প্রধান খবরবাংলাদেশ

গণভোটের এক প্রশ্নে চার বিষয়

চার বিষয়ের ওপর আগামী সংসদ নির্বাচনের দিন হবে গণভোট। তবে প্রশ্ন থাকবে একটি। এই প্রশ্নে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোটে মতামত জানাবেন ভোটাররা। হ্যাঁ জয়ী হলে আগামী সংসদের সদস্য নিয়ে গঠিতব্য সংবিধান সংস্কার পরিষদ ১৮০ দিনের মধ্যে জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ-২০২৫ অনুযায়ী সাংবিধান সংশোধন করবে।

গতকাল বৃহস্পতিবার উপদেষ্টা পরিষদে অনুমোদনের পর রাষ্ট্রপতি জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ জারি করেন। এতে বলা হয়েছে, গণভোটে প্রশ্ন করা হবে– ‘আপনি কি জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ-২০২৫ এবং সনদে লিপিবদ্ধ সংবিধান সংস্কার সম্পর্কিত প্রস্তাবে সম্মতি দিচ্ছেন?’
জুলাই সনদে সংবিধান সংশোধন করতে হবে– এমন ৪৮টি সংস্কার প্রস্তাব রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী পদের মেয়াদ ১০ বছরে সীমাবদ্ধ করা, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বাড়ানো, বিচার বিভাগের স্বাধীনতাসহ ৩০ সংস্কার প্রস্তাবে বিএনপি, জামায়াত, এনসিপিসহ অধিকাংশ দলের ঐকমত্য হয়েছে। পিআর পদ্ধতিতে উচ্চকক্ষ গঠন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের গঠন পদ্ধতি, প্রধানমন্ত্রীর পরিবর্তে কমিটির মাধ্যমে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের নিয়োগসহ আটটি সংস্কার প্রস্তাবে বিএনপির নোট অব ডিসেন্ট (ভিন্নমত) রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর একাধিক পদে না থাকাসহ বাকি ১০টি প্রস্তাবে বিএনপিসহ বিভিন্ন দলের নোট অব ডিসেন্ট আছে।

বিএনপির দাবি ছিল, সনদে থাকা নোট অব ডিসেন্ট অনুযায়ী গণভোট হবে। যে দলের যে সংস্কারে নোট অব ডিসেন্ট রয়েছে, নির্বাচনে জয়ী হলে সেই অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার করতে পারবে। তবে জামায়াত, ইসলামী আন্দোলন, এনসিপিসহ কিছু দল এর ঘোর বিরোধী।

গতকাল জারি করা আদেশ অনুযায়ী, গণভোটে নোট অব ডিসেন্ট আংশিকভাবে থাকছে। তবে উচ্চকক্ষে পিআর, তত্ত্বাবধায়ক সরকার এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের নিয়োগে নোট অব ডিসেন্ট প্রযোজ্য হবে না। এই সংক্রান্ত আটটি সংস্কার প্রস্তাবের বিষয়ে আদেশে বলা হয়েছে, ক. নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার, নির্বাচন কমিশন এবং অন্যান্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান জুলাই সনদে বর্ণিত প্রক্রিয়ার আলোকে গঠন করা হবে; খ. আগামী সংসদ হবে দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট। সংসদ নির্বাচনে দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে ১০০ সদেস্যের উচ্চকক্ষ গঠিত হবে। সংবিধান সংশোধনে উচ্চকক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের অনুমোদন দরকার হবে। সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি), ন্যায়পাল, মহাহিসাব নিরীক্ষক এবং নিয়ন্ত্রক (সিএজি)। সংবিধিবিদ্ধ প্রতিষ্ঠান দুর্নীতি দমন কমিশনকে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে সনদে। এই প্রস্তাবেও বিএনপির নোট অব ডিসেন্ট রয়েছে। তবে সর্বদলীয় কমিটির মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন গঠনে সব দল একমত হয় সংলাপে।

সরকার এবং বিলুপ্ত ঐকমত্য কমিশনের সূত্র জানিয়েছে, দুদক সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান না হওয়ায় গণভোটে তা থাকছে না। ফলে আগামী সংসদ নির্বাচনে বিএনপি জয়ী হলে দুদককে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর না করার এখতিয়ার রাখবে। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলে পিএসসি, ন্যায়পাল, সিএজির নিয়োগের ক্ষেত্রে সনদ মানতে হবে।

আদেশের গ-তে বলা হয়েছে, সংসদে নারী প্রতিনিধি বাড়ানো, বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার ও সংসদীয় কমিটির সভাপতি নির্বাচন, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সীমিতকরণ, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বাড়ানোসহ যে ৩০ সংস্কার প্রস্তাবে ঐকমত্য হয়েছে, সেগুলোও কার্যকরে বাধ্য থাকবে আগামী নির্বাচনে জয়ী দলগুলো।

সনদে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী দলীয় প্রধান পদে থাকতে পারবেন না। প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ ছাড়াই রাষ্ট্রপতি চারটি প্রতিষ্ঠান ছাড়াও বাংলাদেশ ব্যাংকে গভর্নর এবং এনার্জি রেগুলারিটি কমিশনে নিয়োগ দিতে পারবেন। বিদেশের সঙ্গে চুক্তি করতে সংসদের অনুমোদন প্রয়োজন হবে। উচ্চ আদালতে বিচারক নিয়োগ হবে কমিশনের মাধ্যমে। আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠতম বিচারক হবেন প্রধান বিচারপতি। এমন আটটি সংস্কার প্রস্তাবে বিএনপির নোট অব ডিসেন্ট রয়েছে। সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের এখতিয়ার বাড়াতে নোট অব ডিসেন্ট রয়েছে জামায়াতের। রাষ্ট্রপতির নির্বাচন পদ্ধতিতে ইসলামী আন্দোলনের নোট অব ডিসেন্ট রয়েছে।

আদেশের ঘ অনুযায়ী, এসব সংস্কার রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিশ্রুতি অনুসারে বাস্তবায়ন করা হবে।

গণভোট ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলে সংবিধান সংস্কার পরিষদে সংবিধান সংস্কার সম্পন্নের ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে উচ্চকক্ষ গঠন করা হবে। সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে উচ্চকক্ষে আসন বণ্টন করা হবে। যে দল নির্বাচনে যত শতাংশ ভোট পাবে, উচ্চকক্ষে তত শতাংশ আসন পাবে।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension