
মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ
রূপসী বাংলা আন্তর্জাতিক ডেস্ক রিপোর্ট: যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী জিম ম্যাটিস ফেব্রুয়ারির শেষে ‘সম্মানের সাথে’ অবসরে যাবেন বলে বৃহস্পতিবার ঘোষণা করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
টুইট বার্তায় ট্রাম্প বলেন, জেনারেল ম্যাটিস ‘মিত্রদের সাথে সম্পর্ক স্থাপনের ক্ষেত্রে এবং অন্যান্য দেশের সাথে সেনাবাহিনী সংক্রান্ত বাধ্যবাধকতা পালনে আমাকে সহায়তা করেছেন।’
ট্রাম্প সিরিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর সব সৈন্য প্রত্যাহার করে নেয়ার বিতর্কিত সিদ্ধান্ত জানানোর পরদিন এই ঘোষণা এলো।
জিম ম্যাটিসের পদে কে নিযুক্ত হবেন তা না জানালেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেছেন, শীঘ্রই কাউকে এই পদে নিয়োগ দেয়া হবে।
পদত্যাগপত্রে জেনারেল ম্যাটিস ‘মিত্র দেশগুলোর সাথে সম্মানসূচক সম্পর্ক বজায় রাখা’এবং ‘আমেরিকার শক্তির সব ধরণের উপাদান ব্যবহার করে সব পক্ষের প্রতিরক্ষা’নিশ্চিত করার বিষয়ে তার দর্শন তুলে ধরেন।
জেনারেল ম্যাটিস লিখেছেন, ‘এসব বিষয়সহ অন্যান্য বিষয়েও যেই প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর দর্শন আপনার দর্শনের সাথে মিলে, তেমন একজন প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর সাহচর্য পাওয়া আপনার অধিকার। তাই আমার বিশ্বাস, পদত্যাগ করাই আমার জন্য ভাল সিদ্ধান্ত।’
তবে ম্যাটিস পদত্যাগের এই সিদ্ধান্তে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে রিপাবলিকান সিনেটরদের মধ্যেই।
সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম বলেছেন, ‘কয়েক দশক যাবত উগ্রপন্ত্রী মুসলিম ধ্যানধারণার বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়েছেন ম্যাটিস। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও যুক্তরাষ্ট্রর জন্য তিনি যেই দায়িত্ব পালন করেছেন সেজন্য তার গর্বিত হওয়া উচিৎ।’
তবে সিনেটর মার্কো রুবিও মনে করেন ‘ট্রাম্প প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ টানাপড়েনের মধ্যে জেনারেল ম্যাটিস ছিলেন স্থিরতার প্রতীকস্বরূপ’; কাজেই ম্যাটিসের এই পদত্যাগ ‘ভীতিকর’ হিসেবে পরিলক্ষিত হতে পারে।
সিরিয়া সম্পর্কে কী বলেছেন ট্রাম্প?
সিরিয়ায় ইসলামিক স্টেট পরাজিত হয়েছে – এমন মন্তব্য করে বুধবার ট্রাম্প সিরিয়া থেকে প্রায় ২০০০ মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন। তবে ট্রাম্পের এই ধরণের সিদ্ধান্তের বিরোধী ছিলেন ম্যাটিস। তিনি বলেছিলেন সিরিয়া থেকে আগে সৈন্য প্রত্যাহার করে নেয়া ‘কৌশলগত ভুল’ হবে।
সিরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলের জিহাদি গ্রুপগুলোর অধিকাংশকেই দমন করতে সহায়তা করেছে মার্কিন সেনাবাহিনী, কিন্তু সিরিয়ার বিভিন্ন জায়গায় বিচ্ছিন্নভাবে বিদ্রোহী যোদ্ধারা এখনও রয়েছে।
মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে সংবাদ সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে যে আইএস’এর বিরুদ্ধে বিমান অভিযান বন্ধ করা হবে। সেনা প্রত্যাহারের কোনো নির্দিষ্ট সময় দেয়া হবে না হোয়াইট হাউজের পক্ষ থেকে, তবে নিউ ইয়র্ক টাইমস বলছে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ৩০ দিনের মধ্যে সেনা প্রত্যাহার কার্যকরী করতে চান।
সৈন্য প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তের কী প্রতিক্রিয়া হয়েছে?
রিপাবলিকান সিনেটর এবং ট্রাম্পের সমর্থক লিন্ডসে গ্রাহাম, যিনি মার্কিন সশস্ত্র সেবা কমিটিরও সদস্য, বলেছেন সেনা প্রত্যাহারের এই সিদ্ধান্ত সিরিয়া এবং তার বাইরেও ‘ধ্বংসাত্মক পরিণতি’ডেকে আনবে। তার মতে, এর ফলে ঐ অঞ্চলে রাশিয়া ও ইরানকে আধিপত্য বিস্তারের সুযোগ দেয়া হবে।
অন্যদিকে সিরিয়া ও ইরাকে আইএস’এর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে থাকা মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোটের অন্যতম প্রধান সদস্য ফ্রান্স জানিয়েছে তারা এখনই উত্তর সিরিয়া থেকে সেনা প্রত্যাহার করবে না, কারণ ফ্রান্স মনে করে আইএস এখনও পুরোপুরি দমন হয়নি।
জার্মান পররাষ্ট্র মন্ত্রী হেইকো মাস বলেছেন মার্কিন সিদ্ধান্তের কারণে আইএস’এর সাথে চলমান যুদ্ধ ব্যাহত হতে পারে।
সিরিয়া ডেমোক্র্যাটিক ফোর্সেস নামে সিরিয়ার কুর্দিশ নেতৃত্বাধীন একটি জোট সতর্ক করেছে যে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের এই সিদ্ধান্ত আইএস’র বিরুদ্ধে যুদ্ধে ‘নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে এবং তাদেরকে পুনরায় সক্রিয় হওয়ার’সুযোগ তৈরি করে দেবে।
সূত্র: বিবিসি বাংলা



