
বিধানসভা নির্বাচন: মিজোরামে শান্তিপূর্ণ ভোট
ভারতের ছত্তিশগড় ও মিজোরামে গতকাল মঙ্গলবার বিধানসভার ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এদিন ছত্তিশগড়ে প্রথম দফার ভোটের দিনই মাওবাদীরা হামলা চালায়। অন্যদিকে মিজোরামে শান্তিপূর্ণভাবেই ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়। মাওবাদী হামলার আতঙ্কের মধ্যে ছত্তিশগড়ে গতকাল ৯০ আসনের মধ্যে ২০টিতে ভোটগ্রহণ হয়।
এই দফায় ২২৩ জন প্রার্থীর ভাগ্য নির্ধারিত হবে। ভোটের দিনই রাজ্যটির মাওবাদী প্রভাবিত সুকমা জেলায় সহিংসতার খবর মেলে। সুকমা জেলার কোন্টা এলাকায় ভোটগ্রহণ কেন্দ্রের বাইরে নিরাপত্তারক্ষীদের লক্ষ্য করে মাওবাদীরা গুলি ছুড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। জেলা রিজার্ভ গার্ড পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালায়।
সুকমায় জঙ্গলের মধ্যেও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে মাওবাদীদের সংঘর্ষ হয়। এ ছাড়া সুকমার তোণ্ডামার্কা ক্যাম্পের কাছে বিস্ফোরণে সিআরপিএফের কোবরা ইউনিটের এক কমান্ডো আহত হন। ছত্তিশগড়ের কাংকের জেলায় মাওবাদীদের সঙ্গে বিএসএফ ও ডিআরজি সদস্যদের গোলাগুলি হয়। সেখানে মাওবাদীদের ধরতে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।
ভোটের আগে দিন গত সোমবার সন্ধ্যায় মাওবাদী উপদ্রুত কাংকের জেলার একটি গ্রামে বিস্ফোরণ হয়। এতে একজন বিএসএফ সদস্যসহ অন্তত তিনজন আহত হয়। এদিকে মাওবাদীদের সহিংসতার মধ্যেই স্থানীয় সময় বিকেল ৫টা পর্যন্ত ছত্তিশগড়ে ৭০.৯ শতাংশ ভোট পড়ে। ছত্রিশগড়ে আগামী ১৭ নভেম্বর দ্বিতীয় দফায় ৭০ আসনে ভোটগ্রহণ হবে। এদিকে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে মিজোরামে গতকাল স্থানীয় সময় সকাল ৭টা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হয়।
৪০ আসনের বিধানসভা ভোট এক দিনেই সম্পন্ন হয়। দু-এক জায়গায় বিক্ষিপ্ত গণ্ডগোল ছাড়া বড় কোনো অশান্তি হয়নি। ভোটকেন্দ্রগুলোতে ভোটারদের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো ছিল। মিজোরামে ভোটারের সংখ্যা আট লাখের বেশি। মোট প্রার্থীর সংখ্যা ১৭৪ জন। ক্ষমতাসীন মিজো ন্যাশনাল ফ্রন্ট (এমএনএফ), রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল জোরাম পিপলস মুভমেন্ট এবং কংগ্রেস ৪০ আসনে প্রার্থী দিয়েছে। এদিকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে ভোটারদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করার জন্য আহবান জানান।
ছত্তিশগড় ও মিজোরামের পাশাপাশি আরো তিন রাজ্যে বিধানসভা ভোট অনুষ্ঠিত হবে। আগামী ১৭ নভেম্বর মধ্য প্রদেশ, রাজস্থানে ২৫ নভেম্বর এবং তেলেঙ্গানায় ৩০ নভেম্বর ভোটগ্রহণ হবে।
সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা, নিউজ১৮ বেঙ্গলি



