
বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীদের চাবুকপেটা করলেন তালেবান কর্মকর্তা
আফগানিস্তান থেকে ধারণকৃত একটি ভিডিও ফুটেজে একজন তালেবান কর্মকর্তা কর্তৃক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদের মারধরের দৃশ্য উঠে এসেছে। বোরকা না পরে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ করতে চাওয়ায় তাদের মারধর করা হয় বলে জানিয়েছে এনডিটিভি।
ইনডিপেনডেন্টের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই ভিডিও ফুটেজে কর্মকর্তাকে ছাত্রীদের ওপর চাবুক ব্যবহার করতে দেখা যায়। তিনি তালেবান সরকারের ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বলে জানা গেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই ন্যক্কারজনক ঘটনাটি রবিবার (৩০ অক্টোবর) উত্তর-পূর্ব আফগানিস্তানের বাদাখশান বিশ্ববিদ্যালয়ের গেটের বাইরে ঘটেছে।
ভিডিওচিত্রে দেখা যাচ্ছে, শিক্ষার অধিকার এবং বোরকা না পরে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশের দাবি জানিয়ে কয়েক ডজন শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফটকে ধাক্কা মারার মুহূর্তে একজন তালেবান সরকারি কর্মকর্তা শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করতে চাবুক দিয়ে আঘাত শুরু করেন।
আফগানিস্তানের ধর্ম মন্ত্রণালয় জনসমক্ষে মহিলাদের জন্য একটি ‘উপযুক্ত’ পোশাক নির্ধারণ করেছে। এ ক্ষেত্রে বাইরে চলাচলের ক্ষেত্রে নারীদের একটি নিকাব (একটি পর্দা যা মাথা ও মুখ ঢেকে রাখে, তবে চোখ নয়) বা বোরকা পরতে হবে। কিন্তু দেশটির নারীরা এ আদেশের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে আসছেন।
খাম্মা প্রেস জানিয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতি নকিবুল্লাহ কাজিজাদা বলেছেন, ‘ছাত্রদের প্রতি সহিংসতা ও বেআইনি আচরণের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
হিউম্যান রাইটস ওয়াচের মতে, নারীস্বাধীনতার বিপরীতে তালেবানের প্রতিক্রিয়া শুরু থেকেই নৃশংস ছিল। বিক্ষোভকারীদের মারধর করা, বিক্ষোভ ব্যাহত করা এবং বিক্ষোভ কভার করা সাংবাদিকদের আটক ও নির্যাতন করা তাদের নিত্যনৈমিত্তিক বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। তালেবান সরকার দেশটিতে অননুমোদিত বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করেছে।
উল্লেখ্য, গত বছরের আগস্টে আফগান সরকারের পতন এবং তালেবানের ক্ষমতায় ফিরে আসার পর থেকে আফগানিস্তানে মানবাধিকার পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে।
তালেবান নারীদের চলাফেরা, বাক, মত প্রকাশ, কাজের সুযোগ এবং পোশাকের স্বাধীনতার ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। তারা ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে মেয়েদের স্কুলে যেতেও বাধা দিচ্ছে।
গত সপ্তাহে একটি প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে স্থানীয় গণমাধ্যম বলেছে, গ্যালাপের আইন ও শৃঙ্খলা সূচকে আফগানিস্তান বিশ্বের ‘সর্বনিম্ন নিরাপদ’ দেশ হিসেবে পরিগণিত হয়েছে।
সমীক্ষায় দেশের নাগরিকদের নিরাপত্তা ও নিরাপত্তার ভিত্তিতে প্রায় ১২০টি দেশের মূল্যায়ন করা হয়েছে।



