
সিএএ নিয়ে উদ্বিগ্ন যুক্তরাষ্ট্র
ভারতের নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ) নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন বলেছে, কী ভাবে এই আইন প্রণয়ন করা হবে, তার দিকে নজর রাখা হয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র ম্যাথিউ মিলার বলেন, সিএএ নিয়ে আমরা উদ্বীগ্ন। গোটা বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছে বাইডেন প্রশাসন। খবর আনন্দবাজার অনলাইনের।
মিলার বলেন, ১১ মার্চ ভারত সরকার সিএএ নিয়ে যে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে, আমরা তা নিয়ে উদ্বিগ্ন। এই আইন কী ভাবে প্রণয়ন করা হচ্ছে, আমরা তার দিকে নজর রেখেছি। ধর্মীয় স্বাধীনতার প্রতি শ্রদ্ধা এবং আইনে সব সম্প্রদায়ের সমান অধিকার মৌলিক গণতান্ত্রিক নীতি। ভারতে নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল আইনে পরিণত হয়েছিল চার বছর আগেই। সম্প্রতি লোকসভার ভোটের প্রাক্কালে ‘আচমকা’ সিএএ আইন চালু করার বিজ্ঞপ্তি জারি করে বিজেপি সরকার।
ওই আইন অনুযায়ী, বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মতো মুসলিম ধর্মাবলম্বী দেশ থেকে যদি সে দেশের ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা ধর্মীয় উৎপীড়নের কারণে এ দেশে আশ্রয় চান, তা হলে তা দেবে ভারত। সংসদের দু’কক্ষে পাশ হওয়ার পরে দেশের তৎকালীন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দও অনুমোদন দেন সিএএ বিলে। কিন্তু এত দিন ধরে সিএএ কার্যকর করা নিয়ে কোনো বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়নি। সোমবার সেই বিজ্ঞপ্তি জারির পরেই দেশজুড়ে আলোড়ন তৈরি হয়। বিরোধীদের অভিযোগ, লোকসভা ভোটের দামামা বাজতেই সিএএ দিয়ে ভোট বৈতরণী পার হতে চাইছে বিজেপি। সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনকে ভোটের আগে মোদি সরকারের ‘ছলনা’ এবং ‘প্রতারণা’ বলে কটাক্ষ করেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা।
তবে ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ দাবি করেছেন, নাগরিকত্ব সংশোধিত আইন (সিএএ) মুসলিম বিরোধী নয়। এক সাক্ষাৎকারে অমিত শাহ বলেন, বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে কমপক্ষে ৪১ বার আমি সিএএ নিয়ে কথা বলেছি। এ বিষয়ে বিস্তারিত বলেছি। আমি বলেছি, দেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ভীত হওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। কারণ কোনো নাগরিকের অধিকার কেড়ে নেওয়ার মতো বিধান এতে নেই। তিনি বলেন, ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বরের আগে যেসব বাংলাদেশী, পাকিস্তানি ও আফগান হিন্দু, শিখ, জৈন, বৌদ্ধ, পারসি এবং খ্রিস্টান ভারতে পৌঁছেছেন সেইসব নির্যাতিত অমুসলিম অভিবাসীদের নাগরিকত্ব দেয়ার জন্য এই আইন। দেশের সংবিধানের আইনের অধীনে ভারতের নাগরিকত্ব দাবি করে আবেদন করার অধিকার আছে মুসলিমদেরও। কিন্তু এই আইনটি (সিএএ) করা হয়েছে ওই দেশগুলোতে নির্যাতিত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জন্য। সিএএ বাস্তবায়নের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বিরোধী দলগুলোর অবস্থান নিয়ে কড়া সমালোচনা করেন অমিত শাহ। বলেন, সংবিধানের ১৪ নম্বর অনুচ্ছেদ লঙ্ঘন করে না এই আইন।
এ বিষয়ে পরিষ্কার, যৌক্তিক ব্যাখ্যা আছে। দেশভাগের কারণে যারা বাংলাদেশ, আফগানিস্তান ও পাকিস্তানে থেকে গিয়েছিলেন এবং ধর্মীয় নিপীড়নের মুখোমুখি হয়েছিলেন, তারপর ভারতে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন- এই আইন তাদের জন্য। সিএএ বাস্তবায়নের প্রতিবাদে বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। অসম, পশ্চিমবঙ্গ ও কেরল ও দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়। বিক্ষোভের সময় দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহু শিক্ষার্থীকে আটক করে পুলিশ। নাগরিকত্ব আইন চালু করার পর মঙ্গলবার থেকে ভারত সরকার একটি ওয়েবসাইট চালু করেছে।



