
গ্রিন কার্ডধারী স্ত্রীর স্বামীকে ডিপোর্ট!
আদালতের আদেশ ছাড়াই দেশ থেকে ফেরত পাঠানোর অভিযোগ, DHS-এর বিরুদ্ধে আদালতে পরিবার
শাহ্ জে. চৌধুরী :
যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন enforcement নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে মেক্সিকান নাগরিক Ernesto Zuniga Hilario-কে দেশ থেকে ডিপোর্ট করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে। তাঁর আইনজীবীদের অভিযোগ, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ও কার্যকর রিমুভাল অর্ডার ছাড়াই তাঁকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে মেক্সিকোতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার পর তাঁর আইনজীবীরা ফেডারেল আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন। তাঁরা আদালতের কাছে জানতে চেয়েছেন, কোন আইনি কর্তৃত্বের ভিত্তিতে Zuniga Hilario-কে আটক ও দেশ থেকে সরিয়ে নেওয়া হয় এবং তাঁকে ডিপোর্ট করার ক্ষেত্রে যথাযথ due process অনুসরণ করা হয়েছিল কি না।
Zuniga Hilario-এর স্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রের lawful permanent resident (green card holder)। স্বামীকে মেক্সিকোতে পাঠিয়ে দেওয়ার ফলে পরিবারটি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। তবে আইনগতভাবে শুধু কোনো গ্রিন কার্ডধারীকে বিয়ে করলেই তাঁর স্বামী বা স্ত্রী স্বয়ংক্রিয়ভাবে যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ অভিবাসন মর্যাদা পান না।
এই মামলার মূল প্রশ্ন তাই বৈবাহিক সম্পর্কের চেয়েও বড়—Zuniga Hilario-কে ডিপোর্ট করার সময় সরকার যথাযথ আইন ও বিচারিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করেছিল কি না।
আদালতের আদেশ ছিল কি?
তাঁর আইনজীবীদের দাবি, Zuniga Hilario-এর বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো রিমুভাল অর্ডার ছিল না। তাঁদের অভিযোগ, তাঁকে দেশ থেকে সরিয়ে দেওয়ার আগে তাঁর আইনি অধিকার ও আদালতে প্রতিকার চাওয়ার সুযোগ যথাযথভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।
তবে এসব এখনো তাঁর আইনজীবীদের অভিযোগ। আদালত এখনো এসব অভিযোগকে চূড়ান্তভাবে সত্য বলে ঘোষণা করেনি। একইভাবে, সরকারের পক্ষ থেকে তাঁর ডিপোর্টেশনের পূর্ণ আইনি ভিত্তি ও সংশ্লিষ্ট নথির সব তথ্যও প্রকাশ্যে স্পষ্ট নয়।
হেবিয়াস করপাস আবেদন
Zuniga Hilario-এর আইনজীবীরা ফেডারেল আদালতে habeas corpus আবেদন করেছেন। এর মাধ্যমে তাঁরা তাঁর আটক ও ডিপোর্টেশনের আইনি বৈধতা আদালতের মাধ্যমে পর্যালোচনার অনুরোধ জানিয়েছেন।
মামলাটির মাধ্যমে আদালতের সামনে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি প্রশ্ন উঠেছে—কোন কর্তৃত্বের অধীনে তাঁকে ডিপোর্ট করা হয়েছিল, তাঁর বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো রিমুভাল অর্ডার ছিল কি না এবং তাঁকে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল কি না।
নিউইয়র্কের অভিবাসী কমিউনিটির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ
যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত অভিবাসী পরিবারগুলোর জন্য ঘটনাটি গুরুত্বপূর্ণ একটি বার্তা বহন করছে। দীর্ঘদিন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস, পরিবারের সদস্যের গ্রিন কার্ড থাকা কিংবা যুক্তরাষ্ট্রে শক্তিশালী পারিবারিক বন্ধন—এসব পরিস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ হলেও প্রত্যেক ব্যক্তির অভিবাসন স্ট্যাটাস ও আইনি অবস্থান আলাদাভাবে বিবেচিত হয়।
বিশেষ করে ICE enforcement এবং ডিপোর্টেশন নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে উদ্বেগের মধ্যে থাকা নিউইয়র্কের বাংলাদেশি-আমেরিকান কমিউনিটির অনেক পরিবারের কাছেই মামলাটি আগ্রহের বিষয় হয়ে উঠতে পারে।
এখন নজর ফেডারেল আদালতের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। আদালতের সিদ্ধান্তই স্পষ্ট করবে—Zuniga Hilario-কে ডিপোর্ট করার ক্ষেত্রে সরকার আইন ও যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করেছিল কি না এবং তাঁর জন্য কোনো আইনি প্রতিকার পাওয়ার সুযোগ রয়েছে কি না।



