
ফের হাসপাতালে জিমি কার্টার
রূপসী বাংলা আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টার ফের হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। মূত্রনালীর সংক্রমণের জন্য তিনি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন বলে জানা যায়।
শারীরিক অসুস্থতার কারণে গত মাসের গোড়ার দিকে আরো একবার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিলেন এই ডেমোক্রেট নেতা। মস্তিষ্কে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে গত ১১ নভেম্বর তাকে আটলান্টার একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। সে সময় তার অস্ত্রোপচার সফল হয়। সেখানে চিকিৎসা সেবা শেষে গত সপ্তাহে হাসপাতালে বাড়ি ফেরেন সাবেক এই মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বয়স্ক জীবিত প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টার। তার বর্তমান বয়স ৯৫ বছর। হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার আগে তিনি ৯২ বছর বয়সী স্ত্রী রোসালিনের সঙ্গে অবসর সময় কাটাচ্ছিলেন তিনি।
কার্টার সেন্টারের তরফ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তাকে জর্জিয়ার আমেরিকাসের ফোয়েবে সামটার মেডিকেল সেন্টারে ভর্তি করা হয়েছে। তবে তার অবস্থা এখন আগের চেয়ে অনেকটাই ভালো এবং তিনি খুব শিগগিরই বাড়ি ফিরতে পারবেন বলেও আশা প্রকাশ করা হয়েছে।
গত অক্টোবরের গোড়ার দিকে আরো একবার পড়ে গিয়েছিলেন ৯৫ বছর বয়সী কার্টার। তখন তার মুখে সেলাইয়ের প্রয়োজন হয়েছিল। গত মে মাসেও তিনি মাটিতে পড়ে গেলে তার নিতম্বের হাড় ভেঙে যায়। এজন্য অপারেশনের টেবিলেও যেতে হয় তাকে।
এর আগে ২০১৭ সালে পানি শূন্যতার কারণে তাকে আরও একবার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। তার আগে ২০১৫ সালে স্কিন ক্যান্সারের চিকিৎসা নেন তিনি।
একজন বাদাম চাষী হিসেবে তার প্রথম কর্মজীবন শুরু করেছিলেন জিমি কার্টার। পরবর্তীতে জর্জিয়ার গভর্নর হন। ১৯৭৬ সালে রিপাবলিকান দলীয় প্রেসিডেন্ট জেরাল্ড ফোর্ডকে হারিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ৩৯তম প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন তিনি। হোয়াইট হাউসে চার ব্ছরের জন্য যান তিনি। জিমি কার্টারের শাসনামলে মার্কিন অর্থনীতিতি মন্দা নেমে আসে, দেখা দেয় জ্বালানি সংকট। তবে ইসরায়েল-মিসরের শান্তি চুক্তিতে গুরুত্বপূর্ণ পালন করেন তিনি।
১৯৮০ সালে আবারও মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন তিনি। কিন্তু সেবার রিপাবলিকান দলের প্রেসিডেন্ট প্রার্থী রোনাল্ড রিগানের কাছে হেরে যান তিনি। হোয়াইট হাউস ছাড়ার পর ১৯৮১ সালে বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় বিভিন্ন ধরনের উদ্যোগ নেন জিমি কার্টার।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পুরোনো সংঘাতের অবসান, গণতন্ত্র, মানবাধিকারের লড়াই, অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে অবদান রাখায় ২০০২ সালে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পান সাবেক এই মার্কিন প্রেসিডেন্ট।



