
ভারতে পাচার ধর্ষণ ও নির্যাতনের শিকার বাংলাদেশি তরুণী ক্ষতিপূরণ পাচ্ছে: ব্যাঙ্গালুরুর আদালতের ঐতিহাসিক রায়
ভারতে পাচার হয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও শারীরিক নির্যাতনের শিকার এক বাংলাদেশি তরুণী ক্ষতিপূরণ পাচ্ছে।
কর্ণাটক রাজ্যের ব্যাঙ্গালুরুর দায়রা আদালত তাকে ৭ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ঐতিহাসিক রায় দিয়েছেন। এ রায়কে বাংলাদেশের জন্য দৃষ্টান্ত হিসাবে দেখছেন অপরাধ বিশেষজ্ঞরা।
বুধবার ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য নিউ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস আদালতের রায় নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এতে বলা হয়, ব্যাঙ্গালুরুতে ২০২১ সালে এক বাংলাদেশি তরুণী সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হন। কর্ণাটক রাজ্য এমনকি পুরো ভারতের ইতিহাসে প্রথমবার আদালত এ ধরনের রায় দিয়েছেন।
তরুণীকে ক্ষতিপূরণের অর্থ বুঝিয়ে দিতে জেলা ডিস্ট্রিক্ট লিগ্যাল সার্ভিস অথরিটিকে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন। ভারত ছেড়ে যাওয়ায় তাকে ভিডিও কলের মাধ্যমে ই-পেমেন্টের মাধ্যমে অর্থ বুঝিয়ে দিতেও বলা হয়েছে। এজন্য দেশটির মানবাধিকার সংস্থা তালাস অ্যাসোসিয়েশন কাজ করছে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশের পুলিশের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
নিউ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ২০২২ সালের আদেশে দায়রা আদালত বলেছিলেন, অপরাধের তীব্রতা অনুযায়ী নির্যাতিত তরুণী ন্যাশনাল লিগ্যাল সার্ভিস অথরিটির (নালসা) ক্ষতিপূরণ স্কিমের আওতায় ৭ লাখ রুপি পাওয়ার যোগ্য। নির্যাতনের শিকার তরুণী নিউ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে জানায়, যে ভয়াবহ ঘটনার মধ্য দিয়ে জীবন গেছে, তা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছি।
হাতিরঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুর রশিদ বলেন, অর্থ পেতে ভুক্তভোগীকে আমরা সব ধরনের সহযোগিতা করব। কোন প্রক্রিয়ায় তরুণী অর্থ ফেরত পেতে পারে, তা নিয়ে পুলিশ সদর দপ্তরের সঙ্গে কথা বলে ঠিক করা হবে। ভুক্তভোগীর পরিবারের সঙ্গে আমরা যোগাযোগ রাখছি।
জানা যায়, ওই তরুণীকে বাংলাদেশের কাছে গত বছরে ২২ মে ফিরিয়ে দেয় ভারতীয় কর্তৃপক্ষ। দেশে ফিরে সে রাজধানী ঢাকা ছেড়ে কিশোরগঞ্জের গ্রামের বাড়ি চলে যায়। তরুণীটির বাবা রাজধানীর মগবাজারে জুসের দোকান দিয়েছেন। ২২ বছর বয়সি বাংলাদেশি তরুণীকে বিবস্ত্র করে যৌন নির্যাতনের ভিডিও ২০২১ সালের ২৭ মে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। এর সঙ্গে টিকটক হৃদয়সহ ১১ বাংলাদেশি জড়িত ছিল। ২৯ মে ভারতের আসামভিত্তিক সংবাদমাধ্যম টাইমএইটের এক প্রতিবেদনে নির্যাতনের বিষয়টি উঠে আসে। ভিডিওতে দেখা পাঁচ নির্যাতনকারীর ছবি প্রকাশ করে তাদের সন্ধান চেয়ে পুরষ্কারের ঘোষণা করে আসাম পুলিশ। বেঙ্গালুরু পুলিশ নিশ্চিত হয় ভিডিওটি সেখানকার একটি মোবাইল ফোন থেকে ছড়িয়েছে। এর পরপর বেঙ্গালুরু পুলিশ দুই নারীসহ ছয়জনকে গ্রেফতার করে। তাদের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও যৌন নির্যাতনের মামলা করা হয়। এ মামলায় ১২ জন গ্রেফতার হয়। এর মধ্যে ১১ জন বাংলাদেশি। তরুণীকে কেরালা থেকে বেঙ্গালুরুতে নিয়ে যায় সেখানকার পুলিশ।
পাঁচ সপ্তাহের মধ্যে তদন্ত শেষ করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ।
এ রায়কে যুগান্তকারী উল্লেখ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. জিয়া রহমান বলেন, এটি একটি যুগান্তকারী রায়। এ রায় থেকে আমাদের অনেক কিছু শেখার আছে। মানবতাবোধের জায়গা থেকে বিষয়টি প্রতিফলিত হয়েছে। এ রায় আন্তঃদেশীয় অপরাধের শিকার ভুক্তভোগীদের জন্য সুবিচারের দৃষ্টান্ত স্থাপন করল।



