আন্তর্জাতিক

তাইওয়ান ইস্যুতে মুখোমুখি জাপান-চীন

তাইওয়ান নিয়ে জাপানি প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির মন্তব্য ঘিরে বেইজিং-টোকিও ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে নাগরিকদের জাপান সফর এড়াতে অনুরোধ করেছে চীন। তারা বেইজিংয়ে থাকা জাপানি রাষ্ট্রদূতকে তলব করে কড়া প্রতিক্রিয়াও জানিয়েছে।

চীন তাইওয়ান আক্রমণ করলে জাপান তার আত্মরক্ষামূলক বাহিনী দিয়েও প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারে, তাকাইচির এমন ইঙ্গিতের পর গত কয়েকদিন ধরে দুই দেশের মধ্যে কথার লড়াই তীব্র আকার ধারণ করেছে বলে জানিয়েছে বিবিসি।

দুই দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একে অপরের কাছে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদও পাঠিয়েছে। চীনা এক দূত কড়াভাষায় এমন মন্তব্য করেছেন, যাতে তাকাইচির মাথা কেটে নেওয়ার হুমকি আছে বলেও অনেকে মনে করছেন।

দুই পক্ষের এই বিরোধ দুই দেশের ঐতিহাসিক বৈরিতা নতুন করে উসকে দিয়েছে। স্বশাসিত তাইওয়ানের সার্বভৌমত্ব নিয়ে প্রতিবেশী দেশগুলো দীর্ঘদিন ধরে যে ‘কৌশলগত স্থিতাবস্থা’ বজায় রেখেছে, তা বদলাচ্ছে কিনা উঠছে সে প্রশ্নও।

সর্বশেষ এ উত্তেজনার সূচনা হয় গত শুক্রবার, জাপানে সংসদীয় এক বৈঠকে। সেখানে বিরোধীদলের এক আইনপ্রণেতা তাকাইচির কাছে তাইওয়ানের আশপাশে এমন কোন পরিস্থিতি জাপানের ‘টিকে থাকার জন্য হুমকি’ হিসেবে বিবেচিত হবে তা জানতে চান।

উত্তরে তাকাইচি বলেন, ‘যদি যুদ্ধজাহাজ থাকে এবং যদি বলপ্রয়োগ হয়, তাহলে আপনি যেটাই ভাবেন না কেন, এটাকে ‘টিকে থাকার জন্য হুমকি’ ধরনের পরিস্থিতি ধরা যেতে পারে।’

জাপানের ২০১৫ সালের নিরাপত্তা আইনে ‘টিকে থাকার জন্য হুমকি’ এমন এক আইনি শব্দবন্ধ যা বোঝায়, মিত্রদের ওপর এমন সশস্ত্র হামলা যা জাপানের অস্তিত্বের জন্য হুমকিস্বরূপ। এমন পরিস্থিতিতে হুমকি মোকাবেলায় জাপানের আত্মরক্ষামূলক বাহিনীকে নামানো যেতে পারে।

তাৎক্ষণিকভাবে তাকাইচির মন্তব্যে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানায় বেইজিং। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জাপানের সরকারপ্রধানের মন্তব্যকে ‘চরম আপত্তিকর’ আখ্যা দেয়।

জাপানের ওসাকা শহরের চীনা কনসাল জেনারেল শুয়ে জিয়ান গত শনিবার এক্সে তাকাইচির পার্লামেন্টে দেওয়া বক্তব্যের খবর শেয়ার দেন। সঙ্গে জুড়ে দেন নিজের মন্তব্য, ‘যে নোংরা মাথাটা হস্তক্ষেপ করতে চায় তা অবশ্যই কেটে ফেলতে হবে।’

সোমবার এর প্রতিক্রিয়ায় জাপানের মুখ্য মন্ত্রিপরিষদ সচিব মিনোরু কিহারা সাংবাদিকদের বলেন, শুয়ের বক্তব্য ‘পুরোপুরি স্পষ্ট বোঝা না গেলেও’ তা ‘যথেষ্ট আপত্তিকর’।

টোকিও পরে শুয়ের মন্তব্য নিয়ে চীনকে প্রতিবাদ পাঠায়, বেইজিংও তাকাইচির মন্তব্য ঘিরে একই পদক্ষেপ নেয়।

শুয়ের পোস্টটি পরে সরিয়ে নেওয়া হলেও দুই পক্ষের কথার লড়াই এখনো থামেনি।

মঙ্গলবার তাকাইচি তার মন্তব্য প্রত্যাহারে অস্বীকৃতি জানিয়ে বলেন, তিনি যা বলেছেন তা জাপানের সরকারের ‘দীর্ঘদিনের নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ’। এরপর থেকে সুনির্দিষ্ট পরিস্থিতি নিয়ে মন্তব্য করার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকবেন বলেও আশ্বাস দেন তিনি।

পরে বৃহস্পতিবার চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক্সে জাপানি ও ইংরেজি ভাষায় দেওয়া পোস্টে জাপানকে ‘আগুন নিয়ে খেলা বন্ধ করতে’ বলে।

জাপান ‘তাইওয়ান উপকূলের এপাশ-ওপাশের পরিস্থিতি’ নিয়ে নাক গলানোর দুঃসাহস দেখালে তা ‘আগ্রাসী কর্মকাণ্ড’ হিসেবে গণ্য হবে বলেও তারা জানায়।

তথ্যসূত্র: এনডিটিভি

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension