খেলা

ফাইনালে কুমিল্লা

রূপসী বাংলা স্পোর্টস ডেস্ক : রংপুর রাইডার্সকে হেসে-খেলে হারিয়ে বিপিএল ষষ্ঠ আসরের ফাইনালে উঠে গেল কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। তবে এই ম্যাচ হারলেও অবশ্য আরেকটি সুযোগ পাবে মাশরাফিরা।

সোমবার মিরপুরে শেরে বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে রংপুরকে ৮ উইকেট আর ৭ বল হাতে রেখে হারিয়েছে কুমিল্লা।

রংপুর রাইডার্সের বিপক্ষে ১৬৬ রানের টার্গেটে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই উইকেট হারায় কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। দলীয় ৩৫ রানে ফেরেন দেশসেরা ওপেনার তামিম ইকবাল।

এরপর তিনে ব্যাটিংয়ে নামা এনামুল হক বিজয়কে সঙ্গে নিয়ে ৯০ রানের জুটি গড়ে দলকে জয়ের কাছাকাছি নিয়ে যান ইভিন লুইস। এই জুটিতেই ফিফটি তুলে নেন লুইস। চট্টগ্রামে খুলনা টাইটানসের বিপক্ষে সেঞ্চুরি করা লুইস, সোমবার ফরহাদ রেজাকে ছক্কা হাঁকিয়ে ৪২ বলে ফিফটি পূর্ণ করা লুইস শেষ পর্যন্ত ৫৩ বলে তিন ছয় ও পাঁচটি চারের সাহায্যে ৭১ রানে অপরাজিত থাকেন।

শফিউল ইসলামের বলে বোল্ড হয়ে ফেরেন এনামুল হক বিজয়। তার আগে ৩২ বলে দুই চার ও সমান ছক্কায় ৩৯ রান করেন বিজয়।

এর আগে প্রথম কোয়ালিফায়ার ম্যাচে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ে নেমে ৫ উইকেটে ১৬৫ রান সংগ্রহ করে রংপুর রাইডার্স। দলের হয়ে ২৮ বলে পাঁচটি ছয় এবং তিনটি চারের সাহায্যে সর্বোচ্চ ৫৩ রান করেন বেনি হাওয়েল। এছাড়া ৪৬ ও ৪৪ রান করেন ক্রিস গেইল ও রাইলি রশো।

এদিন মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে প্রথমে ব্যাটিংয়ে নেমে দলীয় ১৭ রানেই ওপেনার মেহেদি মারুফের উইকেট হারায় রংপুর। এরপর ভুল বোঝাবুঝির কারণে রান আউট হয়ে ফেরেন মোহাম্মদ মিঠুন।

ইনিংসের ষষ্ঠ ওভারে সঞ্জিতের শর্ট অপ লেন্থ বলে স্কয়ার লেগে ঠেলে দিয়ে সিঙ্গেল নেয়ার চেষ্টা করেন রংপুরের দুই ব্যাটসম্যান গেইল ও মিঠুন। উইকেটের মাঝ পথে গিয়ে দু’জনই ভুল বোঝাবুঝির কারণে রান নেবেনে কি নেবেন না এটা ভেবে থেমে যান। আবার দৌড় শুরু করেন।

ভুল বোঝাবুঝির কারণে প্রথমে রান আউট হন মিঠুন। তাৎক্ষণিক আউট নিশ্চিত না হতে পেরে অপর প্রান্তে বল থ্রো করেন উইকেটকিপার এনামুল হক বিজয়। ঐ প্রান্তে দাঁড়িয়ে থাকা তামিম ইকবাল স্টাম্প ভেঙ্গে দেন। রিভিউতে দেখা যায় দুই প্রান্তেই মিঠুন এবং গেইল দু’জনই আউট হন। কিন্তু রীতি অনুযায়ী এক বলে একজনের আউটের রেওয়াজ থাকায় প্রথমে আউট হওয়া মিঠুনই সাজঘরে ফেরেন।

দুইবার লাইফ পেয়েও বড় ইনিংস খেলতে পারেননি ক্রিস গেইল। ব্যক্তিগত ২৯ রানে সঞ্জিত সাহার বলে ভুল বোঝাবুঝির কারণে রান আউট থেকে বাঁচেন গেইল। ১০ম ওভারে আবারও সঞ্জিত সাহার বলে ডিপ স্কয়ার লেগে ক্যাচ তুলে দেন গেইল।

মেহেদী হাসানের কল্যাণে ৪৬ রানে দ্বিতীয় দফায় লাইফ পান। দুইবার লাইফ পেয়েও নিজের ইনিংসটা বড় করতে পারেননি। এরপর আর কোনো রান যোগ করার আগেই ক্যাচ ছেড়ে দেয়া মেহেদীর বলে আউট হন গেইল। সাজঘরে ফেরার আগে ৪৪ বলে ছয়টি চার ও এক ছক্কায় ৪৬ রান করেন রংপুরের এই তারকা ব্যাটসম্যান।

পাঁচ নম্বর পজিশনে ব্যাটিংয়ে নেমে মাত্র ৩ রানে ফেরেন রবি বোপারা। পঞ্চম উইকেটে বেনি হাওয়েলকে সঙ্গে নিয়ে ৭০ রানের জুটি গড়েন রাইলি রুশো। ইনিংস শেষ হওয়ার ৭ বল আগে ক্যাচ তুলে ফেরেন রুশো। তার আগে ৩১ বলে চারটি চার ও দুটি ছক্কায় ৪৪ রান করেন রুশো। শেষ বল পর্যন্ত খেলে যাওয়া বেনি হাওয়েলের ২৮ বলের অপরাজিত ৫৩ রানে ভর করে ১৬৫ রান তুলতে সক্ষম হয় রংপুর রাইডার্স।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension