
বাংলাদেশের চলচ্চিত্র নায়িকা পরীমনিকে ধর্ষণ ও খুনের চেষ্টা নিয়ে গণমাধ্যমে যে উত্তেজনা চলছে তার ঢেউ ভারতীয় গণমাধ্যমেও আঘাত করেছে। আজ ১৪ জুন ভারতের অন্যতম শীর্ষ গণমাধ্যম পরীমনির অভিযোগটিকে শিরোনাম করে লিখেছে, ‘আমায় ধর্ষণ এবং খুনের চেষ্টা হয়েছে’, বিস্ফোরক বাংলাদেশি নায়িকা’।
পত্রিকাটি উপশিরোনামে লিখেছে, ‘পুলিশে জানিয়ে ফল পাননি। তাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে বিচার চেয়ে ফেসবুকে পোস্টে খোলা চিঠি লেখেন নায়িকা।’ হাসিনা-কে মা সম্বোধন করে পোস্টে পরীমনি লেখেন, ‘বরাবর, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আমি পরীমণি। এই দেশের একজন বাধ্যগত নাগরি নাগরিক। আমার পেশা চলচ্চিত্র। আমি শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছি। আমাকে রেপ এবং হত্যা করার চেষ্টা করা হয়েছে।’
ফেসবুকে পোস্ট করা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বরাবর পরীমনির আবেদনপত্রটি লিঙ্কসহ উল্লেখ করে আজতক পত্রিকা জানায়, ধর্ষণ ও হত্যার চেষ্টার অভিযোগে ঢাকার সম্ভ্রান্ত ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদ-সহ ছয় জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছেন ঢলিউডের প্রথম সারির নায়িকা পরীমনি।
পত্রিকাটি আরও জানায়, রবিবার (১৩ জুন) রাতে এক ফেসবুক পোস্টে তিনি প্রথম অভিযোগটি আনেন। পরে সাংবাদিক সম্মেলন করে অভিযুক্ত ব্যবসায়ীর নাম প্রকাশ করেন পরীমনি।
আজতক লিখেছে, অভিনেত্রীর অভিযোগ চার দিন আগে উত্তরায় বোট ক্লাবে নাসির মাহমুদ তাঁর উপর চড়াও হয়েছিলেন। সেখানেই তাঁকে ধর্ষণ ও খুনের চেষ্টা করেন নাসির। ঢাকা বোট ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য নাসির একজন আবাসন ব্যবসায়ী। উত্তরা ক্লাবের প্রাক্তন সভাপতি তিনি। ঢাকা বোট ক্লাবের সভাপতি বাংলাদশে পুলিশের আই জি বেনজীর আহমেদ। তাঁর কাছে অভিযোগ জানাতে গিয়েছিলেন পীরমনি। তিনি দাবি করেন, ঘটনার পর তিনি বনানী থানায় অভিযোগ করতে গেলে তা নেওয়া হয়নি। পুলিশে জানিয়ে ফল পাননি। তাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে বিচার চেয়ে ফেসবুকে পোস্টে খোলা চিঠি লেখেন নায়িকা।
আজতক ওই রিপোর্টে আরও উল্লেখ করে, পোস্ট করার ঘণ্টাখানেক পর গুলশানে নিজের বাড়িতে সংবাদ সম্মেলন করেন তিনি। সাংবাদিকদের তিনি জানান, গত বুধবার রাতে কস্টিউম ডিজাইনার জিমি ও জিমির বন্ধু আমিসহ তারা উত্তরায় বোট ক্লাবে গিয়েছিলেন। ক্লাবটা তখন বন্ধ হয় হয়। এই সময় দুজন বয়স্ক ব্যক্তি এসে তাদের মদ পানের আমন্ত্রণ জানায়। শরীর খারাপ বলে তা প্রত্যাখ্যান করেছিলেন পরীমনি। ওই দুজনের একজন নাসির মাহমুদ বলে পরীমনির ভাষ্য।
তিনি জানান, জোরাজুরির এক পর্যায়ে তাকে মারধর করে কিছু লোক। এক পর্যায়ে নাসির মাহমুদ তার মুখে মদের বোতল ঠেসে ধরে গিলতে বাধ্য করেন। তখন তাকে ধর্ষণের চেষ্টা চেষ্টা চালান। প্রায় আড়াই ঘণ্টা পর ছাড়া পেয়ে বনানী থানায় গিয়েছিলেন অভিযোগ জানাতে। তার মুখে মদের গন্ধ থাকায় পুলিশ কর্মকর্তারা তার কথা শুনতে চায়নি। এক পর্যায়ে পুলিশ তাকে ওয়াশ করার জন্য এভারকেয়ার হাসপাতালে পাঠিয়ে দেয়। সেখান থেকে তিনি বাড়ি ফিরে আসেন।
এর পরের দিনগুলোতে শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক জায়েদ খান-সহ বিভিন্ন লোকজনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন বলেও দাবি করেন পরীমনি। ঘটনায় সাভার থানায় নির্যাতন ও ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে ছয় জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন নায়িকা। সোমবার দুপুরে পরীমণি নিজে বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় নাসির উদ্দিন মাহমুদকে প্রধান আসামি করা হয়।
ঢাকা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাভার সার্কেল) আব্দুল্লাহ আল কাফি মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। পুলিশের একাধিক দল আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান শুরু করেছেন বলেও জানান তিনি।



