নিউ ইয়র্কযুক্তরাষ্ট্র

গভর্নর নির্বাচনের আগে হোকুল–ব্লেকম্যানের মুখোমুখি লড়াই

আজ একমাত্র টেলিভিশন বিতর্ক • কর, বিদ্যুৎ বিল ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে দুই প্রার্থীর পাল্টাপাল্টি অবস্থান • ৩ নভেম্বর ভোট

শাহ্ জে. চৌধুরী :
নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের গভর্নর নির্বাচন সামনে রেখে আজ মঙ্গলবার একমাত্র নির্ধারিত টেলিভিশন বিতর্কে মুখোমুখি হচ্ছেন ডেমোক্র্যাট গভর্নর ক্যাথি হোকুল এবং তাঁর রিপাবলিকান প্রতিদ্বন্দ্বী ব্রুস ব্লেকম্যান। নির্বাচনের মাত্র তিন সপ্তাহ আগে অনুষ্ঠিত এই বিতর্কে অঙ্গরাজ্যের অর্থনীতি, জীবনযাত্রার ব্যয়, করনীতি, বিদ্যুৎ বিল এবং জাতীয় রাজনীতির প্রভাব গুরুত্ব পেতে পারে।

স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টায় শুরু হওয়ার কথা এক ঘণ্টার এই বিতর্ক। NY1 ও স্পেকট্রাম নিউজের বিভিন্ন চ্যানেলে এটি সম্প্রচারের কথা রয়েছে। বিতর্ক পরিচালনা করবেন রাজনৈতিক সংবাদ উপস্থাপক এরল লুইস ও সুসান আরবার্টার।

আগামী ৩ নভেম্বরের নির্বাচনে পুনর্নির্বাচিত হওয়ার লক্ষ্যে প্রচার চালাচ্ছেন বর্তমান গভর্নর হোকুল। অন্যদিকে, নাসাউ কাউন্টির নির্বাহী ব্লেকম্যান অঙ্গরাজ্যের নেতৃত্ব পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়ে ভোটারদের সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করছেন। একই মঞ্চে দুই প্রার্থীর বক্তব্য শোনার এই সুযোগকে নিজেদের নির্বাচনী বার্তা তুলে ধরার গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে দেখছেন তাঁরা।

জরিপে এগিয়ে হোকুল, তবে ভোটের হিসাব এখনো বাকি

মারিস্ট ইউনিভার্সিটির ৭ অক্টোবর প্রকাশিত জরিপ অনুযায়ী, নিবন্ধিত ভোটারদের মধ্যে হোকুলের সমর্থন ৫৩ শতাংশ এবং ব্লেকম্যানের ৪২ শতাংশ। অর্থাৎ ব্যবধান ১১ শতাংশ পয়েন্ট। জরিপে ৫ শতাংশ ভোটার তখনো সিদ্ধান্ত নেননি। ১ থেকে ৪ অক্টোবর পরিচালিত এই জরিপে অংশ নেন ১,৩৬১ জন নিবন্ধিত ভোটার; ত্রুটিসীমা ছিল ±৩.৬ শতাংশ পয়েন্ট।

জরিপে নিউইয়র্ক সিটিতে হোকুলের সমর্থন ৬৯ শতাংশ। অন্যদিকে, অঙ্গরাজ্যের আপস্টেট অঞ্চলে ব্লেকম্যান ৫১ শতাংশ সমর্থন নিয়ে এগিয়ে রয়েছেন। শহর, শহরতলি ও আপস্টেট অঞ্চলের ভোটারদের মধ্যে এই পার্থক্য নির্বাচনী প্রচারে ভৌগোলিক বিভাজনের গুরুত্ব তুলে ধরছে।

তবে জরিপের ফলাফলই নির্বাচনের চূড়ান্ত ফল নির্ধারণ করে না। ভোটারদের উপস্থিতি, প্রচারের শেষ পর্যায়ের বার্তা এবং দলীয় সমর্থকদের ভোটকেন্দ্রে নিয়ে আসার সক্ষমতাও নির্বাচনে ভূমিকা রাখতে পারে।

জীবনযাত্রার ব্যয় ও করনীতি প্রধান ইস্যু

নিউইয়র্কে বাড়িভাড়া, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, বিদ্যুৎ এবং অন্যান্য দৈনন্দিন ব্যয়ের চাপ ভোটারদের অন্যতম উদ্বেগ। দুই প্রার্থীই নিজেদের সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক স্বস্তির পক্ষে অবস্থান নেওয়া নেতা হিসেবে তুলে ধরছেন। তবে ব্যয় কমানোর উপায় নিয়ে তাঁদের বক্তব্যে পার্থক্য রয়েছে।

ব্লেকম্যান তাঁর নির্বাচনী প্রচারে আয়কর ও ইউটিলিটি বিল উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তাঁর প্রচারশিবিরের বক্তব্য, নিউইয়র্কবাসীর ওপর ব্যয়ের চাপ কমাতে অঙ্গরাজ্যের অর্থনৈতিক নীতিতে পরিবর্তন আনা প্রয়োজন।

