
মিডটাউন ম্যানহাটনে বন্দুকধারীর হামলায় এনওয়াইপিডি সদস্যসহ প্রাণ গেল পাঁচজনের।

শাহ্ জে. চৌধুরী
নিউ ইয়র্ক, জুলাই ২৮,২০২৫
মিডটাউন ম্যানহাটনের কেন্দ্রস্থলে এক ভয়াবহ বন্দুক হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন পাঁচজন, যাদের মধ্যে রয়েছেন একজন নিউ ইয়র্ক পুলিশ বিভাগের (NYPD) অফিসার। সোমবার সন্ধ্যায় স্থানীয় সময় প্রায় ৬:৩০টা নাগাদ এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে ৩৪৫ পার্ক অ্যাভিনিউ-র একটি উচ্চ-তলা অফিস ভবনে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ২৭ বছর বয়সী শেন ডেভন তামুরা, যিনি লাস ভেগাসের বাসিন্দা, একটি AR-স্টাইল রাইফেল এবং বডি আর্মর নিয়ে লবিতে প্রবেশ করে গুলিবর্ষণ শুরু করেন। প্রথমেই লক্ষ্য হন একজন অফ-ডিউটি NYPD অফিসার, যিনি ভবন মালিকের নিরাপত্তা দায়িত্বে ছিলেন। ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। এরপর হামলাকারী ভবনের ৩৩তলায় উঠে যায়, যেখানে পরে তাঁর মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়—সম্ভবত আত্মহত্যা করে তিনি নিজেই প্রাণ দেন।
নিহত ও আহত:
• এই হামলায় ৪ জন বেসামরিক নাগরিক ও ১ জন পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হন।
• কমপক্ষে ৬ জন আহত হয়েছেন, যার মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

আতঙ্কের মুহূর্ত:
ভবনের বিভিন্ন অফিসে থাকা লোকজন জানিয়েছেন, তারা প্রথমে ভেবেছিলেন এটি কোনও বাজি অথবা যান্ত্রিক শব্দ। পরে যখন দ্রুত গুলির শব্দ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে, তখন অনেকে অফিসের দরজা বন্ধ করে লুকিয়ে পড়েন, কেউ আবার ফাইল ক্যাবিনেট ও টেবিল দিয়ে ব্যারিকেড তৈরি করেন।
একজন কর্মী বলেন, “আমরা মেসেজ পাঠাচ্ছিলাম, ‘ভালোবাসি মা-বাবাকে’, যদি এটিই শেষ হয়ে যায়”।
প্রশাসনের পদক্ষেপ:
ঘটনার পরপরই এনওয়াইপিডি, এফবিআই এবং বম্ব স্কোয়াড ঘটনাস্থলে পৌঁছে ভবনের প্রতিটি তলা তল্লাশি করে।
নিউ ইয়র্কের পুলিশ কমিশনার জেসিকা টিশ এক্স (সাবেক টুইটার)-এ জানিয়েছেন, “হামলাকারী নিহত হয়েছে, এলাকা এখন নিরাপদ”।
মেয়র এরিক অ্যাডামস শহরবাসীকে শান্ত থাকার আহ্বান জানান এবং ভবনের আশপাশে চলাচল সীমিত রাখার নির্দেশ দেন।
পুলিশের মৃত্যু ও ব্যক্তিগত ক্ষতি:
নিহত পুলিশ কর্মকর্তা ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে দায়িত্বে ছিলেন এবং সম্প্রতি ব্যক্তিগত নিরাপত্তা চুক্তির আওতায় ওই ভবনে ডিউটি করছিলেন।
তিনি একজন গর্ভবতী স্ত্রীকে রেখে গেছেন, যাঁর জন্য শহর জুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
তদন্ত ও পরবর্তী পদক্ষেপ:
হামলাকারীর মোটিভ এখনও স্পষ্ট নয়। তবে জানা গেছে, তার কাছে নেভাদা রাজ্যের বৈধ আগ্নেয়াস্ত্র বহনের অনুমতি ছিল। পার্ক অ্যাভিনিউর পাশে তার গাড়িও খুঁজে পেয়েছে পুলিশ।
তদন্ত এখনো চলমান রয়েছে।
শেষ কথা:
এই ঘটনা শুধু একটি শহরের নয়—একটি জাতির হৃদয় ভেঙে দিয়েছে। পুলিশ সদস্যের আত্মত্যাগ এবং সাধারণ মানুষের অকারণ মৃত্যু আমাদের বারবার মনে করিয়ে দেয়, নিরাপত্তা ও মানবিকতা কতটা জরুরি।



