
খাদ্যপণ্য কিনতে ওষ্ঠাগত প্রাণ
রাজধানীর মাদারটেকের বাসিন্দা রোকেয়া বেগম। গতকাল মাদারটেক কাঁচাবাজারে নিত্যপণ্য কিনতে এসেছেন। মুদি দোকান থেকে বেছে বেছে এক হালি ডিম নিলেন। ডিমের দাম দিতে গিয়ে অবাক তিনি। কারণ কয়েকদিন আগেও তিনি ৪০ টাকা হালি ডিম নিয়েছেন। অথচ এদিন দোকানদার তার কাছ থেকে নিলো ৫০ টাকা। বাজারে ডিমের দাম বেড়ে প্রতি ডজন বিক্রি হচ্ছে ১৪৫-১৫০ টাকা। আক্ষেপ করে রোকেয়া জানান, সস্তার মধ্যে এই ডিমটাই বেশি খাওয়া হয়। এটার দামও যদি বাড়ে তা হলে মানুষ খাবে কী? ডিমের দাম বৃদ্ধি প্রসঙ্গে বিক্রেতারা জানান, কয়েকদিন বৃষ্টি হওয়ার কারণে ডিমের সরবরাহ কমেছে। বাজারে ডিমের নির্দিষ্ট চাহিদা রয়েছে।
তাই সরবরাহ কমলে দাম বেড়ে যায়। তবে বিক্রেতাদের এই কারণকে দাম বাড়ানোর অজুহাত হিসেবেই দেখছেন ভোক্তারা। একই এলাকার শিরীন আক্তারও এসেছেন সবজি কিনতে। সবজির দাম শুনে চটেছেন তিনি। কারণ এ দিন প্রায় সব ধরনের সবজির দাম আগের থেকে বেশি। ৪০ টাকা দিয়ে আধা কেজি করলা আর ৬০ টাকা দিয়ে আধা কেজি টমেটো কিনেছেন। শিরীন বলেন, বাজারে এমনেই সবজির দাম বেশি। আজকে এসে দেখি আরও বাড়ছে দাম। আমাদের তো এগুলো কিনে খেতে কষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ভাবছিলাম এক কেজি করলা আর এক কেজি টমেটো কিনব। কিন্তু টাকায় হবে না।
তাই অর্ধেক করে কিনছি। মাদারটেক কাঁচাবাজারের সবজি বিক্রেতা মোবারক হোসেন জানান, গত দুইদিনে অনেক সবজির দাম কেজিতে ১০ টাকা করে বেড়েছে। দাম বাড়ার কারণ হিসেবে তিনিও কয়েকদিন বৃষ্টি হওয়াকে দায়ী করলেন। বলেন, কয়েকদিন অনেক বৃষ্টি হইছে। সবজি বাজারে টান ছিল। পর্যাপ্ত সবজি সরবরাহ ছিল না। তাই দাম বাড়ছে।
ফারুক হোসেন নামের আরেক সবজি বিক্রেতা বলেন, বাজারে এই সময় এমনেই সবজির দাম বেশি থাকে। এর মধ্যে আবার বৃষ্টি। চাল ডালের দামও বেশি। মানুষ বাজারে এসে এখন হা-হুতাশ করে। আমাদের বেচাকেনাও আগের মতো হয় না। বাজারে একমাত্র পেপে ছাড়া এখন ৫০ টাকার নিচে কোন সবজি পাওয়া যায় না। পেপে এখন ৩০ টাকা কেজি বিক্রি হয়। বাবুল মিয়া নামের এক ক্রেতা এক কেজি পেঁপে কিনেছেন। তিনি বলেন, পেঁপের দামটাই একটু কম। মাঝেমধ্যে পেপে রান্না করা হয়। কিন্তু বাচ্চারা পেঁপে খেতে চায় না। কিন্তু অন্য সবজির যেই দমা আমার বাধ্য হয়ে নেয়া লাগে। কষ্ট করে খেতে হয়। নইলে ব্যালেন্স করে চলা যায় না।
বাজারে এখন প্রতিকেজি শিম বিক্রি হচ্ছে ১৪০ টাকা, করলা ৮০ টাকা, টমেটো ১২০ টাকা, গাজর ১২০ টাকা, ঢেঁড়শ ৬০ টাকা, ধুন্দল ৬০ টাকা ও মুলা বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা কেজি। শুক্রবার জুমার নামাজের পর রাজধানীর বাসাবো কাঁচা বাজারে সবজি কিনতে এসেছেন জাহানারা বেগম। অল্প অল্প করে কয়েক ধরনের সবজি নিলেন। তিনি নিয়মিত দুপুর ২টার পর বাজার করতে আসেন।
কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, সকালে ভিড় থাকে। দামাদামি করে সবজি কেনা যায় না। দুপুরে বাজার নিরিবিলি থাকে। দামদর করে নেয়া যায়। কিছু টাকা কম লাগে কিনতে। তার মতো অনেকেই কিছু টাকা কমে কেনার আসায় দুপুরে কিংবা বিকালে বাজার করতে আসেন।
রায়হান নামের এক সবজি বিক্রেতা বলেন, সকাল টাটকা সবজি বিক্রি হয়ে যায়। তখন দামও একটু বেশি থাকে। দুপুরের পর কিছু সবজি থাকে তাই বেছে বেছে নেয় অনেকে। আমরাও সবজির মান বুঝে ২-৫ টাকা কমে বিক্রি করি।
মাছের বাজার ঘুরে ঘুরে বিভিন্ন মাছ পরখ করে দেখছেন রমিজ উদ্দিন। পেশায় সিএনজি চালক। প্রতি শুক্রবার তিনি বাজার করতে আসেন। অন্যদিন তার স্ত্রী বাজার করেন। রমিজ উদ্দিন বাজারে এলে চেষ্টা করেন বেশি করে সদাই করার। এদিন বাজার থেকে দুই কেজি রুই মাছ কিনলেন ৬৪০ টাকা দিয়ে।
রমিজ উদ্দিন বলেন, বড় সাইজের ইলিশ মাছ পছন্দ হয়েছিল। কিন্তু দাম ১২০০ টাকা কেজি। এত দাম দিয়ে এক কেজি মাছ কিনে বেশি দিন খাওয়া যাবে না। তাই দুই কেজি রুই মাছ কিনলাম। এটাই অল্প অল্প করে রান্না করলে অনেক দিন চলবে।
মাছ বাজার ঘুরে দেখা গেছে, এখন প্রতিকেজি বড় আকারের ইলিশ ১২০০ টাকার উপরে বিক্রি হচ্ছে। মাঝারি আকারের ইলিশ ৭০০ থেকে ৮০০ টাকায় ও ছোট আকারের ইলিশ ৫৫০ থেকে ৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া প্রতিকেজি রুই মাছ ৩০০ থেকে ৩৪০ টাকা, তেলাপিয়া ১৬০ থেকে ১৭০ টাকা, শিং মাছ ৩৪০ থেকে ৩৬০ টাকা ও কই মাছ ২০০ থেকে ২৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।



