প্রবাস

জেবিবিএ’র অচিরেই নতুন কমিটির অভিষেক দায়িত্ব পালনে আইনগত কোন বাধা নেই:শাহ নেওয়াজ

রূপসী বাংলা ডেস্ক: জ্যাকসন হাইটস বাংলাদেশী বিজনেস এসোসিয়েশন (জেবিবিএ) এনওয়াই ইনক-এর শাহ নেওয়াজ-টুকু বলেছেন তারাই জেবিবিএ’র নির্বাচিত প্রতিনিধি এবং তাদের নেতৃত্বাধীন কমিটির জেবিবিএ’র দায়িত্ব পালনে আইনগত কোন বাধা নেই। তারা বলেন, অচিরেই আমরা নতুন কমিটির অভিষেক আয়োজন করবো এবং অফিসিয়ালী দায়িত্ব নেবো। তারা বলেন, জেবিবিএ’র সকল সদস্যই আমরা ভাই ভাই, সবাই বাংলাদেশী ব্যবসায়ী। আমরা চাই অতীতের ভুল-বুঝাভুঝি ভুলে সকল ব্যবসায়ী মিলে জেবিবিএ-কে আরো শক্তি করতে। এজন্য সবার সহযোগিতা চাই।

সিটির জ্যাকসন হাইটস্থ পালকী পার্টি সেন্টারে গত ১০ সেপ্টেম্বর সোমবার সন্ধ্যায় ‘শাহ নেওয়াজ-টুকু’ নেতৃত্বাধীন জেবিবিএ আয়োজিত ‘মিট দ্যা প্রেস’ অনুষ্ঠানে তারা উপরোক্ত কথা বলেন। এতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ‘শাহ নেওয়াজ-টুকু’ নেতৃত্বাধীন কমিটির সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান টুকু। এরপর লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সভাপতি শাহ নেওয়াজ। খবর ইউএনএ’র।

অনুষ্ঠানে জেবিবিএ’র সাবেক সভাপতি জাকারিয়া মাসুদ জিকো সহ ‘শাহ নেওয়াজ-টুকু’ নেতৃত্বাধীন কমিটির অন্যান্য কর্মকর্তা এবং নির্বাচন কমিশনের সদস্য সহ জেবিবিএ’র একধিক সাবেক কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।  অনুষ্ঠানে উপস্থিত সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের মধ্যে জেবিবিএ সংক্রান্ত মামলা-মোকদ্দমার সর্বশেষ পরিস্থিতি ছাড়াও অসাধু ব্যবসায়ীদের ব্যাপারে জেবিবিএ’র ভূমিকা, বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের স্টাফদের কম পারিশ্রমিক প্রদান, পথমেলার আয়োজন প্রভৃতি বিষয় স্থান পায়।

এক প্রশ্নের উত্তরে শাহ নেওয়াজ বলেন, মূলত: জেবিবিএ’র বিষয়ে আর কোন মামলা নেই। দুটি মামলার খারিজ হয়ে গেছে। আর পথমেলা সংক্রান্ত মামলার বিষয়ে আদালতের সিদ্ধান্ত পেলে আমরা পথমেলা করা না করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবো। অপর এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, অসাধু ব্যবসায়ীদের সাথে জেবিবিএ তথা প্রবাসের ব্যবসায়ীরা জড়িত নন। যারা মাছের পেটে শিশা ঢুকিয়ে অসাধু ব্যবসায় লিপ্ত তারা দেশ-বিদেশের মাছ আমদানী-রপ্তানীর সাথে জড়িত।

‘মিট দ্যা প্রেস’ অনুষ্ঠানে লিখিত বক্তব্যে শাহ নেওয়াজ বলেন, জ্যাকসন হাইটস বাংলাদেশী বিজনেস এসোসিয়েশন সংক্ষেপে জেবিবিএ-একটি সুনামধন্য সংগঠন। নিউইয়র্ক ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্র এবং বাংলাদেশে এই সংগঠনের পরিচিতি ও সুনাম বিস্তৃত। দুঃখজনক হলেও সত্য, জেবিবিএ’র বিগত নির্বাচনে আমাদের সংগঠনের বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ী ও সদস্য নির্বাচনে অংশ নেননি এবং অনেকে সাধারণ সদস্যও নিবন্ধত হননি। বিগত কমিটি এবং নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে তারা অবস্থান নিয়েছিলেন এবং নির্বাচনে অংশ নেবার প্রতিশ্রুতি দিয়েও তারা নির্বাচনে অংশ নেননি। তিনি বলেন, নির্বাচন একটি চলমান প্রক্রিয়া। আমরা নির্বাচনের চলমান প্রক্রিয়ায় অংশ নিয়েছিলাম। চলতি বছর ৬ জানুয়ারী জেবিবিএ’র নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। আমরা শাহ নেওয়াজ-মাহাবুবুর রহমান টুকু পরিষদের সকল প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছিলাম। এরপর আমাদেরই কয়েকজন ব্যবসায়ী-ভাই কুইন্স সুপ্রিমকার্টে মামলা দায়ের করেন (ইনডেক্স নম্বর- ৯১/২০১৮ ও ২৩০৫/২০১৮)। মামলার বাদিরা হলেন জেবিবিএ’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল ফজল মো: দিদারুল ইসলাম, সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ পিয়ার এবং মোহাম্মদ মহসিন মিয়া । আবুল ফজল মোঃ দিদারুল ইসলাম প্রথমে মামলা করেছিলেন নির্বাচন কমিশনের কর্মকা- স্থগিত করতে এবং পরে ৩ জন বাদী হয়ে আমাদের কমিটির বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করেন।

শাহ নেওয়াজ বলেন, বিজ্ঞ আদালত বাদী পক্ষের আবেদন নাকচ করে আমাদের পক্ষে রায় ঘোষণা করেছেন ২০১৮ সালের ৯ আগষ্ট। আদালত মামলার রায়ে বলেছেন-চলতি বছরের ৬ জানুয়ারী নির্বাচন কমিশন যে নির্বাচন সম্পন্ন করেছিল তা বৈধ এবং আমরা (শাহ নেওয়াজ-টুকু প্যানেলের সকল প্রার্থী) জেবিবিএ’র নির্বাচিত কর্মকর্তা। অর্থাৎ আমরা জিবিবিএ’র নির্বাচিত কমিটি হিসাবে এই সংগঠনের কর্মকা- পরিচালনা করার অধিকার রাখি। তাই, আজ এটাও ঘোষণা করছি-খুব শিগগীর এই নির্বাচিত কমিটির অভিষেক অনুষ্ঠান হবে এবং সংগঠনের কর্মকা-ও পরিচালিত হবে। আদালতের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আমরা এতোদিন কোন কর্মকা- পরিচালনা করিনি-এটা আপনারা জানেন।

শাহ নেয়াজ বলেন, আদালতের রায়ে আরো বলা হয়েছে, জেবিবিএ’র নাম এবং লগো আমাদের নির্বাচিত কমিটি ছাড়া কেউ ব্যবহার করতে পারবেন না। আদালত বলেছেন- জেবিবিএ’র পরিচালক পরিচয়দানকারী আবুল ফজল মো: দিদারুল ইসলাম, মোহাম্মদ পিয়ার এবং মোহাম্মদ মহসিন মিয়া সংগঠনের পরিচালক হিসাবে পরিচয় দেয়ার অধিকার রাখেন না। এমনকি, আবুল ফজল মো: দিদারুল ইসলাম জেবিবিএ’র সদস্যও নন। তিনি বিগত নির্বাচনের আগে এই সংগঠনের সদস্য হিসাবে নিবন্ধিত হননি। আদালতের রায় অনুযায়ী, আমাদের কর্মকা- পরিচালনায় কোন বাধা আর নেই। জেবিবিএ’র সকল সদস্য ও ব্যবসায়ীদের জানাতে চাই, মামলার বাদীরা নির্বাচন কমিশনের কর্মকা-, জেবিবিএ’র নামে বন্যার্দ্গুতদের অনুদান সংগ্রহ করে আত্মসাতসহ যে সকল অভিযোগ উল্লেখ করেছিল মামলার আরজিতে, বিজ্ঞ আদালত তা খারিজ করে দিয়েছেন।

লিখিত বক্তব্যে শাহ নেওয়াজ আরো বলেন, আমরা বিরোধে বিশ্বাসী নই। আমরা সৌহার্দ্য-সম্প্রীতিতে বিশ্বাসী। আমরা মনে করি- যারা মামলা করে হেরেছেন, তারা আমাদেরই লোক, আমাদের ভাই এবং সম্মানীত ব্যবসায়ী। আমাদের মাঝে ভুল বোঝাবুঝি হতে পারে, মন-মালিন্য হতে পারে। তবে আমরা অপ্রীতিকর ঘটনার কথা ভুলে যেতে চাই। আমরা তাদের পাশে চাই। আমরা কেউ কারো শত্রু নই। আমরা আবেগের বশবর্তী হয়ে যাই করি না কেন, আমরা কিন্তু সবাই প্রবাসে একেকজন একা। আমাদের এই অভিবাসী সমাজে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। একে-অন্যের পাশে দাঁড়াতে হবে। আমরা এটাই করে দেখাতে চাই। তাই, আমরা বলতে চাই, আসুন, আমরা সকলে ঐক্যবদ্ধ হই। আপনারা বিভেদ ভুলে এসে আমাদের পাশে দাঁড়ান, সহযোগিতা করুন। আসুন, জেবিবিএ-কে একটি শক্তিশালী ও গতিশীল সংগঠনে পরিণত করতে সকলে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হই।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension