প্রধান খবরবাংলাদেশ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দক্ষিণ এশিয়ায় সবচেয়ে ক্ষমতাধর নারীঃ ফোর্বস

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দক্ষিণ এশিয়ায় সবচেয়ে ক্ষমতাধর নারী। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রভাবশালী সাময়িকী ফোর্বস শুক্রবার বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর ১০০ নারীর তালিকায় এই তথ্য প্রকাশ করেছে। তালিকা অনুযায়ী ২৯তম অবস্থানে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গত বছর ফোর্বসের এই তালিকায় ২৬তম ছিলেন শেখ হাসিনা এবং ২০১৭ সালে ছিলেন ৩০তম। দক্ষিণ এশিয়ায় তার পরেই আছেন ভারতের অর্থমন্ত্রী নির্মলা সিতারমন। তালিকায় তার অবস্থান ৩৪তম। শেখ হাসিনা নিউজিল্যান্ডের আলোচিত প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আর্ডেন (৩৮) ও ব্রিটেনের রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথের (৪০) চেয়েও ক্ষমতাধর নারী।

শেখ হাসিনা সম্পর্কে ফোর্বস লিখেছে, তিনি বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি সময় ধরে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন। বর্তমানে চতুর্থবারের মতো প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। সাময়িকীটি লিখেছে, সর্বশেষ নির্বাচনে ৩০০টির মধ্যে আওয়ামী লীগ ২৮৮টি আসন পাওয়ার পর টানা তৃতীয়বারের মতো ক্ষমতায় আসেন শেখ হাসিনা। বর্তমানে খাদ্য নিরাপত্তার পাশাপাশি শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ করছেন তিনি। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী সম্পর্কে আরো বলা হয়েছে, ‘একটা শক্তিশালী গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লড়াইও চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।’ এ ছাড়া শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগ নির্বাচনে ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ শুরু থেকেই অস্বীকার করে আসছেন বলে ফোর্বসের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ফোর্বসের তালিকায়ও এবারও শীর্ষে রয়েছেন জার্মানির চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেল। তিনি নয় বছর ধরে সবচেয়ে ক্ষমতাধর নারীর অবস্থানটি ধরে রেখেছেন। এবারও তালিকার শীর্ষে আছেন জার্মানির চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মার্কেল। এ নিয়ে টানা ১০ বারের মতো শীর্ষস্থান ধরে রেখেছেন তিনি। এবারের তালিকায় শীর্ষ চার ক্ষমতাধর নারীর সবাই রাজনীতিক। দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্, পঞ্চম ও ষষ্ঠ স্থানে রয়েছেন যথাক্রমে ইউরোপিয়ান সেন্ট্রাল ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট ক্রিস্টিন লাগার্দে, যুক্তরাষ্ট্রের হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসের (পার্লামেন্টের নিম্ন কক্ষ) স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি, ইউরোপিয়ান কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন দের লিয়েন, যুক্তরাষ্ট্রের জেনারেল মটরসের প্রধান নির্বাহী মেরি বারা ও মেলিন্ডা গেটস।

মোট সাতটি প্রজন্মের নারীরা স্থান পেয়েছেন এবারের তালিকায়। এঁদের মধ্যে ১৬ বছর বয়সী পরিবেশ আন্দোলনকারী গ্রেটা থানবার্গও আছে, যে তালিকায় স্থান পাওয়া নারীদের মধ্যে সবচেয়ে কম বয়সী। তালিকায় সবচেয়ে বেশি স্থান পেয়েছেন উত্তর আমেরিকার নারী, ৫০ জন। এরপর আছেন যথাক্রমে এশিয়া প্যাসিফিক (২১), ইউরোপ (১৮), যুক্তরাজ্য (৫), মধ্যপ্রাচ্য (৩), লাতিন আমেরিকা (২) ও আফ্রিকার (১) নারী। এঁদের মধ্যে ২৩ নারী এবার প্রথমবারের মতো তালিকায় স্থান পেয়েছেন।

তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী টেরেসা মে। রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথ ১৫ ধাপ পিছিয়ে আছেন ৩৮তম স্থানে। ১৮ ধাপ পিছিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের মেয়ে ইভানকার অবস্থান ৪২তম এবং টেনিস তারকা সেরেনা উইলিয়ামসের (৮১) নামও রয়েছে তালিকায়।

ব্যক্তিগত ক্যারিয়ার, অর্থনীতি ও রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তারের ক্ষমতা, গণমাধ্যমে পারফরম্যান্স বিবেচনা করে বিশ্বের ১০০ জন ক্ষমতাধর নারীর তালিকা করে মার্কিন ওই সাময়িকী।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension