
নিউইয়র্কে কবি নিখিল রায় সংবর্ধিত
রূপসী বাংলা ডেস্ক:আমরা অনেকেই অনেক কাজ করি, আমাদের মৃত্যুর পর অনেক কিছুই হারিয়ে যাবে, তবে লেখনী রয়ে যাবে। বিশেষ করে গান বেঁচে থাকবে বহুকাল। কবিতা-গল্প বা উপন্যাস এসব যতদিন বেঁচে থাকবে মানুষের মনে তার চেয়ে গান বেঁচে থাকবে অনেকদিন। শরৎ চন্দ্র, বিমল মিত্র, মীর মোশাররফ হোসেন এরা কি বেঁচে আছেন? গান না লিখলে রবীন্দ্রনাথ বা নজরুলও হারিয়ে যেতেন। কবি নিখিল কুমার রায় এর লেখা গান নিয়ে কিছু কাজ করার ইচ্ছা আছে আমার। ও আমার স্কুল ও কলেজ জীবনের বন্ধু। আগামী ২১ শের বইমেলায় ওর লেখা গানগুলো নিয়ে আমি একটা বই প্রকাশ করবো। ওর লেখনীগুলো আসুন আমরা বাঁচিয়ে রাখি।” কথাগুলো বলছিলেন প্রবাসের ২০টা সংগঠন এর উদ্যোগে গঠিত গুনীজন সংবর্ধনা পরিষদ কর্তৃক আয়োজিত কবি নিখিল কুমার রায় এর সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ৮ বার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার প্রাপ্ত কিংবদন্তী চিত্র পরিচালক কাজী হায়াত। অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি প্রবীন সাংবাদিক ও গীতিকার জীবন চৌধুরী বলেন, “জীবদ্দশায় বাংলাদেশের কবি সাহিত্যিকরা মূল্যায়িত হন না, সংবর্ধনা পান না, তাদেরকে মূল্যায়ন করা হয় মৃত্যুর পর। এটা কাম্য নয়। জীবদ্দশায় তাকে মূল্যায়ন করার জন্য গুনীজণ সংবর্ধনা পরিষদ যে উদ্যাগ গ্রহণ করেছে তা প্রশংসার দাবী রাখে।” অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের কণ্ঠযোদ্ধা রথীন্দ্রনাথ রায়, শহীদ হাসান, কচিকণ্ঠের চেয়ারম্যান হেমায়েত হোসেন এবং বিশিষ্ট সঙ্গীতজ্ঞ মুত্তালিব বিশ্বাস। গত ১৫ই জুলাই রোববার নিউইয়র্কে জ্যাকসন হাইটসের বাংলাদেশ প্লাজায় অনুষ্ঠিত এ সংবর্ধনা সভায় সভাপতিত্ব করেন লেখক ও সংগঠক খান শওকত।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ইসমাইল খান আনসারী, বীর মুক্তিযোদ্ধা নূর এ আজম বাবু, বীর মুক্তিযোদ্ধা মীর মশিউর রহমান, কলামিষ্ট প্রদীপ মালাকার, কলামিষ্ট সিতাংশু গুহ, কলামিষ্ট ড. টমাস দুলু রায়, সাহিত্য একাডেমীর পরিচালক মোশাররফ হোসেন, স্বদেশ ফোরামের সভাপতি অবিনাশ আচার্য্য, মানবাধিকার কমিশনের প্রধান জনার্ধন চৌধুরী, শিল্পকলা একাডেমীর সভানেত্রী মনিকা রায়, তারার আলোর সভানেত্রী মিনা ইসলাম, গাঙচিল সাহিত্য সংস্কৃতি পরিষদের উপদেষ্টা মোঃ আকতার হোসেন, হিউম্যান নেটওয়ার্কের মোঃ লিয়াকত আলী, বাংলাদেশ সোসাইটির কোষাধ্যক্ষ মোহাম্মদ আলী, সাংবাদিক সাবেদ সাথী, জন্মভূমি পত্রিকার সম্পাদক রতন তালুকদার, জনতার কণ্ঠ পত্রিকার সামশুল আলম, বঙ্গবন্ধু থিয়েটারের ডাঃ নার্গিস রহমান, মুন্সিগঞ্জ বিক্রমপুর সমিতির মোঃ শাহাদাত হোসেন, গাঙচিল থিয়েটারের মৌসুমী রহমান, চারুকণ্ঠের ফারজিন রাকিবা এবং বাংলাদেশ মন্দিরের প্রধান পুরোহিত শাস্ত্রজ্ঞ শংকর পারিয়াল ও রুনা পারিয়াল। হেমায়েত হোসেনের বক্তব্যে কবির ৫ খানা বই প্রকাশের প্রতিশ্রুতি দেন এবং কবিকে ২১ শে পদক কিংবা স্বাধীনতা পদক দেবার জন্য সরকার সমীপে দাবি রাখেন।
সঙ্গীত পরিবেশন করেন প্রখ্যাত কণ্ঠশিল্পী কৌশলী ইমা, মনিকা দাস, মৌসুমী রহমান এবং কানিজ আয়শা। কবিতা আবৃত্তি করেন ফাঁসির কবির কাব্য এবং এলিজা বাহার। তবলায় সংযোগ করেন ঋত্বিক পারিয়াল।
অনুষ্ঠানে ২০টি সংগঠনের পক্ষ থেকে কবি নিখিল কুমার রায় এর হাতে ক্রেষ্ট তুলে দেন প্রধান অতিথি কাজী হায়াত। প্রত্যেক সংগঠনের পক্ষ থেকে কবিকে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। বঙ্গবন্ধু থিয়েটার এর পক্ষ থেকে কবিকে বিশেষ সম্মাননা প্রোক্লেমেশান প্রদান করা হয়। কবির প্রকাশিত গ্রন্থ এবং কবিতা নিয়ে আলোচনা করেন: প্রদীপ মালাকার, সনাতন শীল, শিতাংশু গুহ, মিজানুর রহমান, নূরে আলম জিকু, মোঃ হারুন এবং প্রবীর গুণ। নবগঠিত গুনীজণ সম্বর্ধনা পরিষদে প্রবাসের সকল সংগঠনকে ঐক্যবদ্ধ করে ভবিষ্যতে আরও ব্যাপক আয়োজনে দেশ ও প্রবাসের গুণীব্যক্তিদের সংবর্ধনা প্রদানের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। ৫২-এর প্রেরণায় এবং ৭১ এর চেতনায় উজ্জীবিত উত্তর আমেরিকার সকল সামাজিক-সাংস্কৃতিক-সাহিত্য ও সেবামূলক সংগঠনকে পরবর্তী আলোচনার জন্য আগামী ৫ই আগষ্ট বোরবার বিকাল ৫টায় ৭১-২৪ রুজভেল্ট এভিন্যু (দোতলায়) তে উপস্থিত হতে অথবা ৯১৭-৮৩৪-৮৫৬৬, ৬৩১-২৯০-১০৪৫, ৭১৮-৮৮৬-০৩৬৭ অথবা ৯১৭-৪৪০-৬৯৬৪ নং এ যোগাযোগ করতে আহ্বান জানানো হয়েছে। যে ২০টি সংগঠন এই সংবর্ধনার আয়োজন করে: (১) বঙ্গবন্ধু থিয়েটার (২) বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিল, যুক্তরাষ্ট্র (৩) মুক্তিযোদ্ধা সংহতি পরিষদ, যুক্তরাষ্ট্র (৪) গাঙচিল সাহিত্য সংস্কৃতি পরিষদ (৫) স্বদেশ ফোরাম (৬) শিল্পকলা একাডেমী (৭) প্রজন্ম’৭১, যুক্তরাষ্ট্র (৮) সৌখিন নাট্যগোষ্ঠী যুক্তরাষ্ট্র (৯) চারুকণ্ঠ (১০) গোপালগঞ্জ ফাউন্ডেশন অফ নর্থ আমেরিকা (১১) গোলাপগঞ্জ সমিতি (১২) হিউম্যান নেটওয়ার্ক কর্পোরেশন (১৩) প্রবাসী ফাউন্ডেশন ইউএসএ (১৪) এশিয়ান আমেরিকান ফ্রেন্ডসশীপ সোসাইটি (১৫) বাংলাদেশ কমিউনিটি অব আপষ্টেট নিউইয়র্ক (১৬) বাংলাদেশ ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন ইউএসএ (১৭) তারার আলো উইমেনস সোসাইটি ইউএসএ ইন্ক (১৮) বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন ইউএসএ ইন্ক (১৯) গাঙচিল থিয়েটার এবং (২০) কচিকণ্ঠের আসর (ওয়ার্ল্ড চিল্ড্রেন অর্গানাইজেশন)।



