যুক্তরাষ্ট্র

কোন দেশটি হতে যাচ্ছে ওয়াশিংটনের টার্গেট

টুইন টাওয়ারের হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রের জন্য তার অর্থনীতি ও বৈশ্বিক ক্ষমতা ধরে রাখার ক্ষেত্রে অন্যতম ক্ষেত্র ছিল আফগানিস্তান। এশিয়ার দেশ আফগানিস্তানে বিশ বছরেরও বেশি সময় যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী অবস্থান করে সন্ত্রাসবাদবিরোধী অবস্থানের অংশ হিসেবে। এই সময়ে দেশটিতে বিপুলসংখ্যক মানুষ নিহত হয়। তালেবান গোষ্ঠী যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনীর কাছে হারার বদলে সামাজিকভাবে আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠে। এমন অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনীকে দেখা গেছে আফগানিস্তানের বাহিনীকে প্রশিক্ষিত করতে এবং সম্মুখসমরে নিজেদের পরিকল্পনা থেকে সরে আসতে।

যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসন আফগানিস্তান প্রশ্নে যে নীতিই গ্রহণ করুক না কেন, তালেবানদের লড়াই ক্রমশ সার্বভৌমত্ব রক্ষার লড়াইয়ে পরিণত হতে থাকে। একপর্যায়ে আফগানিস্তান থেকে সেনা প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার পদাঙ্ক অনুসরণ করে দেশটির নতুন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনও আফগানিস্তান থেকে সব সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন। সেই প্রত্যাহার প্রক্রিয়া ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। কিন্তু এখন প্রশ্ন উঠেছে, যুদ্ধ ছাড়া বিশ্বে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতা টিকিয়ে রাখা সহজ না হলে পরবর্তীতে কোন দেশটি হতে যাচ্ছে ওয়াশিংটনের টার্গেট।

যুক্তরাষ্ট্র যে হাত গুটিয়ে বসে থাকবে না, তা স্পষ্ট। দেশটির খোদ প্রেসিডেন্ট থেকে শুরু করে বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী লক্ষ্য সম্পর্কে নানাভাবে আভাস দিচ্ছেন। সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণায় প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন জানিয়ে দিয়েছেন, আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্র তার লক্ষ্য অর্জন করে ফেলেছে। এখন আর আফগানিস্তান যুক্তরাষ্ট্রের অগ্রাধিকারের তালিকায় নেই। তবে যুক্তরাষ্ট্র যে ড্রোন ব্যবহার করতেই থাকবে এমন ইঙ্গিতও কিন্তু পাওয়া গেছে।

আফগানিস্তান থেকে যুক্তরাষ্ট্র চলে আসছে ঠিকই। কিন্তু দেশটিতে রাশিয়া, চীন, ইরানের মতো প্রতিপক্ষগুলো সক্রিয় থেকেই যাচ্ছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্র চাইলেও এই যুদ্ধ থেকে বের হতে পারবে না। কারণ, এখন চীন তার বড় চ্যালেঞ্জ। আর ইতিমধ্যেই চীন ও রাশিয়ার কর্মকর্তারা আফগানিস্তানের কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেছেন নতুন ক্ষমতা বিন্যাসের জন্য। যদি এমনটা হয়, তাহলে আফগানিস্তানে আগামীতে আরও অনেক হামলা ও গোপন যুদ্ধের ঘটনা ঘটবে। কারণ, তখন আফগানিস্তানের মাটিতে প্রচ্ছন্নভাবে থাকবে একাধিক পক্ষ।

তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র তার ইমেজ ও অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে সম্মুখ সমরের চেয়ে বাণিজ্যিক যুদ্ধের দিকে মোড় নিতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যে যুদ্ধ শুরু করে সমালোচিত হয়েছিলেন, সেই যুদ্ধই হয়ত জো বাইডেনকে টেনে নিয়ে যেতে হতে পারে। অবশ্য এমন নজির ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রকে এড়িয়ে একাধিক বাণিজ্য চুক্তি ও গোষ্ঠী তৈরি হচ্ছে। নতুন নতুন কৌশলগত জোট হচ্ছে, যেগুলোর কেন্দ্রে আছে ইরান-চীন-রাশিয়া।

স্বাভাবিকভাবেই যুক্তরাষ্ট্র চাইবে ট্রান্স আটলান্টিক চুক্তির মাধ্যমে নিজেদের ক্ষমতা ধরে রাখতে। কিন্তু ইরান চুক্তির অসারতার কারণে জো বাইডেনের পক্ষে ক্ষমতা ধরে রাখা খুব একটা সহজ হবে না বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

দেশের বাইরে যুক্তরাষ্ট্রের সামনে সবচেয়ে বড় দুই হুমকি চীন ও রাশিয়া। ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমলে এই দুই দেশ তাদের শক্তি ও প্রভাব বলয় বাড়ানোর পর্যাপ্ত সুযোগ পেয়েছে। জো বাইডেনকে এখন চীন ও রাশিয়ার প্রকাশ্য-অপ্রকাশ্য হুমকি মোকাবিলা করতে বেশ বেগ পেতে হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে তার প্রশাসনেরই এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার ভাষ্য হলো, যুক্তরাষ্ট্রকে সবচেয়ে গুরুতর চ্যালেঞ্জের দিকে এখন দৃষ্টি দিতে হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের আশু দুশ্চিন্তার কারণ হিসেবে আরও আছে ইরান ও উত্তর কোরিয়া।❐

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension