্রাম্প কমলার কাছে হেরে গেলে সেই ফল মানবেন। এমন পরিস্থিতি সামাল দিতে আমাদের প্রস্তুত থাকা উচিত।’
এ বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান বোল্টন। তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যেকেরই প্রস্তুত থাকা উচিত। কারণ ট্রাম্প কখনই হারতে চান না। তিনি হেরে গেলেই ভোট কারচুপির অভিযোগ আনবেন।’
এদিকে সাম্প্রতিক সিএনএন জরিপে দেখা গেছে, বেশিরভাগ আমেরিকান ভোটার সন্দেহ প্রকাশ করেছেন যে রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প যদি নির্বাচনে হেরে যান তাহলে তিনি তা মেনে নেবেন না।
জরিপে দেখা যায়, নিবন্ধিত ভোটারদের মাত্র ৩০ শতাংশ বিশ্বাস করেন যে, ট্রাম্প পরাজয় মেনে নেবেন। অন্যদিকে, ৭৩ শতাংশ ভোটারই মত দিয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী কমলা হ্যারিস হারলে পরাজয় স্বীকার করবেন।
Advertisement
আর, হ্যারিস সমর্থকদের মধ্যে ৯৫ শতাংশেরই বিশ্বাস, ট্রাম্প পরাজয় স্বীকার করবেন না। যেখানে ৫৭ শতাংশ ট্রাম্প-সমর্থক বিশ্বাস করেন যে, ফলাফল যাই হোক তিনি তা মেনে নেবেন।



