
ট্রাম্পকে পরাজিত বলে কটাক্ষ করলেন বাইডেনের
আসন্ন মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে কথার লড়াই জমে উঠেছে। এবার বর্তমান প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন রিপাবলিকান প্রার্থী ও সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে লুজার বা পরাজিত বলে কটাক্ষ করেছেন। বৃহস্পতিবার উইসকনসিনে এক বিশাল সমাবেশে ট্রাম্পকে পরাজিত বলে কটাক্ষ করেন বাইডেন।
পাশাপাশি, আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনেও তার (বাইডেনের) জেতা উচিত বলে মন্তব্য করেন। বাইডেন বলেন, শরণার্থীদের নিয়ে ট্রাম্প অসহনশীল। সমর্থকদের উদ্দেশ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ২০২০ সালে আপনাদের সাহায্যে আমরা একজনকে পরাজিত করেছিলাম। এবারও তাই হতে চলেছে। বাইডেন বলেন, ‘শরণার্থীরা কীট-পতঙ্গ নয়। বলা চলে, আমাদের দেশের পত্তনই হয়েছিল শরণার্থীদের হাত ধরে। ২০২৩ সালে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, শরণার্থীরা ক্ষতিকারক কীট-পতঙ্গের মতো আমেরিকাকে বিষিয়ে দিচ্ছে। ২০২০ সালের নির্বাচনে উইসকনসিন ও মিশিগানে জয় ছিনিয়ে নিয়েই ট্রাম্পকে হারিয়েছিলেন বাইডেন।
এ বারও প্রেসিডেন্ট পদে নিজের অবস্থান নিশ্চিত করতে এই প্রদেশের ভোট প্রয়োজন তার। উইসকনসিনের পরে মিশিগান সফর শুরু করেছেন তিনি। জো বাইডেন এবং সাবেক প্রেসিডেন্ট ডেনাল্ড ট্রাম্প উভয়ই নিজ নিজ দল থেকে প্রার্থিতা নিশ্চিত করেন। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতির ইতিহাসে ৭০ বছরের মধ্যে এই প্রথম কোনো প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে একই প্রার্থীদের মধ্যে লড়াই পুনর্মঞ্চস্থ হতে চলেছে।
দলীয় মনোনয়ন পেতে বাইডেনের ১,৯৬৮ ডেলিগেট ভোট প্রয়োজন ছিল। এডিসন রিসার্চ থেকে বলা হয়, মঙ্গলবার রাতে জর্জিয়ায় প্রাইমারির ফলাফল আসতে শুরু করলেই এই সংখ্যা পেরিয়ে যান বাইডেন। এ রাতে মিসিসিপি, ওয়াশিংটন স্টেট, দ্য নর্দান মারিয়ানা আইল্যান্ডস এবং বিদেশে বসবাস করা ডেমোক্র্যাটদের ভোটের ফলাফলও আসে। বাইডেনের প্রার্থিতা নিশ্চিত হয়ে যাওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর ট্রাম্পও রিপাবলিকান দল থেকে মনোনয়ন নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ১,২১৫ ডেলিগেট পেয়ে যান। মঙ্গলবার চারটি রাজ্যে রিপাবলিকান প্রাইমারি অনুষ্ঠিত হয়। যার মধ্যে জর্জিয়াও ছিল।
২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফলাফল উল্টে দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে জর্জিয়ায় ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা হয়েছে। এ রাতে জর্জিয়া ছাড়াও হাওয়াই, মিসিসিপি এবং ওয়াশিংটন স্টেটে প্রাইমারি ভোট হয়েছে। এই চার রাজ্যে মোট ১৬১ ডেলিগেট। রিপাবলিকান প্রাইমারিতে এ ফলাফল অবশ্য বলতে গেলে পূর্বনির্ধারিতই ছিল। এবারের প্রাইমারিতে ট্রাম্প শুরু থেকেই যে দাপট দেখিয়েছেন তাতে তার প্রতিদ্বন্দ্বীরা নিজেরাই একে একে প্রতিযোগিতা থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। গত সপ্তাহে ‘সুপার টুয়েসডের’ ফলাফল প্রকাশের পর ট্রাম্পের টিকে থাকা সর্বশেষ প্রতিদ্বন্দ্বী নিকি হ্যালিও সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন।
বাইডেনকে তেমন কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে পড়তেই হয়নি। বরং এবার বাইডেনকে অন্য এক অদ্ভুত প্রতিদ্বন্দ্বীর মোকাবেলা করতে হবে। গাজা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ইসরাইলের প্রতি বাইডেনের অন্ধ সমর্থন এবং গাজার অসহায় ফিলিস্তিনিদের দুর্দশাকে পুরোপুরি উপেক্ষা করার কারণে ডেমোক্রেটিক দলের অনেক সমর্থক তার ওপর বিরক্ত। -আনন্দবাজার ও সিএনএন



