
দাদন ব্যবসায়ীর জিম্মি শিবগঞ্জের শিক্ষক
রূপসী বাংলা আঞ্চলিক রিপোর্ট: পল্লী চিকিৎসক শ্রী মাধব চন্দ্র। বাড়ি শিবগঞ্জ উপজেলার রহবল এলাকায়। মেয়ের বিয়ের সময় দেউলী এলাকার দাদন ব্যবসায়ি জুয়েলের কাছ থেকে মাসে ২৫ হাজার টাকা সুদ দেয়ার শর্তে দুই লক্ষ টাকা নেয়। এজন্য দাদন ব্যবসায়িকে দুটি ব্ল্যাঙ্ক চেক ও ফাঁকা স্ট্যাম্প- এ স্বাক্ষর দিতে হয়। ধারের এ টাকা শোধ করতে গত ২৪ মাসে প্রায় চার লক্ষ টাকা পরিশোধ করার পরও, বাকি সুদ ও আসল মিলে আরও চার লাখ টাকা দাবি করে মাধবকে হুমকি ও মারধর করা হয়েছিল।
এ টাকা শোধ করতে গিয়ে দাদন ব্যবসায়ি নুরনবী, ফরিদুল, তারিফ, মেহেদুলসহ আরও অনেকের কাছে সুদে টাকা নিতে হয়েছে মাধবকে। চক্রবৃদ্ধিহারে সুদ দিতে দিতে ভিটে-মাটি বিক্রি করে তিনি এখন পথের ফকির। পালিয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছিলেন তিনি। খবর পেয়ে নিজ উদ্যোগে মোকামতলা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ (পুলিশ-পরিদর্শক) মিজানুর রহমান দাদন ব্যবসায়িদের কাছ থেকে চেক-স্ট্যাম্প উদ্ধার করে নিয়ে দেন। দাদন ব্যবসায়িদের কাছ থেকে আর সুদ খাটাবে না মর্মে মুচলেকা লিখে নেন। শিবগঞ্জ উপজেলায় মাধবের মত এমন অনেকেই আছেন, যারা দাদন ব্যবসায়ির কাছ থেকে ঋণ নিয়ে সর্বস্বান্ত হয়েছেন। তারপরও দাদনের টাকা পরিশোধ করতে পারেন নি।
জানা গেছে, বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার গুজিয়া, আলিয়ারহাট, দাড়িদহ, ভায়েরপুকুর, মোকামতলা, রহবল, গাংনগর, বড়িয়াহাটসহ বিভিন্ন এলাকায় দিন দিন দাদন ব্যবসা বেড়েই চলেছে। দৈনিক, সাপ্তাহিক ও মাসিক হার ভেদে চলছে জমজমাট দাদন ব্যবসা।
উপজেলার অনেকেই সুদ মেটাতে না পেরে আত্মহত্যা করেছেন, দাদন ব্যবসা কেন্দ্র করে খুন, অপহরণের মতো ঘটনাও ঘটেছে। ভুক্তভোগীরা দাদন ব্যবসা বন্ধে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।
উপজেলার গাংনগর দাখিল মাদ্রাসার সুপার আ. ওয়াহাব জানান, আমার প্রতিষ্ঠানের দু’জন শিক্ষক-কর্মচারি মোকামতলা এলাকার এক দাদন ব্যবসায়ির কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছিল। পুরো বইয়ের চেক স্বাক্ষর করে দাদন ব্যবসায়িকে দিতে বাধ্য হয়েছিল তারা। গত চার বছর ধরে বেতন তুলতে পারছিল না তারা। পরে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির হস্তক্ষেপে তারা রক্ষা পায়।
এ ধরনের ভুক্তভোগীরা জানান, ঋণ নেওয়ার আগে দাদন ব্যবসায়ির কাছে স্বাক্ষর করা চেক বা স্ট্যাম্প জমা রাখতে হয়। তারা চাকরি করলেও মাস শেষে ব্যাংক থেকে বেতনের টাকা তোলেন দাদন ব্যবসায়িরা। ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারিদের সঙ্গে দাদন ব্যবসায়ীদের সুসম্পর্ক থাকায় তারা সহজে টাকা তুলে নিতে পারে।
এ প্রসঙ্গে দাদন ব্যবসায়িরা সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে রাজি হন নি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক দাদন ব্যবসায়ি জানান, তারা দীর্ঘদিন ধরে ব্যাংক থেকে সিসি লোন নিয়ে বিভিন্ন শ্রেণী ও পেশার মানুষকে আর্থিক সহযোগিতা দিয়ে আসছেন। তার দাবি, ব্যাংক থেকেও তাদের সুদের হার কম। দাদন ব্যবসা প্রসঙ্গে শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ না পাওয়ায় এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। তবে এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।



