
ট্রাম্পের ফ্লোরিডার বাড়ি থেকে স্পর্শকাতর ও গোপন ডকুমেন্ট উদ্ধার
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের ফ্লোরিডার অবকাশ যাপন কেন্দ্র মার-এ-লাগো থেকে ভয়াবহ স্পর্শকাতর ও গোপন ডকুমেন্ট উদ্ধারের দাবি করেছে এফবিআই। তারা বলেছে, এসব ডকুমেন্টের মধ্যে আছে বিদেশি পারমাণবিক গোপন নথি। বিশ্বের মাত্র কয়েক ডজন মানুষ এ বিষয়ে জানেন। মঙ্গলবার ওয়াশিংটন পোস্টে এ বিষয়ে রিপোর্ট প্রকাশ হয়েছে। তবে তাতে বলা হয়নি, বিদেশি কোন দেশের পারমাণবিক পোপন ডকুমেন্ট সেগুলো। এমনকি ওই দেশটি বা দেশগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক কেমন তাও প্রকাশ করা হয়নি।
৮ই আগস্ট আকস্মিকভাবে ট্রাম্পের ওই অবকাশযাপন কেন্দ্রে অভিযান চালায় এফবিআই। তারপর থেকে বিষয়টি অব্যাহতভাবে আলোচনায় আছে। এর বিরুদ্ধে কথা বলেছেন ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, তার নিরাপত্তা ভঙ্গ করেছেন এফবিআইয়ের এজেন্টরা। তবে এফবিআই তার বাড়ি থেকে যেসব ডকুমেন্ট উদ্ধার করেছেন তার মধ্যে আছে কমপক্ষে ১১,০০০ সরকারি ডকুমেন্ট ও ছবি।
এসব রেকর্ড প্রকাশ করেছে আদালত।
এর আগে ওয়াশিংটন পোস্ট তার রিপোর্টে বলেছে যে, ওই ডকুমেন্টগুলো টপ-সিক্রেট অপারেশন সম্পর্কিত। এগুলোর ক্লিয়ারেন্সের জন্য প্রয়োজন অত্যন্ত গোপনীয়তা। তবে এ নিয়ে আর বিস্তারিত কিছু জানায়নি পত্রিকাটি। কারণ, প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের নিরাপত্তা টিমের সিনিয়র সদস্যরা এ বিষয়ে যথাযথ অনুমোদন দেননি। ওদিকে ২০২১ সালের জানুয়ারিতে ক্ষমতার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পর হোয়াইট হাউজ থেকে গোপনীয় ডকুমেন্ট সরিয়ে নেয়া ও তা তার ফ্লোরিডার বাসভবনে জমা রাখার কারণে আইন মন্ত্রণালয়ের অব্যাহত তদন্তের মুখে রয়েছেন ট্রাম্প। ওদিকে ন্যাশনাল আর্কাইভস বলেছে, ট্রাম্পের ওই বাড়ি থেকে হোয়াইট হাউজের রেকর্ডসের ১৫টি বক্স তারা রিসিভ করেছে।
গত সপ্তাহে আইন মন্ত্রণালয় জব্দ করা ওইসব ডকুমেন্টের ছবি প্রকাশ করে। সোমবার ফেডারেল একজন বিচারক এফবিআইয়ের জব্দকৃত ডকুমেন্টগুলো রিভিউ করার জন্য একজন স্পেশাল মাস্টার নিয়োগ করতে সম্মত হয়েছে। এমন অনুরোধ করেছিলেন ট্রাম্প। এর ফলে আইন মন্ত্রণালয়ের ক্রিমিনাল বিষয়ক তদন্ত বিলম্বিত হচ্ছে।
ওদিকে তার এস্টেটে অভিযান চালানো নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, তাকে অবরুদ্ধ করা হয়েছিল। তিনি বিবৃতিতে বলেছেন, এর আগে কোনোদিন যুক্তরাষ্ট্রের একজন প্রেসিডেন্টের বেলায় এমনটা ঘটেনি। সরকার সংশ্লিষ্ট সব এজেন্সির সঙ্গে সহযোগিতা করার পর আমার বাড়িতে অঘোষিতভাবে তল্লাশি চালানোটা অপ্রয়োজনীয় ও অন্যায়। এই তল্লাশিকে তিনি আইনি ব্যবস্থাকে অস্ত্রের মতো ব্যবহারের অভিযোগ এনেছেন। এর জন্য তিনি বিরোধী ‘র্যাডিক্যাল’দের দায়ী করেছেন, যারা তাকে ২০২৪ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন থেকে দূরে রাখতে চান। তবে ট্রাম্প লিখেছেন, আমি গ্রেট আমেরিকান পিপল লড়াই অব্যাহত রাখবো।



