
গুজরাটের সেতু দুর্ঘটনার কারণ জানালেন এনডিআরএফ প্রধান
ভারতের গুজরাটে ব্রিটিশ আমলের একটি ঝুলন্ত সেতু ভেঙে পড়ার ঘটনায় এত হতাহতের হওয়ার পেছনের কিছু কারণে সম্পর্কে আলোকপাত করেছেন দেশটির দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনীর প্রধান।
ন্যাশনাল ডিজাস্টার রেসপন্স ফোর্সের (এনডিআরএফ) কমান্ড্যান্ট ভিভিএন প্রসন্ন কুমার মঙ্গলবার (১ নভেম্বর) এনডিটিভিকে জানিয়েছেন, শতাব্দী প্রাচীন ওই সেতুটির উভয় প্রান্তের জল অগভীর, যা মাত্র ১০ ফুট গভীর হওয়ায় সেতু ভেঙে লোকজন প্রচণ্ড জোরে নদীতে পড়ে পাথরের তলদেশে ধাক্কা খায়, এতেই তাদের মৃত্যু হয়।
নদীর মাঝামাঝি অবস্থায় পানিতে তেমন কোনো স্রোত নেই, সে জায়গাটা প্রায় ২০ ফুট গভীর। যে কারণে নৌবাহিনীর ডুবুরিরা লাশের সন্ধান অনায়াসে নদীর তলদেশে পৌঁছে যেতে পেরেছে বলে জানান কুমার।
কিন্তু সেখানের পানি ঘোলা এবং দৃশ্যমানতাও কম। এনডিআরএফ কমান্ড্যান্ট বলেন,
‘আমরা মৃতদেহ শনাক্ত করার জন্য একটি ক্যামেরা ও সোনার যন্ত্র লাগানো একটি অত্যাধুনিক রিমোট ডুবোযান ব্যবহার করছি।’
কুমার আরও বলেন,অধিকাংশ মৃতদেহ ভাঙ্গা সেতুর নিচে পাওয়া গেছে। নদীতে কোনো স্রোত না থাকায় মৃতদেহগুলো ভেসে যায়নি।
তিনি জানান, বেসামরিক প্রশাসনের দেওয়া নিখোঁজদের তালিকার ভিত্তিতে এক বা দুটি লাশ নিখোঁজ থাকতে পারে।
গত রবিবার সন্ধ্যায় মোরবির মাচ্চু নদীর উপর প্রায় দেড়শ বছরের পুরাতন ওই ঝুলন্ত সেতুটি ধসে পড়ে। এতে নিহত হন ১৩৫ জন।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মঙ্গলবার ভেঙে পড়া সেতুস্থলে যান। এরপর মোরবি শহরের হাসপাতালে দুর্ঘটনায় আহতদের সঙ্গেও দেখা করেন তিনি। তার সফরকে সামনে রেখে হাসপাতালটি রাতারাতি সংস্কার করা হয় বলে জানা গেছে।
মাচ্ছু নদীর ওপরের ব্রিটিশ আমলের ওই ঝুলন্ত সেতু সংস্কারের জন্য সাত মাস বন্ধ ছিল। গুজরাটি নববর্ষ উপলক্ষে ২৬ অক্টোবর এটি খুলে দেওয়া হয়। অতিরিক্ত মানুষের ভারের কারণে সেতুটি ভেঙে পড়ে। রাজ্যের রাজধানী আহমেদাবাদ থেকে ৩০০ কিলোমিটার দূরের ওই সেতুটি ধসে পড়ার সময় তাতে অন্তত ৫০০ মানুষ উঠেছিলেন।



