
রূপসী বাংলা ঢাকা ডেস্ক রিপোর্ট: আজ শনিবার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে জেলহত্যা দিবস উপলক্ষে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের আলোচনা সভা জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেছেন, স্বাধীনতার অসমাপ্ত স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
জাতীয় ঐক্য আরও সুসংহত করতে হবে। এর মাধ্যমে দেশে শ্রেণিবৈষম্য দূর করে গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনতে হবে, দেশের মালিকানা জনগণের মধ্যে ফিরিয়ে দিতে হবে।
অনুষ্ঠানে বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর নেতৃত্বাধীন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে যোগদানের বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানানোর কথা থাকলেও তিনি সোমবার পর্যন্ত সময় নিয়েছেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. কামাল হোসেন বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এই জাতিকে ঐক্যবদ্ধ হতে শিখিয়েছিলেন। তিনি জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করতে পেরেছেন বলে কখনও এই জাতি পরাজিত হয়নি। তার দেখানো পথ ধরে দেশ স্বাধীন হয়েছে। ওই সময় দেশের সাড়ে সাত কোটি মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল। আজ ষোল কোটি মানুষও ঐক্যবদ্ধ হবে। জনগণের ক্ষমতায়ন চাইলে তাদের ঐক্যবদ্ধ হতেই হবে। ঐক্যবদ্ধ বাঙালি জাতিকে দাবিয়ে রাখার মত কোনও শক্তি নেই।
তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু এ দেশে একটি সংবিধান দিয়েছেন। তার সেই সংবিধানে উল্লেখ আছে যে দেশের মালিক জনগণ। মালিকের যেমন অধিকার থাকে, তেমনি মালিকানা ধরে রাখার জন্য তাদের দায়িত্ববোধও থাকতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বলেন, দেশে আজ দুর্দিন চলছে। এই সরকারের পাশে কেউ নেই। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের পাশে অনেকে আছেন।
ড.কামাল বলেন, এর আগে বলেছিলাম সুষ্ঠু নির্বাচন হলে এই সরকার ২০টির বেশি আসন পাবে না। এখন তা আরও কমেছে। কয়েকদিন আগেও ড. কামাল হোসেন জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ করলে নির্বাচিত হতে পারতেন না। কিন্তু এখন অবস্থার পরিবর্তন হয়েছে। তিনি এখন সারাদেশের নেতা। দেশের যে কোনও স্থান থেকে নির্বাচন করলে তিনি নির্বাচিত হবেন।
তিনি আরও বলেন, সংলাপের মধ্য দিয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের বিশাল বিজয় অর্জন হয়েছে। কারণ এই সরকার বলেছিল তারা সংলাপে বসবে না, তবে বসেছে। সরকার ওই সংলাপে গোলাপের সুবাতাস পায় নি, জনগণের রাগ-ক্ষোভের গন্ধ পেয়েছে। সরকার যার সঙ্গে সংলাপে বসেছে সেই ড. কামাল হোসেন বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে পাকিস্তানি শাসক ইয়াহিয়ার সঙ্গে সংলাপ করেছেন। আজ বঙ্গবন্ধুর কন্যা তার সঙ্গে সংলাপে বসেছেন। এই সরকার মুখে জোর চালালেও তাদের আত্মার জোর নেই। এখন সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবি না মানলে তাদের ছালাও যাবে, মালও যাবে।
জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডির সভাপতি আ স ম আবদুর রব বলেছেন, জেলহত্যার ঘটনার জন্য আওয়ামী লীগকেই দায় নিতে হবে। কারণ তাদের নেতা খন্দকার মোশতাকের নির্দেশেই সেদিন তাদের জেলখানায় হত্যা করা হয়েছিল। আর সেই জেলহত্যার সঙ্গে সেদিন যারা জড়িত ছিল তাদের প্রেতাত্মারা এখনও এই সরকারের আশপাশে অবস্থান করছে। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচন না হলে সব দায়-দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রীকে নিতে হবে। জাতি যদি কোনও সঙ্কটে পড়ে তাহলে এর দায়-দায়িত্বও প্রধানমন্ত্রীকে নিতে হবে। জনগণ মাঠে নামলে তারা আন্দোলনের ফসল নিয়েই ঘরে ফিরবে।
গণফোরাম নির্বাহী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী বলেন, এই সরকারের লাইসেন্স নেই, ফিটনেস নেই। তাই এই সরকারকে রাস্তার ডাস্টবিনে ফেলতে হবে। বিশিষ্ট কলামিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেছেন, সংলাপের মাধ্যমে সরকারের সঙ্গে বিরোধী দলগুলোর দূরত্ব কমছে বলে এই উদ্যোগকে তারা সাধুবাদ জানান।
আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টু, ডাকসুর সাবেক ভিপি সুলতান মোহাম্মদ মনসুর প্রমুখ।



