
বিজয়ের দিনলিপি- ৩ ডিসেম্বর ১৯৭১
স্বাধীনতা যুদ্ধ পাকিস্তান আক্রমনের মধ্য দিয়ে পশ্চিম সীমান্তে আকাশ ও স্থলে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর বাংলাদেশ ও ভারতের যৌথ বাহিনী সীমান্ত এলাকায় অপারেশন শুরু করে। ভারতীয় বাহিনী সাতটি পয়েন্ট থেকে বাংলাদেশে প্রবেশ করে এবং সর্বশক্তিতে পাকিস্তানি আর্মি বেইজে আক্রমণ করে।
ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী কোলকাতা সফর সংক্ষিপ্ত করেন এবং দিল্লি ফিরে আসেন। বেতারে জাতির উদ্দেশ্যে এক ভাষণে তিনি বলেন, ভারতের বিরুদ্ধে পরিচালিত সকল আক্রমণ পাকিস্তান পরিচালনা করছে। জাতি যে কোনও মুল্যে এটা মোকাবেলা করবে।
পূর্ব ও পশ্চিমের মধ্যকার পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইনস (পিআইএ) এর সকল ফ্লাইট বাতিল করা হয়। সামরিক জান্তা ঢাকায় কারফিউ ও ব্ল্যাকআউট জারি করে।
আমেরিকান সিনেটর উইলিয়াম স্যাক্সবি রাওয়ালপিন্ডিতে সাংবাদিকদের বলেন যে, তিনি অনেকবার চেষ্টা করার পরও নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ নেতা শেখ মুজিবের সঙ্গে দেখা করতে পারেন নি।
ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সরন সিং নয়া দিল্লীর সংসদ অধিবেশনে বলেন যে, বাংলাদেশে পাকিস্তানিদের অত্যাচার বন্ধের জন্য ভারত যুক্তরাষ্ট্র এবং আরও কয়েকটি দেশকে বোঝানোর চেষ্টা করছে, কিন্তু কোনও লাভ হচ্ছে না। ভারতে আশ্রয় নিতে আসা বাংলাদেশি শরণার্থীদের অনুপ্রবেশে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী বাধা দিচ্ছে এবং সীমান্ত এলাকায় ভারতের নিরাপত্তাকে হুমকি দিচ্ছে।
চতুর্থ এবং দশম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট ফেনী থেকে অগ্রসর হয়ে রেজুমিয়া ব্রিজে পৌঁছে। এক নম্বর সেক্টরের অধিনায়ক তার বাহিনী নিয়ে তাদের সঙ্গে যোগ দেন। যৌথ বাহিনী চট্টগ্রামের মুহুরি নদী ও ফেনী-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ধরে অগ্রসর হয়।
মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের সৌজন্যে ইংরেজি থেকে অনূদিত -মুখা।



