ব্লিঙ্কেনের সঙ্গে সাক্ষাতের আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান যুক্তরাষ্ট্রের ফিলিস্তিনিদের
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেনের সঙ্গে সাক্ষাতের আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ফিলিস্তিনি কমিউনিটির কতিপয় সদস্য।
বৃহস্পতিবার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার আমন্ত্রণ পেয়েছিলেন তারা। তবে ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় চলমান সংঘাতে ওয়াশিংটনের নীতি নিয়ে অসন্তুষ্ট থাকায় তারা ব্লিঙ্কেনের সঙ্গে দেখা করতে রাজি হননি।
ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
এ বিষয়ে প্রকাশিত একটি বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের ফিলিস্তিনি কমিউনিটির একটি দল বলেছেন, এ সময়ে এই ধরনের একটি সাক্ষাতের আমন্ত্রণ অপমানজনক। তারা আমন্ত্রিত সংখ্যাগরিষ্ঠদের প্রতিনিধিত্ব করছেন বলেও উল্লেখ করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের আরব, ফিলিস্তিনি এবং মুসলিম কমিউনিটির সদস্যদের পাশাপাশি যুদ্ধবিরোধী কর্মীরাও গাজা সংঘাতে ওয়াশিংটনের নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মতে, চলমান এ সংঘাতে ইসরাইলি সেনাবাহিনীর বর্বর হামলায় অঞ্চলটিতে এখন পর্যন্ত ২৭ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এই সংখ্যা গাজার মোট জনসংখ্যার এক শতাংশেরও বেশি। যুদ্ধ শুরুর আগে সেখানে ২৩ লাখ মানুষের বসবাস ছিল।
৭ অক্টোবর দক্ষিণ ইসরাইলে ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলার প্রতিক্রিয়ায় ওই দিনই গাজায় নির্বিচারে পালটা হামলা শুরু করে ইসরাইলি বাহিনী। হামাসের ওই হামলায় ইসরাইলের এক হাজার ২০০ সেনা নিহত হন। এ সময় প্রায় ৩৪০ জনের বেশি জনকে জিম্মি করে গাজায় নিয়ে যায় প্রতিরোধ যোদ্ধারা।
ব্লিঙ্কেন ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ইঙ্গিত করে বৃহস্পতিবারের ওই বিবৃতিতে বলা হয়, তারা প্রতিদিনই আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছেন তাদের কাছে কাদের জীবনের মূল্য অনেক বেশি আর কারা তুচ্ছ। আমরা নামমাত্র কোনো আলোচনায় অংশ নেব না যেটি কোনো ফল বয়ে আনবে না।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, আমরা মনে করি, ইসরাইলি এ কর্মকাণ্ডের সঙ্গে ওয়াশিংটন জড়িত আছে।
গাজার মানবিক সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। সেখানে অসহায় নাগরিকরা অনাহারে ভুগছেন। জাতিসংঘ সেখানে মানবিক যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানালেও এর বিরোধিতা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির দাবি, যুদ্ধবিরতি দেওয়া হলে হামাস আবারো পুনর্গঠিত হওয়ার সুযোগ পাবে।
বৃহস্পতিবার মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, ব্লিঙ্কেন যুক্তরাষ্ট্রের ফিলিস্তিনি কমিউনিটির কয়েকজন নেতার সঙ্গে দেখা করেছেন। তবে ঠিক কতজনের সঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী দেখা করেছেন তা খোলাসা করেননি তিনি।
গাজায় যুদ্ধবিরতির দাবিতে দেশজুড়ে প্রতিবাদ করছেন বিক্ষোভকারীরা। সম্প্রতি তারা দেশটির বিমানবন্দরের কাছে, নিউইয়র্ক সিটির সেতুতে, লস এঞ্জেলসে, হোয়াইট হাউসের বাইরে এবং ওয়াশিংটনেও বিক্ষোভ-মিছিল করেছে। এমনকি আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে বাইডেনের দেওয়া ভাষণ ও ক্যাম্পেইন ইভেন্টেও প্রতিবাদ করেছেন তারা। এর মধ্যে সর্বশেষ বৃহস্পতিবার মিশিগানে প্রতিবাদের ঘটনা ঘটেছে।



