
দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে যাচ্ছে মিয়ানমার: জাতিসংঘ
২০২২ সালের মধ্যে মিয়ানমারের অর্ধেক জনগণ দারিদ্রসীমার নিচে অবস্থান করবে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘের উন্নয়ন প্রকল্প ইউএনডিপি। ২০০৫ সাল থেকে দেশটির যা অগ্রগতি হয়েছে তা করোনা এবং সামরিক অভ্যুত্থানের কারণে বিপরীত দিকে অবনমিত হচ্ছে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে জাতিসংঘ।
জাতিসংঘের প্রতিবেদনে বলা হয়, করোনা আর রাজননৈতিক অস্থিরতায় ১৫ বছর পিছিয়ে গেছে মিয়ানমার। গত বছর করোনার কারণে মিয়ানমারের ৮৪ শতাংশ জনগণের আয় অর্ধেকে নেমে আসে। দরিদ্রসীমার নিচে চলে যায় ১১ শতাংশ জনগণ।
পরিস্থিতির কোন পরিবর্তন না হলে এবছর আরও ১২ শতাংশ মানুষ দারিদ্রতার মুখে পড়বে। খাদ্য সংকটে ভুগবে অর্ধেকের বেশি শিশু।
এমন পরিস্থিতিতে ১৬ বছরের মধ্যে সবচেয়ে ঝুঁকিতে পড়েছে মিয়ানামারের নারী ও শিশুরা। জনগণের আয় উপার্জনের সঙ্গে অবনতি হয়েছে জীবনযাত্রার মানের। এর ফলে দেশটির প্রায় ৪৮ দশমিক ২ ভাগ মানুষ ২০২২ সালের মধ্যে দারিদ্রতার মুখে পড়বে।
২০১৭ সালেও দেশটির প্রায় ২৫ ভাগ মানুষ দারিদ্রতায় ভুগছিল। তাদের মাথাপিছু দৈনিক আয় ছিল ১ ডলার বা মিয়ানমারের মুদ্রায় ১ হাজার ৫৯০ কিয়াতের নিচে। বিগত বছরগুলোতে অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলেও ফেব্রুয়ারির সেনা অভ্যুত্থানের পর দেশটির অগ্রগতি আবারও হুমকির মুখে পড়ে।
ইউএনডিপি জানায়, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের আয় রোজগার বন্ধ হয়ে যাওয়ায় মিয়ানমারে খাদ্য থেকে শুরু করে সব ধরণের মৌলিক সেবার ব্যাঘাত ঘটছে। নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়ছে নারী ও শিশুরা।
১ ফেব্রুয়ারি সেনা অভ্যুত্থানের মাধ্যমে স্টেট কাউন্সেলর অং সান সুচিসহ সব নেতাদের আটক করে ক্ষমতা দখল করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। এরপর থেকে সেনাশাসনবিরোধী আন্দোলন আর নিরাপত্তা বাহিনীর অত্যাচারে যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয় দেশটি।
আল-জাজিরার তথ্যমতে, এ পর্যন্ত নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে মিয়ানমারের ৭৫৯ জন বেসামরিক নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে। আটক হয়েছে ৩ হাজার ৪৬১ জন।❐



