
গোধরা কাণ্ডে নিষ্ক্রিয় ছিলেন মোদী! পাঠ্যবইয়ের তথ্যে তোলপাড়
রূপসী বাংলা কলকাতা ডেস্ক: ২০০২ সালের গুজরাত দাঙ্গার সময়ে নিষ্ক্রিয় ভূমিকা পালন করেছিলেন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী৷ এমনই বিস্ফোরক তথ্য ছাপা হল রাষ্ট্রবিজ্ঞানের দ্বাদশ শ্রেণীর বইতে৷ বইটির লেখকের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছে পুলিশ৷
দ্বাদশ শ্রেণীর রাষ্ট্রবিজ্ঞানের সহায়ক বইতে এমনই তথ্য দেওয়া হয়েছে৷ গুজরাত দাঙ্গা সম্পর্কে বলতে গিয়ে লেখক সেখানে নরেন্দ্র মোদীর ভূমিকার সমালোচনা করেছেন৷ এই তথ্য ছড়িয়ে পড়তেই চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়৷ অসমের গোলাঘাট সদর থানায় এফআইআর দায়ের করা হয়েছে বইটির তিন লেখকের বিরুদ্ধে৷
অসমিয়া ভাষায় লেখা ৩৭৬ পাতার বইটিতে উল্লেখ করা হয়েছে গুজরাত দাঙ্গার কথা৷ সেখানেই বলা হয়েছে গুজরাত দাঙ্গার সময়ে কোনও পদক্ষেপ নেননি নরেন্দ্র মোদী৷ ৫৭ জনের মৃত্যুর পরেও মুখ্যমন্ত্রীর তরফ থেকে প্রশাসনিক পদক্ষেপ হিসেবে নাকি কিছু দেখা যায়নি৷ এই তথ্য প্রকাশের পরেই তিন লেখক দুর্গাকান্ত শর্মা, রফিক জামান ও মানস প্রতীম বড়ুয়ার বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে৷
২০১১ সাল থেকে এই বইটি প্রকাশিত হয়ে আসছে৷ ইতিমধ্যে তিন লেখকের একজন দুর্গাকান্ত শর্মার প্রয়াণ হয়েছে৷ এরআগে, গুজরাতে ২০০২ সালের ভয়াবহ দাঙ্গার দায় থেকে মুক্তি দেওয়া হয় নরেন্দ্র মোদীকে। গুজরাত দাঙ্গায় কংগ্রেসের তৎকালীন সাংসদ প্রয়াত এহসান জাফরির স্ত্রী জাকিয়া জাফরি গুজরাটের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সহ ৫৯ জনের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে মামলা দায়ের করেন৷
সেই মামলায় নরেন্দ্র মোদীকে বেকসুর খালাস বলে রায় দেয় হাইকোর্ট৷ এই নিয়ে নতুন করে ফৌজদারি মামলা শুরু করা হবে না বলেও আদালত জানিয়ে দেয়৷ হাইকোর্ট রায়ে জানায়, গুজরাত দাঙ্গা তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রীর ষড়যন্ত্র নয়৷ গুজরাতের সাম্প্রদায়িক হিংসা ঠেকাতে সম্ভাব্য সব চেষ্টাই করেছিলেন নরেন্দ্র মোদী৷ তাই নরেন্দ্র মোদী ও অন্যান্য অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে নতুন করে কোনও ফৌজদারি মামলা শুরু করা হবে না বলে জানিয়ে দেয় হাইকোর্ট৷
উল্লেখ্য, ২০০২ সালের হিংসায় গুজরাতের যে সব এলাকা সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, তার মধ্যে আমেদাবাদ অন্যতম। সে শহরে সংখ্যালঘু প্রধান আবাসন গুলবর্গ স্যোসাইটিতে ভয়ঙ্কর হামলা হয়েছিল। অন্তত ৬৯ জনের মৃত্যু হয়েছিল বলে অভিযোগ। গুলবর্গ সোসাইটিতে হওয়া সেই হামলাতেই মৃত্যু হয় প্রাক্তন কংগ্রেস সাংসদ এহসান জাফরির। তিনি বার বার পুলিশকর্তাদের ফোন করে সাহায্য চাওয়া সত্ত্বেও কোনো সাহায্য মেলেনি বলে অভিযোগ ওঠে।



