
ধর্ষণের পর ক্লান্ত হয়ে ঘুমিয়ে পড়া ভারতীয় নারীর সংস্কৃতি নয় কর্নাটক হাইকোর্ট
ধর্ষণের দায়ে অভিযুক্তকে আগাম জামিন দেওয়ার ব্যখ্যায় ভারতের কর্নাটক হাইকোর্ট অভিযোগকারী নির্যাতিত নারীর উদ্দেশ্যে বলেছে, রাত কাটানো ও মদ্যপান ভারতীয় নারীর পরিচয় নয় বলে মন্তব্য করেছে।
বৃহস্পতিবার একটি ধর্ষণ মামলার পর্যবেক্ষণে বিচারপতি কৃষ্ণ এস দীক্ষিত এমন মন্তব্য করেন।
আদালত বলেছে, ধর্ষণের পর ক্লান্ত হয়ে ঘুমিয়ে পড়া ভারতীয় নারীদের সংস্কৃতির সঙ্গে বেমানান। কোনও ভারতীয় নারী নির্যাতিত হলে কখনও এই ধরনের আচরণ করে না।
আর এমন পর্যবেক্ষণের ওপর ভর করে ধর্ষণে অভিযুক্তকে জামিনও দিয়েছে কর্নাটক হাইকোর্ট।
পাশাপাশি মামলাটির যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন তুলে আদালত বলেছে, ‘আদালতের সামনে দাখিল করা তথ্য-প্রমাণে চোখ বুলিয়ে বিশ্বাস হচ্ছে না অভিযুক্ত বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ধর্ষণ করেছেন।’
জানা গেছে, নিগৃহীতা, অভিযুক্তের সংস্থায় দু বছর ধরে কাজ করছেন।
অভিযুক্তের পক্ষে করা জামিন মামলার শুনানিতে আদালত বলেছে, ‘বয়ানে নিগৃহীতা বলে দাবি করা নারী স্পষ্ট করেন নি, কেন তিনি রাত ১১টার সময় অফিসে গিয়েছিলেন। অভিযুক্ত তাকে মদ্যপানের প্রস্তাব দিলেও তিনি না করেন নি। এমনকি সারারাত অভিযুক্তের সঙ্গে রাত কাটানোয় কোনও আপত্তি তোলেন নি অভিযোগকারী। রাত কাটানো প্রসঙ্গে আবার নিগৃহীতা বলেছেন, সেই নির্যাতনের পর তিনি ক্লান্ত হয়ে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। এটা ভারতীয় নারীর সংস্কৃতির সঙ্গে বেমানান।’
এদিকে আদালতের বাইরে আপস হলে মামলা প্রত্যাহার করবেন নিগৃহীতা, এমন একটা প্রস্তাব গেছে অভিযুক্তের কাছে। আদালত সেই প্রসঙ্গও উল্লেখ করেছে।
আদালতের বক্তব্য, ‘এর আগে বহুবার অভিযুক্ত নিগৃহীতাকে যৌন নিগ্রহ করেছে। এমন অভিযোগ তোলা হয়েছে। তাহলে তখন কেন তিনি কোর্টের দ্বারস্থ হন নি?’
পাশাপাশি অভিযুক্তকে এক লাখ টাকার ব্যক্তিগত বন্ডে শর্তাধীনে জামিন দিয়ে আদালত স্পষ্ট করেছে, তথ্য-প্রমাণে লোপাট করতে পারবেন না আবেদনকারী। ⛘



