
প্রোটিয়াদের কাছে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় শ্রীলঙ্কার
রূপসী বাংলা স্পোর্টস ডেস্ক : বিশ্বকাপ থেকে ছুটি হয়ে গেল ১৯৯৬-এর বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের৷ শুক্রবার চেস্টার লে স্ট্রিটে লঙ্কাবাহিনীকে হারিয়ে সম্মানের লড়াই জিতল প্রোটিয়াবিগ্রেড৷ ফলে আফগানিস্তান, দক্ষিণ আফ্রিকা ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের পর বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিল শ্রীলঙ্কা৷
বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ওঠার আশা জিইয়ে রাখতে এদিন লিগ টেবলে ‘সেকেন্ড লাস্ট বয়’ দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে জিততেই হত শ্রীলঙ্কাকে৷ কিন্তু লড়াইয়ের মতো স্কোরবোর্ডে রান তুলতে পারেননি লঙ্কান ব্যাটসম্যানরা৷ ‘ডু অর ডাই’ ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার সামনে মাত্র ২০৪ রানের টার্গেট রেখেছিল দ্বীপরাষ্ট্র৷ মাত্র এক উইকেট হারিয়ে হাসতে হাসতে ম্যাচ জিতে নেয় দক্ষিণ আফ্রিকা৷
রান তাড়া করতে নেমে ইনিংসের পঞ্চম ওভারে কুইন্টন ডি’ ককের উইকেট হারালেও ম্যাচ জিততে বেগ পেতে হয়নি প্রোটিবাহিনীকে৷ কারণ দ্বিতীয় উইকেটে ফ্যাফ ডু’প্লেসি ও হাশিম আমলার দেড়শতরানের পার্টনারশিপে সহজেই ম্যাচ জিতে নেয় দক্ষিণ আফ্রিকা৷ লঙ্কান বোলারদের বিরুদ্ধে হাফ-সেঞ্চুরি করেন দুই প্রোটিয়া ব্যাটসম্যানই৷ ডু’প্লেসি ৯২ ও আমলা ৮০ রানে অপরাজিত থাকেন৷ অফ-ফর্মে থাকা হামলা যখন ফর্মে ফিরলেন ততক্ষণে বিশ্বকাপ থেকে ছুটি হয়ে গিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার৷
শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে মাঠে নামার আগে ৭ ম্যচে একটি মাত্র জয় পেয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা৷ পাঁচটিতে হার এবং একটি বৃষ্টির জন্য পরিত্যক্ত হয়৷ কেনিংটন ওভালে ইংল্যান্ডের কাছে হার দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করে প্রোটিয়াবাহিনী৷ এরপর বাংলাদেশ ও ভারতের কাছে হেরে হারের হ্যাটট্রিক করে ডু’প্লেসি-আমলারা৷ তারপর ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে ডু’প্লেসিদের ম্যাচ বৃষ্টির জন্য পরিত্যক্ত হয়৷ কিন্তু আফগানদের বিরুদ্ধে জয়ের স্বাদ পেলেও পরের দু’টি ম্যাচে নিউজিল্যান্ড ও পাকিস্তানের কাছে হেরে ‘চোকার্স’ হওয়ার আগেই বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেয় প্রোটিয়াবাহিনী৷
অন্য দিকে, আগের ম্যাচে আয়োজক ইংল্যান্ডকে হারিয়ে বিশ্বকাপে চমক দিয়েছিল লঙ্কাবাহিনী৷ তাই দ্বিমুথ-মালিঙ্গাদের উপর অগাধ আস্থা রেখেছিল লঙ্কা ফ্যানেরা৷ কিন্তু সমর্থকদের আস্থার মর্যাদা দিতে পারেননি দ্বীপরাষ্ট্রের ক্রিকেটাররা৷ এদিন রিভারসাইড গ্রাউন্ডে ব্যাটিং বিপর্যয় কাটিয়ে প্রোটিয়াদের বিরুদ্ধে বড় রান তুলতে পারেনি লঙ্কা ব্যাটসম্যানরা৷ প্রোটিয়া পেসারদের বিরুদ্ধে মাত্র ২০৩ রানে গুটিয়ে যায় লঙ্কাবাহিনী৷
চেস্টার লে স্ট্রিটে টস জিতে শ্রীলঙ্কাকে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন প্রোটিয়া অধিনায়ক৷ ম্যাচের প্রথম বলেই লঙ্কা ক্যাপ্টেন দ্বিমুথ করুণারত্নকে ড্রেসিংরুমের রাস্তা দেখিয়ে প্রোটিয়াদের স্বপ্নের শুরু দেন কাগিসো রাবাদা৷ এরপর নিয়মিত উইকেট হারাতে থাকে লঙ্কাবাহিনী৷ তবে রাবার থেকেও এদিন বল হাতে ভয়ংকর ছিলেন প্রিটোরিয়াস৷ ১০ ওভারে মাত্র ২৫ রান দিয়ে লঙ্কা ইনিংসের তিনটি উইকেট তুলে নেন বছর তিরিশের ডানহাতি পেসার৷
লঙ্কা ইনিংসের সর্বোচ্চ স্কোর ৩০৷ কুশল পেরেরা ও অভিষ্কা ফানার্ন্ডেজ দু’জনেই ৩০ রান করে করেন৷ দ্বিতীয় সর্বোচ্চ স্কোর ধনঞ্জয় ডি’সিলভার ২৪৷ এছাড়া ২৩ রান করেন কুশল মেন্ডিস৷ লঙ্কা ইনিংসে কোনও ব্যাটসম্যানই ৩০ রানের গণ্ডি টপকাতে পারেননি৷ প্রিটোরিয়াস ছাড়াও মরিস তিনটি এবং রাবাদা দু’টি উইকেট নেন৷ এই জয়ের ফলে ৮ ম্যাচে পাঁচ পয়েন্ট নিয়ে আট নম্বরে রইল দক্ষিণ আফ্রিকা৷ ডু’প্লেসিদের শেষ ম্যাচ অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে৷