অন্যদিকে, হোকুল তাঁর প্রশাসনের শিশু পরিচর্যা ভর্তুকি সম্প্রসারণ এবং জ্বালানি ব্যয়ের চাপ কমাতে বাসিন্দাদের রিবেট চেক দেওয়ার উদ্যোগ তুলে ধরছেন। ব্লেকম্যানের প্রতিশ্রুত কর ও বিদ্যুৎ বিল কমানোর পরিকল্পনার বিপরীতে হোকুল তাঁর প্রশাসনের নেওয়া সহায়তামূলক পদক্ষেপগুলোকে সামনে আনতে পারেন।

দুই প্রার্থীর কাছে ভোটারদের প্রত্যাশা হলো, তাঁরা কীভাবে এসব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করবেন এবং অঙ্গরাজ্যের আর্থিক পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সাধারণ পরিবারের ব্যয় কমাবেন, তার স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেবেন।

ট্রাম্পের ভূমিকা ও জাতীয় রাজনীতির প্রভাব

গভর্নর নির্বাচনের প্রচারে জাতীয় রাজনীতিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ব্লেকম্যানের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ককে সামনে আনছে হোকুলের প্রচারশিবির। অন্যদিকে, ব্লেকম্যান হোকুলের সঙ্গে নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি ও কংগ্রেস সদস্য আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্টেজের রাজনৈতিক সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন।

সম্প্রতি ওকাসিও-কর্টেজের সঙ্গে উপস্থিত হয়ে হোকুল নতুন ডেটা সেন্টার নির্মাণে এক বছরের স্থগিতাদেশের বিষয়টি তুলে ধরেন। অন্যদিকে, ব্লেকম্যান ট্রাম্পের সঙ্গে একটি সমাবেশে অংশ নিয়ে রিপাবলিকান সমর্থকদের সক্রিয় করার চেষ্টা করেন।

হোকুলের প্রচারে ট্রাম্পের সঙ্গে ব্লেকম্যানের সম্পর্ক এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ট্রাম্পের শুল্কনীতি নিয়ে তাঁর অবস্থান সমালোচনার বিষয় হয়েছে। ব্লেকম্যানের প্রচারশিবির আবার হোকুলের সঙ্গে প্রগতিশীল রাজনীতিকদের সম্পর্ককে সামনে এনে ভোটারদের সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করছে।

মারিস্টের জরিপে নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে ট্রাম্পের কাজের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন ৩৮ শতাংশ নিবন্ধিত ভোটার; ৬০ শতাংশ অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। এই পরিস্থিতিতে জাতীয় রাজনীতির সঙ্গে প্রার্থীদের সম্পর্ক নির্বাচনী বিতর্কে কতটা প্রভাব ফেলে, তা আলোচনার বিষয় হতে পারে।

নির্বাচনের আগে শেষ পর্যায়ের প্রচার

২০২২ সালের গভর্নর নির্বাচনে হোকুল রিপাবলিকান প্রার্থী লি জেলডিনকে ৫.৫ শতাংশ পয়েন্টের ব্যবধানে পরাজিত করেছিলেন। এবারও তিনি পুনর্নির্বাচনের লক্ষ্যে প্রচার চালাচ্ছেন। ব্লেকম্যানের জন্য এই বিতর্ক অঙ্গরাজ্যজুড়ে নিজের নীতি ও নেতৃত্বের পরিকল্পনা তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ।

সাম্প্রতিক জরিপে দুই প্রার্থীর সমর্থনের ব্যবধান থাকলেও নির্বাচনের ফলাফল এখনো নির্ধারিত নয়। সিদ্ধান্তহীন ভোটারদের মনোভাব, নির্বাচনী প্রচারের শেষ পর্যায় এবং ভোটার উপস্থিতি চূড়ান্ত ফলাফলে ভূমিকা রাখতে পারে।

অঙ্গরাজ্যজুড়ে ২৪ অক্টোবর থেকে ১০ দিনব্যাপী আগাম ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার কথা। তার আগে আজকের বিতর্কে দুই প্রার্থী অর্থনীতি, কর, জ্বালানি ব্যয় এবং রাজনৈতিক নেতৃত্ব নিয়ে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরার সুযোগ পাচ্ছেন।

নিউইয়র্কের ভোটাররা শেষ পর্যন্ত কোন নীতি ও প্রতিশ্রুতিকে অগ্রাধিকার দেবেন, তার উত্তর মিলবে নির্বাচনের ফলাফলে। তবে তার আগে আজকের বিতর্কে দুই প্রার্থীর বক্তব্য, পাল্টা যুক্তি এবং নির্দিষ্ট পরিকল্পনাগুলো নির্বাচনী আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension