
ভয়াবহ বায়ু দূষণ, সব স্কুল বন্ধ ঘোষণা‘হেলথ ইমারজেন্সি’ জারি করল সুপ্রিম কোর্ট
রূপসী বাংলা কলকাতা ডেস্ক: ভয়াবহ দূষণের কবলে রাজধানী। দূষণ প্রতিরোধে দিল্লি এবং তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে ‘হেলথ ইমারজেন্সি’ ঘোষণা করল সুপ্রিম কোর্ট। অক্টোবর মাসের শেষের দিক থেকেই ধোঁয়াশায় মুখ ঢেকেছিল দিল্লির রাজপথ। দূষণে হাঁসফাঁস অবস্থা হয়েছিল শহরবাসীর। এর মাঝেই দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল টুইট করে আগামী ৫ই নভেম্বর পর্যন্ত দিল্লির সমস্ত স্কুল বন্ধ রাখার কথা ঘোষণা করেন।
দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের তরফ থেকে আগামী ৫ই নভেম্বর পর্যন্ত দিল্লি এবং তদসংলগ্ন অঞ্চলে নির্মীয়মাণ বাড়ির কাজও বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর সঙ্গেই শীতের মরশুমে নিষিদ্ধ করা হয়েছে যেকোনো ধরনের বাজি পোড়ানোও। বৃহস্পতিবারই বাতাসে দূষণের পরিমাণ আপৎকালীন পর্যায়ে এসে ঠেকে। এরপরেই নড়েচড়ে বসে প্রশাসন।
দিল্লি শহরকে এক কথায় ‘গ্যাস চেম্বার’ বলে সম্বোধন করেছেন কেজরিওয়াল। বাচ্চাদের দূষণ থেকে বাঁচাতে স্কুলে স্কুলে বিলি করা হচ্ছে মাস্কও। এমনিতেই দিওয়ালীতে বাজি ফাটানোয় দূষণের মাত্রা বেড়েছে কয়েকগুণ। এছাড়াও বছরের ঠিক সময়ে দিল্লির পার্শ্ববর্তী হরিয়ানা,পাঞ্জাবে ধান কেটে পড়ে থাকা খড় জ্বালিয়ে দেন কৃষকরা। ফলে সেই পোড়া কালো ধোঁওয়ার মেঘ উড়ে আসে দিল্লির দিকে।
প্রায় কয়েকদিন ধরেই দিল্লির বাতাসে দূষণের মাত্রার পরিমাণ ছিল সহনমাত্রার থেকে বহুগুণ বেশি। এখনও পর্যন্ত বাতাসের মানের কোনও উন্নতি হয়নি।
এই প্রসঙ্গে এক সরকারি আধিকারিক বলেন, ‘যদি বাতাসে দূষণের মাত্রা আরও বেড়ে যায় সেক্ষেত্রে জোড়-বিজোড় গাড়ি চালানো, নির্মাণের কাজ বন্ধ রাখা, স্কুল ছুটি দেওয়ার উপরেই ভরসা করে অপেক্ষা করতে হবে।’
উল্লেখ্য, এই প্রবল দূষণের শিকার হচ্ছেন মূলত সকালে কাজের জন্য বেরনো মানুষ এবং প্রাতঃভ্রমণকারীরা। অন্যদিকে এই দূষণের মাঝেই দিল্লিতে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে ভারত-বাংলাদেশ টেস্ট ম্যাচ। কিছুদিন আগেই প্র্যাকটিসে মাস্ক পড়ে ব্যাট করতে দেখা যায় বাংলাদেশি ক্রিকেটার লিটন দাসকে।
তবে, এই দূষণের মাঝেও দায় চাপানোর খেলা চলছে কেন্দ্র এবং কেজরিওয়াল সরকারের মধ্যে। কেন্দ্রীয় পরিবেশ মন্ত্রী প্রকাশ জাভড়েকর এই দূষণ ঘিরে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী শুধু মাত্র কেন্দ্রের উপর দোষ চাপাচ্ছে বলে তোপ দাগেন। কিন্তু, ঠিক কবে আবার নিরাপদ বাতাসে শ্বাস নিতে পারবেন তারই অপেক্ষায় দিল্লিবাসীরা।



