
যুক্তরাষ্ট্রে অসহায় ইউরোপ
আটলান্টিকের উভয় অংশই বিশ্বাস করে ইউরোপ নিজেদের নিরাপত্তা সমস্যা নিজেরা মেটাতে পারে না। এজন্য ইউরোপকে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভর করতে হয়। যদিও ইউরোপের নেতারা ও প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকরা অনেকদিন ধরেই বৃহত্তর কৌশলগত স্বায়ত্তশাসনের কথা বলে আসছেন। তারা বলছেন, এখন সময় এসেছে ইউরোপকে নিজেদের দায়িত্বে নেওয়ার। জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মেরকেল তো ২০১৭ সালেই এই কথা বলেছিলেন।
ইউরোপের দেশগুলোর নিরাপত্তা সংক্রান্ত সমস্যা রয়েছে। একমাত্র রাশিয়ার সঙ্গে সরাসরি সামরিক সংঘাত এড়াতে তারা যুক্তরাষ্ট্রকে মিত্র হিসেবে কাছে টেনে নিয়েছে। ন্যাটোর ইউরোপিয়ান সদস্যদের কম করে হলেও ৫০০ মিলিয়ন মানুষ রয়েছে। আর রাশিয়ার জনসংখ্যা মোটে ১৪৫ মিলিয়ন। ইউরোপীয়দের স্বাস্থ্যও রুশদের তুলনায় ভালো। ন্যাটোর সম্মিলিত জিডিপি ১৫ ট্রিলিয়ন ডলারের। আর রাশিয়ার জিডিপি এক দশমিক ৭ ট্রিলিয়ন ডলার। রাশিয়া বছরে যে সামরিক ব্যয় করে তার চেয়ে তিন-চারগুণ বেশি ব্যয় করে ন্যাটোর ইউরোপীয় সদস্যরা। জার্মানি ও ফ্রান্স যা ব্যয় করে তাও রাশিয়ার চেয়ে বেশি। রাশিয়ার একমাত্র শক্তিমত্তা তার বিশাল পারমাণবিক অস্ত্র ভাণ্ডার।
ইউরোপের প্রতিরক্ষা শিল্পগুলো পৃথিবীর সর্বোৎকৃষ্ট প্রচলিত অস্ত্র তৈরি করে। কিন্তু এতকিছু থাকতেও ইউরোপ নিজেদের রক্ষার দিক দিয়ে দুর্বল। তারা মনে করে রাশিয়ার বিরুদ্ধে একমাত্র যুক্তরাষ্ট্রই লড়াই করতে পারে। হুগো মেইজার ও স্টিফেন জি ব্রুকসের মতো অ্যাকাডেমিকরা অবশ্য মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের এখন উচিত অন্যদিকে মনযোগ দিয়ে ইউরোপকে তাদের নিজেদের হাতে ছেড়ে দেওয়া। আর ইউরোপ যদি মনে করে তারা যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়া অচল, তাহলে ইউরোপের উচিত হবে বৃহত্তর কৌশলগত স্বায়ত্তশাসনের স্বপ্ন ভুলে যাওয়া।
বিশ্লেষকদের মতে, ইউরোপের মূল সমস্যা তাদের কৌশলে। রাশিয়াকে হুমকি মনে করে এর বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য যে সমন্বিত উদ্যোগ দরকার, তা ইউরোপীয় দেশগুলোর পক্ষে নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। কারণ ইউরোপীয় ইউনিয়ন গঠিত হওয়ার মধ্য দিয়ে ইউরোপের কিছু দেশ সুবিধা পেলেও অধিকাংশ দেশই সাবেক অবস্থাতেই রয়েছে। ফলে প্রয়োজনের সময় সুবিধাবঞ্চিত ইউরোপীয় দেশগুলো সাহায্যের হাত নাও বাড়াতে পারে এমন সংশয় থেকে যায়। অন্তত করোনাভাইরাস পরিস্থিতির সময় সেই বাস্তবতাই দেখা গেছে।
যতদিন পর্যন্ত ইউরোপের নিরাপত্তার দায়িত্ব যুক্তরাষ্ট্রের হাতে রয়েছে ততদিন পর্যন্ত ইউরোপিয়ান এলিটরা তাদের নিজেদের জাতীয় ঝুঁকির বাইরে যাবে না। ফলে ইউনিয়নের যে সামগ্রিক চরিত্র তা যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়া পূর্ণ হচ্ছে না।❐



