
নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন নাজমুল হুদা
রূপসী বাংলা ঢাকা ডেস্ক রিপোর্ট: আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা। ঢাকা-১৭ আসনে প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন তিনি।
গতকাল শনিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে আপিল শুনানি শেষে সাবেক এই বিএনপি নেতার মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন।
গত ২ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের নির্ধারিত দিনে ব্যারিস্টার নাজমুল হুদার মনোনয়নপত্র বাতিল করেছিলেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। সেদিন তার মনোনয়নপত্র বাতিলের কারণ হিসেবে রিটানিং কর্মকর্তা জানিয়েছিলেন, নাজমুল হুদার কোনও দলের হয়ে নাকি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন সে বিষয়টি মনোনয়ন ফরমে উল্লেখ না থাকায় তার মনোনয়ন বাতিল করা হয়।
পরে ঢাকা-১৭ আসনে নিজের প্রার্থিতা ফিরে পেতে বিধি অনুযায়ী নির্বাচন কমিশনে আপিল করেন তিনি। আপিলে ব্যারিস্টার হুদা নির্বাচন কমিশনকে জানান, তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করতে চান। পরে শুনানি শেষে নির্বাচন কমিশন তার মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করে।
ঢাকা-১৭ আসন (ক্যান্টনমেন্ট, গুলশান, বনানী, ভাসানটেক) থেকে নির্বাচন করার উদ্দেশ্যে গত ৯ নভেম্বর বিকেলে রাজধানীর ধানমণ্ডিতে আওয়ামী লীগের সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয় থেকে একজন প্রতিনিধির মাধ্যমে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন বিএনপির প্রতিষ্ঠাকালীন নেতা ও সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা। তবে এই আসনে চিত্রনায়ক আকবর হোসেন পাঠান ফারুককে চূড়ান্ত মনোনয়ন দিয়েছে আওয়ামী লীগ।
২০১০ সালে বিএনপির সঙ্গে নাজমুল হুদার টানাপড়েন শুরু হলে এক পর্যায়ে তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। সেই বহিষ্কারাদেশের পরও তিনি বিএনপির পরিচয়েই রাজনীতিতে সক্রিয় থাকার চেষ্টা করেন। পরে ২০১২ সালের জুনে নাজমুল হুদা বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগ করেন এবং বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট (বিএনএফ) নামে নতুন একটি দল নিয়ে সামনে আসেন নাজমুল হুদা।
তবে নতুন ওই দলটি বেশিদিন টেকেনি। কয়েক মাসের মধ্যেই ফ্রন্টের আরেক নেতা আবুল কালাম আজাদ দল থেকে নাজমুল হুদাকে বহিষ্কার করেন। এরপর ২০১৪ সালের নভেম্বরে তিনি গঠন করেন বাংলাদেশ মানবাধিকার পার্টি (বিএমপি)। এটিও দীর্ঘস্থায়ী হয় নি। ২০১৫ সালের নভেম্বরে নাজমুল হুদা আসেন নতুন দল নিয়ে। নাম দেন ‘তৃণমূল বিএনপি’। এখন তিনি এই দলের সভাপতি। দলটিকে নিবন্ধন দিতে সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনকে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। এছাড়া বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট অ্যালায়েন্স (বিএনএ) নামের নতুন একটি জোটও রয়েছে তার নেতৃত্বে রয়েছে, যে জোটের সভাপতি তিনি।



