
বিজয়ের দিনলিপি- ১১ ডিসেম্বর ১৯৭১
লেফটেন্যান্ট জেনারেল নিয়াজি ঢাকা বিমানবন্দরে অ্যান্টি এয়ারক্র্যাফট্ গান পরিদর্শন করেন। সেখানে তিনি তার সেনাবাহিনীকে বলেন, যে কোনও মূল্যে যৌথবাহিনীকে প্রতিরোধ করার আদেশ দেন। কোনক্রমেই শত্রুকে কাছে ঘেঁষতে দেয়া চলবে না। করবে।তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, পাকিস্তানি সেনাবাহিনী তাদের ঐতিহ্যকে আরো উজ্জ্বল ও বীরত্বকে মহিমান্বিত করবে। পরে তিনি আন্তর্জাতিক সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন।
যুক্তরাষ্ট্র ভারত ও পাকিস্তান, উভয়কেই জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের যুদ্ধ বিরতির প্রস্তাব মেনে নিতে চাপ প্রয়োগ করে। হোয়াইট হাউজের মুখপাত্র রোনাল্ড জিগলার বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সন তার নিরাপত্তা বিষয়ক উপদেষ্টা হেনরি কিসিঞ্জারের সঙ্গে পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করছেন।
যৌথবাহিনী হিলি সীমান্তে প্রচণ্ড প্রতিরোধের সম্মুখীন হয়। তারা বগুড়া-রংপুর মহাসড়কের গোবিন্দগঞ্জে পাকিস্তানি ঘাঁটিতে সাঁড়াশি আক্রমণ চালায়। পরদিন ভোরে পাকিস্তানি সৈন্যরা আত্মসমর্পণ করে।
জামালপুর গ্যারিসন যৌথবাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করে। হালুয়াঘাটে পাকিস্তানিদের একটি ব্রিগেড প্রচন্ড রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর পালাতে শুরু করে। তারা টাঙ্গাইলের দিকে ফেরার সময় অনেক সেতু ধ্বংস করে দেয়। আরেকটি পাকিস্তানি ব্রিগেড ময়মনসিংহ ছেড়ে পালিয়ে যায় এবং তাদের নিজস্ব ঘাঁটিতে আশ্রয় নেয়। যৌথবাহিনী রাতের মধ্যেই কোনও রকম প্রতিরোধ ছাড়াই জামালপুরের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়।
ঢাকা থেকে বিদেশি নাগরিকদের অপসারণের লক্ষ্যে জাতিসংঘের অনুরোধে যৌথবাহিনী সাময়িকভাবে বিমান হামলা বন্ধ করে। পাকিস্তানের মেজর জেনারেল রাও ফরমান আলী ঢাকা থেকে পাকিস্তানিদের উদ্ধারের জন্যে জরুরি যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানান।
পাকিস্তান সেনাবাহিনীর একজন মুখপাত্র বলেন, যদিও পূর্বাঞ্চলের পরিস্থিতি খুব ভালো নয়, তারপরও পাকিস্তানি সেনাবাহিনী কখনই আত্মসমর্পণ করবে না এবং এটা নিয়ে প্রশ্নই ওঠে না। ঢাকায় বেলা ৩টায় সান্ধ্য আইন জারি করা হয়।
যশোরের মুক্ত এলাকায় অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম ও প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ এক বৈঠক কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের সঙ্গে বাংলাদেশ সরকার ওয়ার ট্রাইব্যুনাল গঠনের ঘোষণা দেন। প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ বলেন, ইয়াহিয়া খান বাঙালি জাতিকে ধ্বংস করতে চেয়েছিল। কিন্তু তারা তা পারল না।
মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের সৌজন্যে ইংরেজি থেকে অনূদিত- মুখা।



