অর্থনীতি ও বাণিজ্যবাংলাদেশ

বাংলাদেশে বৈদেশিক অর্থের খরচ বাড়ছে

করোনা মহামারীর ধাক্কা সামলিয়ে ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড। বাড়ছে বৈদেশিক অর্থের ব্যবহার। কোভিড-১৯ এর কারণে সবকিছুই স্থবির থাকায় আশঙ্কাজনক হারে কমে গিয়েছিল প্রকল্প বাস্তবায়নে বৈদেশিক অর্থ খরচ।

কিন্তু সে অবস্থার পরিবর্তন হওয়া শুরু হয়েছে। চলতি অর্থবছরের চার মাসে (জুলা-অক্টোবর) বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আওতায় বৈদেশিক অর্থ ব্যয় হয়েছে বরাদ্দের ১১ দশমিক ৭৫ শতাংশ। যা গত অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ১০ দশমিক ৬৪ শতাংশ। এই চার মাসে মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো খরচ করেছে ৮ হাজার ২৮৪ কোটি টাকা।

গত অর্থবছরে খরচ হয়েছিল ৭ হাজার ৬৩৭ কোটি টাকা। এক্ষেত্রে তুলনামূলক ব্যয় বেড়েছে ৬৪৭ কোটি টাকা। তবে সার্বিকভাবে এডিপি বাস্তবায়নের হার এখনও গত চার বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়েই রয়েছে।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) অগ্রগতি প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে পাওয়া গেছে এসব তথ্য।

আইএমইডি’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত চলতি অর্থবছরের তিন মাসে বৈদেশিক সহায়তার অর্থ ব্যয় ছিল সাত দশমিক ৭৪ শতাংশ। এ সময় মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো ব্যয় করতে পেরেছিল পাঁচ হাজার ৪৫৮ কোটি টাকা। গত অর্থবছরের একই সময়ে ব্যয়ের এ হার ছিল পাঁচ দশমিক ৮৯ শতাংশ। সেই সময়ে ব্যয় হয়েছিল চার হাজার ২২৬ কোটি টাকা।

তুলনামূলক পর্যালোচনায় দেখা গেছে, চলতি অর্থবছরের গত তিন মাসের চেয়ে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) এক মাসে (অক্টোবর) বৈদেশিক অর্থ ব্যয় বেড়েছে চার দশমিক ০১ শতাংশ। টাকার অঙ্কে বেড়েছে দুই হাজার ৮২৬ কোটি টাকা। এছাড়া চলতি অর্থবছরের দুই মাসে (জুলাই-আগস্ট) বৈদেশিক অর্থ ব্যয় হয়েছিল ৩ দশমিক ১৯ শতাংশ। এ সময় খরচ হয় দুই হাজার ২৫২ কোটি টাকা। আর শুধু জুলাই মাসে বৈদেশিক অর্থব্যয় হয় দুই দশমিক ০৫ শতাংশ। এ সময় মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো খরচ করতে পেরেছে এক হাজার ৪৪৫ কোটি টাকা।

প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, এডিপির আওতায় বৈদেশিক অর্থ ব্যবহারে এগিয়ে রয়েছে জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগ। চলতি অর্থবছরের এডিপিতে এ বিভাগের অনুকূলে বৈদেশিক সহায়তা বরাদ্দ আছে ৭৬২ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। গত চার মাসে ব্যয় হয়েছে ৫শ’ কোটি ৪৭ লাখ টাকা।

অগ্রগতি দাঁড়িয়েছে ৬৫ দশমিক ৬২ শতাংশ। এছাড়া দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। এ বিভাগে বরাদ্দ আছে সাত কোটি ২৩ লাখ টাকা। ব্যয় হয়েছে চার কোটি ৫৪ লাখ টাকা, অগ্রগতি ৬২ দশমিক ৮৬ শতাংশ। তৃতীয় অবস্থানে থাকা পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের (থোকসহ) বরাদ্দ ৬৯ কোটি টাকা। ব্যয় হয়েছে ২৯ কোটি ৮৫ লাখ টাকা, অগ্রগতি হয়েছে ৪৩ দশমিক ২৭ শতাংশ।

পঞ্চম অবস্থানে থাকা গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অনুকূলে বরাদ্দ আছে ৭৩ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। গত চার মাসে ব্যয় হয়েছে ৩১ কোটি ৮ লাখ টাকা, অগ্রগতি ৪২ দশমিক ৩৭ শতাংশ। পঞ্চম অবস্থানে থাকা আইএমইডির অনুকূলে বরাদ্দ আছে ৮৬ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। ব্যয় হয়েছে ৩৩ কোটি ৬৭ লাখ টাকা, অগ্রগতি দাঁড়িয়েছে ৩৮ দশমিক ৯৬ শতাংশ।

অন্যদিকে এডিপির আওতায় বৈদেশিক অর্থব্যয়ের পিছিয়ে থাকার ১০ মন্ত্রণালয় ও বিভাগ হচ্ছে, ভূমি মন্ত্রণালয় এক টাকায়ও খরচ করতে পারেনি। এছাড়া একই অবস্থা ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ, সুরক্ষা ও সেবা বিভাগ, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের। তবে জননিরাপত্তা বিভাগের অগ্রগতি শূন্য দশমিক ০৩ শতাংশ। অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ শূন্য দশমিক ৪০ শতাংশ। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় (থোক বরাদ্দসহ) শূন্য দশমিক ৭৪ শতাংশ। আইন ও বিচার বিভাগ ১ দশমিক ১৪ শতাংশ এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বৈদেশিক অর্থ ব্যয়ের অগ্রগতি দাঁড়িয়েছে ১ দশমিক ২৭ শতাংশ।❐

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension