
নওগাঁর মহাদেবপুরে মেয়েদের তৈরি পরচুলা ক্যাপ বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে
এম. এ রাজ্জাক, নওগাঁ প্রতিনিধি : নওগাঁর মহাদেবপুরের কিশোরী মেয়েরা নিপুণ হাতে তৈরি পরচুলা বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে। আসছে বৈদেশিক মুদ্রা।
উপজেলার এনায়েতপুর ইউনিয়নের চকহরিবল্লভ আদর্শ গ্রামে গিয়ে দেখা গেছে, আদর্শ গ্রাম প্রকল্পের অফিস ঘরে বিশেষভাবে তৈরি টেবিলে বসে একদল কিশোরী মেয়েরা আশ্চর্য দক্ষতায় তৈরি করছে পরচুলা ক্যাপ। প্রত্যেকে একটি ডামির মাথায় সুক্ষ্ম নেটে বিশেষ ধরণের লম্বা চুল সুঁই দিয়ে বুনে চলেছে। একটি মাথার চুলের গোছার সমান হলেই তৈরি হয়ে গেল।
সেখানে কাজ করছিল এনায়েতপুর গ্রামের আদিবাসী কিশোরী শিখা রাণী পাহান। ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ুয়া শিখার বাবা-মা কৃষি কাজ করেন। অবসরে এখানে কাজ করে সংসারে সাহায্য করছে শিখা। শিখা এখন পর্যন্ত দুটি ক্যাপ তৈরি করেছে। একেকটা ক্যাপ তৈরি করতে সময় লেগেছে দুদিন। দুই ক্যাপ বানিয়ে শিখার আয় বারশ’ টাকা।
শিখার মতোই সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী কুশাপুকুর গ্রামের তুলি রাণী, ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী হাসি আকতার খাদিজা, চকহরিবল্লভ গ্রামের আশা আকতার, তনু খাতুন, সাহানারা খাতুন, মিনা আকতার, গৃহবধু সানজিদা আকতার বৈশাখীসহ প্রায় ত্রিশ জন গত এক মাস ধরে কাজ করছে এখানে।
পরচুলা ক্যাপ তৈরির মিনি কারখানার উদ্যোক্তা ওই আদর্শ গ্রামের মৃত আবদুর রাজ্জাকের ছেলে সুজন জানালেন, তিনি ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করে বন্ধুর সহায়তায় একমাস আগে এই প্রকল্প চালু করেছেন। উপজেলার পাহাড়পুর এলাকার তার এক বন্ধু তাকে এই ক্যাপ তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় মাথার ডামি, চুল, নেট, সুঁই, চক, পিন প্রভৃতি সরবরাহ করেন। শুরুতে তারা এখানকার মেয়েদের প্রশিক্ষণ দিয়েছেন। এখন এখানে ক্যাপ তৈরির পর সেগুলো চলে যায় ঢাকায়। সেখান থেকে রপ্তানি হয় চীন, জাপান, ভারত, দুবাই, থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, নেপালসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে। এজন্য তাকে মাসিক ভাতা প্রদান করা হয়।
একই গ্রামের বাসিন্দা উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি শিক্ষক রাজু আহমেদ জানান, এলাকার দরিদ্র কিশোরীদের কর্মসংস্থানের জন্য এটি একটি বিশাল সুযোগ। স্থানীয় গৃহিণীরা এ থেকে বাড়তি আয় করে স্বাবলম্বী হচ্ছেন। সমাজের পিছিয়ে পড়া ও সুবিধাবঞ্চিতদের জন্য বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী এ ক্ষুদ্র কুটির শিল্পটির প্রসারে সংশ্লিষ্ট সকলের এগিয়ে আসা উচিৎ।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিজানুর রহমান মিলন বলেন, ‘চকহরিবল্লভ আদর্শগ্রামে কিশোরীরা সুনিপুণ দক্ষতায় পরচুলাযুক্ত ক্যাপ বানাচ্ছে। অত্যন্ত চিত্তাকর্ষক, ব্যতিক্রমী ও উদ্ভাবনী পেশা মনে হলো আমার কাছে। এই মেয়েদের হাত ধরেই এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। এমডিজি অর্জনের পর ২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়নের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছে যাচ্ছে। অর্জিত হচ্ছে জেন্ডার সমতা অর্জন এবং নারীর ক্ষমতায়ন।’ এই প্রকল্পে তিনি সার্বিক সহযোগিতা করবেন বলেও জানান।



