
রূপসী বাংলা ঢাকা ডেস্ক রিপোর্ট: মনোনয়ন বিক্রির দ্বিতীয় দিনেও ধানমন্ডিতে ছিল উৎসবের আমেজ। নানা রংয়ের ব্যানার ফেষ্টুন আর প্ল্যাকার্ডে ঢেকে গিয়েছিল আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়। প্রথম দিনের মত দ্বিতীয় দিনও মন্ত্রী, সংসদ সদস্যসহ কেন্দ্রীয় জেলা পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন। রাত ৯টা পর্যন্ত মনোনয়নপত্র বিক্রয় কার্যক্রম চলবে।
আজ ১০ নভেম্বর শনিবার ভোরে মিছিল, শ্লোগান আর বাদক দলের ঢাকঢোলের শব্দে নিস্তব্ধ ধানমণ্ডি জেগে ওঠে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মনোনয়নপত্র বিক্রয়স্থল উৎসবে পরিণত হয়। লোকে লোকারণ্য হয়ে যায় সকাল ১০টার আগেই। সমর্থকদের ভিড়ে মনোনয়নপত্র কিনতে আসা মনোনয়নপ্রত্যাশীদের কাউন্টারে খুব কষ্ট করেই পৌঁছাতে হয়।
সকাল ১০টার পর বিশাল এক মিছিল নিয়ে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করতে আসেন সংরক্ষিত আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য অপু উকিল। তার সঙ্গে আসা মহিলা নেতাকর্মীরা সবাই হলুদ শাড়ি এবং টুপি পরিহিত ছিলেন। মিছিলের পেছনে ছিল দুটি ট্রাক। আর ট্রাকে ছিল বাদক দল, যারা সঙ্গীতের মূর্ছনায় আনন্দ ছড়িয়ে দিচ্ছিল নেতাকর্মীদের মাঝে।
মনোনয়নপত্র সংগ্রহের বিষয়ে অপু উকিল বলেন, ‘সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য হয়ে আমি আমার যোগ্যতার প্রমাণ রেখেছি। আমার এলাকায় গিয়ে দেখেন, কতটা উন্নয়ন করেছি । প্রশ্ন করে দেখেন আমার এলাকার লোক কাকে চায়? আমি মনে করি, এখন আমার সময় হয়েছে সরাসরি ভোটে সংসদ সদস্য প্রার্থী হওয়া। আমি বিশ্বাস করি সভাপতি নিশ্চয়ই বিবেচনা করবেন।’
দুপুর ১২টার কিছু আগে মিরপুর থেকে বিশাল একটি মিছিল নিয়ে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করতে আসেন সাবিনা আখতার তুহিন। তিনিও সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য। তুহিন ঢাকা-১৪ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য আসলামুল হকের প্রতিদ্বন্দ্বী। মনোনয়নপত্র সংগ্রহের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘নেত্রী আমাকে কাজ করে যেতে বলেছেন। আমি সংরক্ষিত আসনে নির্বাচিত হয়ে উন্নয়ন যতটুকু সম্ভব হয়েছে করেছি। কিন্তু দুর্নীতি করি নি, কারও জমিজমা দখল করি নি।’
এর আগে বেলা ১১টার দিকে বড় একটি মিছিল নিয়ে ঢাকা-১৩ আসনে মনোনয়নপত্র কিনতে আসেন মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাদেক খান। তার সঙ্গে ছিলেন মোহাম্মদপুর ও আদাবর থানা এবং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতারা।
মনোনয়নপত্র সংগ্রহের বিষয়ে জানতে চাইলে সাদেক খান বলেন, ‘আমাদের নেত্রী এর আগেও ঢাকা-১৩ থেকে আমাকে মনোনয়ন দিয়েছিলেন। পরে নেত্রীর অনুরোধে জাহাঙ্গীর কবীর নানক ভাইকে ছেড়ে দেই । আমি এই এলাকার স্থানীয়। সব নেতকর্মী এবং স্থানীয় মানুষ চায় আমি যাতে এখান থেকে আমাদের দলের নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করি । তাদের অনুরোধেই মনোনয়নপত্র কিনেছি। মনোনয়ন পেলে অবশ্যই জয়ী হব।’
দুপুরের পরপরই মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করতে আসেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন । তিনি বড় একটি মিছিল নিয়ে আসেন ধানমন্ডিতে। ঢাকা -১৮ আসনটির বর্তমান সংসদ সদস্ও সাহারা খাতুন । তিনি বলেন, ঢাকা-১৮ আসনে আমার নিজ দলের কোনও প্রতিদ্বন্দ্বী নেই। নেই অভ্যন্তরীণ কোন্দলও, তাই মনোনয়ন নিয়ে আমার তেমন কোন টেনশনও নেই ।’
এই রিপোর্ট লেখার সময় পর্যন্ত ১৪৮১টি ফরম বিক্রয় হয় বলে দলীয় সূত্র জানা যায়। এ নিয়ে দুদিনে মোট ২৮১০টি মনোনয়ন ফরম বিক্রয় হল।



