প্রধান খবরবাংলাদেশরাজনীতি

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ভবিষ্যৎ কী?

যারা রাজনীতিতে আসেননি সেইসব সদস্যই নির্ধারণ করবেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ভবিষ্যৎ। এমন মন্তব্য করেছেন নাগরিক পার্টি ও গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের নেতারা। তাঁরা বলেছেন, জুলাইয়ে আহতদের নিয়ে ও গণহত্যার বিচার ইস্যুতে কাজ করবেন আন্দোলনের সদস্যরা। তবে অসাধু উদ্দেশ্যে সমন্বয়ক পরিচয় ব্যবহার করলে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তাঁদের।

গত ২৬ ফেব্রুয়ারি আত্মপ্রকাশ করে জুলাই অভ্যুত্থানের সমন্বয়কদের নিয়ে গঠিত ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ। এরপর ২৮ ফেব্রুয়ারি যাত্রা শুরু হয় রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি)। যেখানে যোগ দেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক কমিটি ও জাতীয় নাগরিক পার্টির অধিকাংশ সদস্য।

সম্প্রতি এক বক্তব্যে এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম জানান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অস্তিত্ব সেই অর্থে নেই। তাঁর এ বক্তব্যের পর এ নিয়ে দেখা দেয় ধোঁয়াশা। তবে নবগঠিত দল দুটির শীর্ষ নেতারা বলছেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে ওই সংগঠনটির বর্তমান সদস্যরাই।

বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদের আহ্বায়ক আবু বাকের মজুমদার বলেন, ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন একটা গণঅভ্যুত্থানের প্ল্যাটফর্ম। আমরা মনে করছি যে, আগামী দিনে এই প্ল্যাটফর্ম শহীদ আহতদের নিয়ে কাজ করবে। জুলাই স্পিরিট নিয়ে কাজ করবে। জুলাই ন্যারেটিভ এবং কালচার নিয়ে কাজ করবে।’

এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব বলেন, ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অধিকাংশ নেতৃত্ব যেহেতু বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ ও এনসিপিতে চলে আসছে । বাকি যারা আছে তাদের ফোরামের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের পরবর্তী কর্মসূচি নির্ধারিত হবে।’

এনসিপি ও গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ নেতারা বলছেন, সমন্বয়ক পদের সঙ্গে তাঁদের কোনো সম্পর্ক নেই। সমন্বয়ক কিংবা রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহারের ক্ষেত্রে সবাইকে সতর্ক হওয়ার আহ্বান তাঁদের।

এনসিপির সদস্যসিচব আখতার হোসেন বলেন, ‘সমন্বয়ক পরিচয়ে কেউ যদি কোনো ধরনের অপকর্মের সঙ্গে জড়িত থাকে এবং তার যদি প্রমাণ পাওয়া যায় তাহলে অবশ্যই যেন তাকে আইনের আওয়তায় নিয়ে আসার মতো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। জাতীয় নাগরিক পার্টির সঙ্গে সমন্বয়ক পরিচয়ের আলাদা করে কোনো সম্পর্ক নেই।’

এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব বলেন, ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেউ এখন গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদে আবার কেউ জাতীয় নাগরিক পার্টিতে কাঠামোর মধ্যে থেকে কাজ করছে। সেই অর্থে সমন্বয়কদের কোনো অস্তিত্ব নেই। কিন্তু মাঝে মাঝে কিছু সমন্বয়ক নামে প্রভাব বিস্তার করতে চায়। তাঁরা আসলে সমন্বয়ক ছিল না।’

এর আগে সমন্বয়ক বিতর্ক এড়াতে গত অক্টোবরে সদস্যদের সুসংগঠিত করতে আহ্বায়ক কমিটির ঘোষণা করেছিল বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension