
ছয় মামলায় ধরাশায়ী হবেন ট্রাম্প
ডোনাল্ড ট্রাম্পের নামে অনেকগুলো দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলা রয়েছে। এগুলোর মধ্যে অন্তত ছয়টি মামলায় ধরাশায়ী হতে হবে সাবেক হতে যাওয়া এ প্রেসিডেন্টকে। বর্তমানে রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলা থেকে দায়মুক্তির সুবিধা ভোগ করছেন ট্রাম্প।
কিন্তু ২০ জানুয়ারি হোয়াইট হাউস ছাড়ার পর এ সুযোগ আর থাকবে না। ফেডারেল ও নিউইয়র্ক রাজ্যের সাবেক প্রসিকিউটর ড্যানিয়েল অ্যালোনসো বলেন, ট্রাম্প হোয়াইট হাউস ছাড়লেই বদলে যাবে পরিস্থিতি।
যৌন সম্পর্ক ও মুখবন্ধের জন্য অর্থের মামলা
ট্রাম্পের বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলোর অন্যতম আলোচিত প্লেবয় মডেল কারেন ম্যাকডোগাল ও প্রাপ্তবয়স্কদের সিনেমার অভিনেত্রী স্টর্মি ড্যানিয়েলের সঙ্গে যৌন সম্পর্কের মামলা। এ সম্পর্কের বিষয়ে তারা যেন মুখ না খোলেন সে জন্য তাদেরকে অর্থ দিয়ে মুখবন্ধ রেখেছেন ট্রাম্প।
২০১৮ সালে বিষয়টি নিয়ে তারা কথা বলার পর প্রেসিডেন্টের দায়মুক্তির আওতায় বন্ধ থাকে তদন্ত। ট্রাম্পের সাবেক ব্যক্তিগত আইনজীবী মাইকেল কোহেন দাবি করেছিলেন, তার নির্দেশনা মতো কারেন ও স্টর্মিকে অর্থ দেয়া হয়।
ট্যাক্স ও ব্যাংক জালিয়াতি তদন্ত
ট্যাক্স ফাঁকি ও ব্যাংক জালিয়াতির অভিযোগে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে।
ট্রাম্প অর্গানাইজেশনের আইনজীবী জানিয়েছেন, ম্যানহাটনের অ্যাটর্নি সাইরাস ভ্যান্সি তদন্ত করে দেখছেন ট্রাম্প অর্গানাইজেশন কর ছাড় পেতে বাণিজ্যিক কাগজপত্রে জালিয়াতি করেছে কিনা। এ জন্য তিনি কোম্পনিটির ৮ বছরের ট্যাক্স রিটার্ন ও কর সংক্রান্ত কাগজপত্র তলব করেছেন।
সাবফোয়েনা হিসেবে পরিচিত এই কাগজপত্র তলব বন্ধ করে দেয়ার চেষ্টা করেছেন ট্রাম্প। তার দাবি এটি রাজনৈতিক হয়রানির উদ্দেশ্যে করা।
রিয়েল এস্টেট প্রতারণা তদন্ত
ট্রাম্পের আরেকটি গলার কাঁটা হতে পারেন নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিটিয়া জেমস। ২০১৯ সালের মার্চ থেকে তিনি তদন্ত করে দেখছেন ট্রাম্প অর্গানাইজেশন কোনো ধরনের রিয়েল এস্টেট প্রতারণার সঙ্গে জড়িত কি না।
গত বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে মাইকেল কোহেন কংগ্রেসকে বলেছিলেন, লোন পাওয়া নিশ্চিত করতে সম্পত্তির ভ্যালু অনেক বাড়িয়ে দেখিয়েছেন ট্রাম্প। আবার কর কম দেয়ার জন্য সেগুলোর দাম কমিয়ে দেখান তিনি।
তদন্ত এগিয়ে নিতে আরও কিছু মানুষের সাক্ষ্য নেবেন লেটিটিয়া জেমস।
বাড়তি সুবিধা নেয়ার মামলা
এটি ইমোলুমেন্ট কেস হিসেবে পরিচিত। এতে কর্মসংস্থান বা সরকারি অফিস ব্যবহার করে বাড়তি সুবিধা নেয়াকে বোঝানো হয়। প্রেসিডেন্টের মেয়াদকালে সরকারি প্রভাব খাটিয়ে বাড়তি সুবিধা নেয়ার অনেক অভিযোগ
আছে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে। এগুলো তদন্ত করে দেখা হবে তার অফিস ছাড়ার পর।
যৌন অসদাচরণের মামলা
ট্রাম্পের বিরুদ্ধে বহু নারী যৌন অসদাচরণের মামলা করেছেন। কিন্তু প্রেসিডেন্টের প্রভাব খাটিয়ে তিনি এগুলো ভুয়া খবর, রাজনৈতিক বাগাড়ম্বর ও ষড়যন্ত্র বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। ২০ জানুয়ারি, ২০২১ হোয়াইট হাউস ছাড়ার পর আর এগুলো এড়িয়ে যাওয়া ও তদন্ত বন্ধ করে রাখার তার পক্ষে সম্ভব হবে না।
ভাতিজির প্রতারণার মামলা
ট্রাম্পের বিরুদ্ধে নিজের ভাতিজি মেরি ট্রাম্প পারিবারিক সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করার মামলা করেছেন। ওই মামলার প্রথম লাইন হচ্ছে- ‘এটি কেবল পারিবারিক ব্যবসায় প্রতারণা ছিল না, এটি ছিল জীবনের বাঁক ঘুরিয়ে দেয়া।’ সেপ্টেম্বর মাসে দায়ের করা মামলাটিতে অভিযোগ করা হয়, ট্রাম্প ও তার ভাই-বোনেরা মেরির সঙ্গে উত্তরাধিকার নিয়ে প্রতারণা করেছেন।❐
বিবিসি



