
‘তোফায়েল আহমেদকে রাষ্ট্রপতি হিসাবে দেখতে চাই’
সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য তোফায়েল আহমেদকে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হিসাবে দেখবার দাবি তুলেছে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বাংলাদেশিরা।
গতকাল নিউ ইয়র্কের থেকে প্রকাশিত দৈনিক দেশকন্ঠ পত্রিকার সম্পাদক ও এটিএন বাংলার নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি দর্পণ কবীর এমন দাবি তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন। সেখানে তিনি লিখেছেন, “তোফায়েল আহমেদকে রাষ্ট্রপতি হিসাবে দেখতে চাই। বাংলাদেশের বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ তিনি এবং রাজনীতির জীবন্ত কিংবদন্তী! বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের বাতিঘর, ইতিহাসের গৌরবময় এক মহানায়ক! রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, নেতৃত্ব দেয়ার দক্ষতা, দূরদর্শিতা, সর্বোপরি দেশপ্রেমের প্রশ্নে তোফায়েল আহমেদের সংগে কারো তুলনা করা যাবে না। মুক্তিযুদ্ধে অসামন্য অবদান রেখে এবং দেশের মানুষের কল্যাণে সবসময় তিনি ছিলেন সোচ্চার, রাজনীতিকদের সম্মান রক্ষায়ও উচ্চকিত। তাঁর মতো বরেণ্য রাজনীতিবিদকে দেশের রাষ্ট্রপতি করলে আওয়ামী লীগ যেমন গৌরম্বিত হবে, তেমনি রাজনীতিতে ‘সম্মান’ প্রতিষ্ঠিত হবে। যা এই সময়ে বড় প্রয়োজন। রাজনীতিকে যারা ফাইলবন্দি করে রাখতে চান, তাদের মন্ত্রণা ব্যর্থ হোক। সরকারি দল সময়ের নন্দিত মহানায়ক তোফায়েল আহমেদকে বাংলাদেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হিসাবে নির্বাচিত করুক এই দাবি জানাচ্ছি। জয় বাংলা।”
দর্পণ কবীরকে সমর্থন জানিয়েছেন নিউ ইয়র্কভিত্তিক টেলিভিশন চ্যানেল বাংলা চ্যানেলের চেয়ারম্যান একেএম ফজলুল হক, বাংলা চ্যানেল ও রূপসী বাংলা এন্টারটেইনমেন্টের প্রেসিডেন্ট ও সিইও এবং শাহ্ জে. চৌধুরী, সাংবাদিক ও অ্যাক্টিভিস্ট তোফাজ্জল লিটন, অ্যাক্টিভিস্ট কেলভিন মণ্ডল, নারায়ণগঞ্জ জেলার গ্রিন অটো রাইস মিল লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শওকত আলী চৌধুরী।
মুক্তিযুদ্ধে ৯ নম্বর সেক্টরে অংশগ্রহণ করা বীর মুক্তিযোদ্ধা ক্যাপ্টেন শচীন কর্মকার বলেন, তোফায়েল আহমেদ তিনি মুক্তিযুদ্ধকে একজন সংগঠক হিসেবে দেখেছিলেন, সেকারণে তিনি হয়ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হওয়ার পক্ষে কোয়ালিফাইড নন। কিন্তু একজন সহযোগী হিসেবে তার রাষ্ট্রপতি হওয়ার পক্ষে তার আরও ভালো সুযোগ রয়েছে।
বাংলা চ্যানেলের চেয়ারম্যান একেএম ফজলুল হক বলেন, তোফায়েল আহমেদ ’৬৯-এর গণআন্দোলনের মহানায়ক জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্নেহধন্য। ‘৬৯-এর গণজাগরণ ও ছাত্র আন্দোলনে তিনি ডাকসুর ভিপি হিসেবে সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করেন। সে বছর ২৩ ফেব্রুয়ারি শেখ মুজিবুর রহমানের সম্মানে ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে এক সভার আয়োজন করে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ। লক্ষ লক্ষ মানুষের এ সম্মেলনে শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধি দেওয়া হয়। এই উপাধিই আজ বঙ্গবন্ধুর সকল অবদান ও পরিচয় বহন করছে। এবং এই উপাধিটি সেদিন ঘোষণা করেছিলেন তোফায়েল আহমেদ। সেদিনের ওই সভায় দেয়া বক্তৃতায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের এগার দফা দাবির পক্ষে তার পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছিলেন। ১৯৭০ সালে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে জাতীয় পরিষদের নির্বাচনে অংশ নিয়ে তোফায়েল আহমেদ জয় লাভ করেন। ফলে বর্তমান বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে তোফায়েল আহমেদের চেয়ে যোগ্য কেউ হতে পারে না।
শাহ্ জে. চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশর যে ক’জন প্রবীণ রাজনীতিবিদ রয়েছেন, তাদের মধ্যে তোফায়েল আহমেদ অন্যতম। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে তোফায়েল আহমেদ মুজিব বাহিনীর অঞ্চল ভিত্তিক দায়িত্বপ্রাপ্ত চার প্রধানের একজন ছিলেন। তিনিই বঙ্গবন্ধুকে বঙ্গবন্ধু উপাধি দিয়েছিলেন। স্বাধীনতা অর্জনের পর প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনৈতিক সচিবের দায়িত্ব পালন করেছেন। পরবর্তীতে ১৯৯৬ সালে শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। তোফায়েল আহমেদ বারবার নিজের যোগ্যতা ধারাবাহিকভাবে প্রমাণ করেছেন। বর্তমান বাংলাদেশে তার সমকক্ষ আর কেউ নেই। ফলে রাষ্ট্রপতি হিসেবে তার কোনো বিকল্পও নেই।




