প্রবাস

নয়ন-আলী পরিষদের সাংবাদিক সম্মেলন : অভিযোগ: ইসি পুক্ষপাতদুষ্ট

রূপসী বাংলা প্রবাস ডেস্ক: বাংলাদেশ সোসাইটি ইনক, আসন্ন দ্বি-বার্ষিক নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী ‘নয়ন-আলী’ পরিষদ তাদের দুই সদস্যের প্রার্থী দাবী করার পাশাপাশি সোসাইটির আসন্ন নির্বাচনী কর্মকান্ড পরিচালনায় ইসি’র (নির্বাচন কমিশন)-এর বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ উত্থাপন করেছেন। এই পরিষদের পক্ষ থেকে আরো অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রতিপক্ষ পরিষদের সিনিয়র সহ সভাপতি পদের প্রার্থীর নির্বাচনে নেয়ার কোন সুযোগ নেই। কেননা, তিনি নির্বাচন কমিশনের সদস্য ছিলেন। সোসাইটির বৃহত্তর স্বার্থে তারা এখনো নির্বাচন কমিশনকে সার্বিক সহযোগিতা দিতে চায়, অন্যথায় প্রয়োজনে যা করার তাই করবেন বলে জানান। এক সাংবাদিক সম্মেলনে প্যানেলটির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির নেতৃবৃন্দ এসব কথা বলেন। উল্লেখ্য, মনোনয়ন বাতিল হওয়ার এক প্রার্থীর মনোনয়নপত্রে সমর্থনকারীর স্বাক্ষর, অপর মনোনয়নপত্রে প্রস্তাবকারীর স্বাক্ষর না থাকায় নির্বাচন কমিশন তাদের মনোনয়নপত্র বাতিল করেন।

সিটির জ্যাকসন হাইটসের খাবার বাড়ী রেষ্টুরেন্টের চাংপাই শাখায় গত ২২ সেপ্টেম্বর শনিবার দুপুরে এই সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন নয়ন-আলী পরিষদের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আবু নাসের। বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন উপদেষ্টা আলী ইমাম শিকদার, কাজী আজহারুল ইসলাম মিলন, জামান তপন ও সদস্য সচিব বাবুল চৌধুরী। এছাড়াও অপর কর্মকর্তা আমানত হোসেন আমান উপস্থিত ছিলেন। খবর ইউএনএ’র।

সাংবাদিক সম্মেলনে ‘নয়ন-আলী’ পরিষদ-এর সভাপতি পদপ্রার্থী কাজী আশরাফ হোসেন নয়ন, সোসাইটির সিনিয়র সহ সভাপতি ও বর্তমানে একই পদের প্রার্থী আব্দুর রহীম হাওলাদার, সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী ও সোসাইটির বর্তমান কোষাধ্যক্ষ মোহাম্মদ আলী, সহ সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী মিয়া মোহাম্মদ দুলাল, কোষাধ্যক্ষ পদপ্রার্থী মোহাম্মদ জে খান (ডিউক), সোসাইটির সাংস্কৃতিক সম্পাদক ও একই পদের প্রার্থী মনিকা রায়, কার্যকরী সদস্য পদপ্রার্থী মোহাম্মদ এ সিদ্দিকী প্রমুখ উপস্থিত থাকলেও তারা কোন বক্তব্য রাখেননি।

সাংবাদিক সম্মেলনে স্বাগত বক্তব্যে আলী ইমাম শিকদার বলেন, ‘নয়ন-আলী’ পরিষদের বাতল হওয়া দুই সদস্যের সদস্য পদের প্রার্থীতার জন্য সোসাইটির নির্বাচন কমিশন, কার্যকরী পরিষদ ও ট্রাষ্টিবোর্ড বরাবর পৃথক পৃথক আবেদন করা হয়। এই আবেদনের প্রেক্ষিতে গত ১৬ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত সোসাইটির নির্বাচন কমিশন, কার্যকরী পরিষদ ও ট্রাষ্টিবোর্ড-এর যৌথ সভায় পরবর্তীতে এক সপ্তাহের মধ্যে সভা আহ্বান করে এব্যাপারে চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়ার কথা হয়। কিন্তু সোসাইটির সভাপতি কামাল আহমেদ এই সভা চাননি এবং গত ২১ সেপ্টেম্বর সোসাইটির অফিনে সভা আহ্বান করা হলেও সেখানে কেউ আসেননি, উপরোন্ত সোসাইটির অফিসও খোলা হয়নি। তিনি সোসাইটির সভাপতি ও নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ আনেন।

এরপর সাংবাদিক সম্মেলনে আবু নাসের তার লিখিত বক্তব্যে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন কমিশন কর্তৃক সোসাইটির গঠনতন্ত্রের সাথে অসামঞ্জস্যপূর্ণ ও নির্বাচন কমিশনের বিতর্কিত সিদ্ধান্তে সৃষ্ট জটিলতার কথা উল্লেখ করে বলেন, বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন কমিশন আগামী ২১ অক্টোবর ২০১৮, রোববার নির্বাচনের দিন ঘোষণা করে তফসিল ঘোষণা করেন। তফসিল মোতাবেক ১৯ আগষ্ট মনোনয়নপত্র বিক্রি করা হয়। ২৬ আগষ্ট মনোনয়নপত্র জমা নেয়া হয়। ৩০ আগষ্ট মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন এবং প্রার্থীতার চূড়ান্ত ঘোষণার দিন ৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮ নির্ধারণ করা হয়। সোসাইটির গঠনতন্ত্রের বাইলজ-এর ১৩ ধারায় কোথায়ও প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র আলাদা করে যাচাই-বাছাইয়ের দিন নির্ধারণ করা হয়নি।

নির্বাচন কমিশনের তফসিল মোতাবেক ‘নয়ন-আলী’ পরিষদের পক্ষ থেকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সোসাইটির কার্যকরী পরিষদের ১৯টি পদেই মনোনয়নপত্র দাখিল করা হয়। কমিশনের নির্ধারিত চূড়ান্ত প্রার্থীতা ঘোষণার দিন ৪ সেপ্টেম্বর সোসাইটির অফিসে ‘নয়ন-আলী’ পরিষদের দুজন কার্যকরী সদস্য পদে মনোনয়নপত্র বাতিল করে বোর্ডে নোটিশ টানিয়ে দেয়া হয়। বোর্ডে নোটিশে ‘VOIDED CANDIDATES’ শিরোনামে উল্লেখ করা হয়: ‘ÔAccording to constitution of Bangladesh Society Inc, article XVI by Laws article two section D, E & F and election 2018 by laws section 19. Two incomplete nomination forms for executive member candidates are voided. 01. ZR Chowdhury (Voter # 8547), 02. Ali Akbor (Voter # 1654)

নির্বাচন কমিশন তাদের মনোনয়নপত্র কোন ধারায় বাতিল করেছে লিখলেও, কি কারণে তা Art XVI Section 4. CLAUSES A তা উল্লেখ করেননি, যা তাদের দায়িত্ব ছিলো (নির্বাচন কমিশন বর্ণিত ধারা সংযুক্ত করা হলো)। অপরদিকে অন্য পরিষদের সিনিয়র সহ সভাপতি পদের প্রার্থীতা সোসাইটির গঠনতন্ত্র-এর অৎঃ ঢঠও ঝবপঃরড়হ ৪. ঈখঅটঝঊঝ অ মোতাবেক নির্বাচন কমিশন বাতিল করেননি। ফলে জনমনে আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে যে, বর্তমান নির্বাচন কমিশন পক্ষপাতদুষ্ট। নির্বাচন কমিশন তাদের নিরপেক্ষতা হারিয়েছেন। নির্বাচন কমিশনের এহেন ভূমিকা নজিরবিহীন।

তিনি বলেন, মনোনয়নপত্র বাতিলকৃত দুই জন কার্যকরী সদস্য পদপ্রার্থী সোসাইটির গঠনতন্ত্রের Art IX, (9) Section 7 মোতাবেক কার্যকরী কমিটি, নির্বাচন কমিশন ও ট্রাষ্টিবোর্ড বরাবর পুনর্বিবেচনা ও কার্যকর ব্যবস্থা নেয়ার আবেদন জানিয়ে ব্যর্থ হন। সর্বশেষ গত ১৬ সেপ্টেম্বর রোববার ট্রাষ্টিবোর্ডের চেয়ারম্যান জনাব মোহাম্মদ আজিজ এনলার্জ বোর্ড ও নির্বাচন কমিশনের যৌথ সভায় বিষয়টি উত্থাপন করেন। সভায় সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত হয় যে, পরবর্তী এক সপ্তাহের মধ্যে তিনজন সভাপতি পদপ্রার্থী, নির্বাচন কমিশন ও ট্রাষ্টিবোর্ডের যৌথ সভা হবে। সেই প্রেক্ষিতে গত ২১ সেপ্টেম্বর শুক্রবার সোসাইটি অফিসে সভা আয়োজন করা হয়। কিন্তু এদিন সভার নির্ধারিত সময়ে সোসাইটির অফিস বন্ধ ছিলো এবং দ্বায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের ফোনে বার বার যোগাযোগ করেও পাওয়া যায়নি। ফলে যৌথ সভা করা সম্ভব হয়নি। আরেকটি বিষয় আপনাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলতে চাই যে, ইতিপূর্বে সোসাইটির নির্বাচনে সকল ভোটারকে কার্যকরী পরিষদের পক্ষ থেকে চিঠি (পত্র) দিয়ে ভোটার হওয়ার কথা জানানো হলেও এবারই প্রথম ভোটারদের চিঠি দেয়া হয়নি। Art 7, Section 3) I (Election by law Art 1 Section A. এতে সোসাইটির গঠনতন্ত্র লংঘন করা হয়েছে।

আবু নাসের বলেন, বিষয়গুলো সম্মানিত ভোটারদের অবহিত করতেই আমরা আজকের সংবাদ সম্মেলন করতে বাধ্য হয়েছি। আমরা ‘নয়ন-আলী’ পরিষদের পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনকে সার্বিক সহযোগিতা করতে চাই। আমরা মনে করি, নির্বাচন কমিশন যে দুজন কার্যকরী সদস্য পদ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করেছেন, তা সোসাইটির গঠনতন্ত্র পরিপন্থী এবং নির্বাচন কমিশনের বর্ণিত ধারার সাথে অসামঞ্জস্যপূর্ণ। অপরদিকে অপর পরিষদের সিনিয়র সহ সভাপতি পদপ্রার্থীর মনোনয়নপত্র দাখিলও অগঠনতান্ত্রিক এবং অনৈতিক। ফলে আমরা আশা করি নির্বাচন কমিশন বিষয়গুলো গুরুত্ব দিয়ে সৃষ্ট সমস্যা সমাধানে দ্রুত কার্যকর ভূমিকা নেবেন এবং আসন্ন নির্বাচন নিরপেক্ষভাবে সম্পাদনের নিশ্চয়তা প্রদান করবেন। আমরা ‘নয়ন-আলী’ পরিষদের ঐ দুই সদস্যের প্রার্থীতা চাই। তিনি বলেন, সবার অংশগ্রহণে সোসাইটির নির্বাচন সুন্দর, স্বার্থক হবে এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে আবু নাসের বলেন, নির্বাচন কমিশন স্পষ্টতই তাদের কর্মকান্ডে সোসাইটির গঠনতন্ত্র লংঘন করে চলেছেন এবং পক্ষপাতিত্ব করছেন। যা কাম্য নয়। এক প্রশ্নের উত্তরে কাজী আজহারুল হক মিলন বলেন, যৌথ সভার জন্য ট্রাষ্টি বোর্ডের সদস্য হিসেবে আমাকে দায়িত্ব দেয়া হওলেও পরিকল্পিতভাবে শুক্রবারের (২১ সেপ্টেম্বর) সভা ভন্ডুল করা হয়েছে। এসময় তিনি ১৬ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত যৌথ সভার বিস্তারিত তুলে ধরেন।

অপর এক প্রশ্নের উত্তরে জামান তপন বলেন, সোসাইটির সাবেক নির্বাচন কমিশনার হিসেবে অভিজ্ঞতার আলোকে বলতে পারি নির্বাচন কমিশন বুঝেই হোক আর না বুঝেই হোক সোসাইটির গঠনতন্ত্র লংঘন করে চলেছেন। তিনি বিভিন্ন ধারার কথা উল্লেখ করে বলেন, নির্বাচনী তফসিলে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাছাই-বাছাইর তারিখ ছিলো না। আবার পত্র দিয়ে সদস্যদের ভোটার নিশ্চিত হওয়ার কথাও জানানো হয়নি। এসব গঠনতন্ত্রের লংঘন। বাবুল চৌধুরী বলেন, আমরা সময় দিচ্ছি। ২৪ সেপ্টেম্বর সোমবার নির্বাচন কমিশন প্রার্থীদের সাথে মতবিনিময় সভা আহ্বান করেছেন। এই সময়ের মধ্যে নির্বাচন কমিশন ‘নয়ন-আলী’ পরিষদের দুই সদস্যের প্রার্থীতা ঘোষণা করে নিরপেক্ষভাবে নির্বাচন পরিচালনার পথ তৈরী করতে পারেন। অন্যথায় যা করার আমরা চাই করবো।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension