
যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের ত্যাগীরা কেন মাসুল দিচ্ছেন ?
রূপসী বাংলা প্রবাস ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের অভ্যন্তরীন কোন্দল বেড়েই চলেছে। নেতৃপর্যায় থেকে প্রকাশ্যে মেয়াদ উত্তীর্ণ যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের বর্তমান কমিটি নিয়ে কোন মতবিরোধ বা কোন্দল নেই বললেও সেপ্টেম্বরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যুক্তরাষ্ট্রে সফরকে কেন্দ্র করে সে বিরোধ চরম আকার ধারণ করেছিল।

গেল ১৯ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্ক সময় রাত ১০টার পর জ্যাকসন হাইটসে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের অস্থায়ী কার্যালয়ের সামনের এ সংঘাতের ঘটনা ঘটে। সোশ্যাল মিডিয়াতে এ ঘটনার একটা ভিডিও চিত্র ভাইরাল হয়েছিল। নিউ ইয়র্কের রাস্তায় তাতে দেখা যায়, জ্বালাময়ী স্লোগান দিতে দিতে কিছু যুবক আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের দিকে এগিয়ে আসে। এবং কার্যালয়ের কাছাকাছি আসা মাত্রই যুবলীগের দু গ্রুপে সংঘর্ষ বেঁধে যায়।
নিউইয়র্কের পুলিশ প্রশাসন এনওয়াইপিডি জানিয়েছে, আওয়ামী লীগ অফিসের দরজা ভাংচুরের ঘটনায় মামলা হয়েছে। এনওয়াইপিডি তিনজনকে গ্রেফতার করে।

এ প্রসঙ্গে সেসময় যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সম্পাদকমণ্ডলীর এক সদস্য রূপসী বাংলার সঙ্গে বলেছিলেন, ‘নেত্রী আসছেন, এজন্য শো-ডাউনের প্রতিযোগিতায় সামান্য একটু মারপিটের ঘটনা ঘটেছে। এটা কোন বিষয় নয়।’
অভিযোগ রয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামীলীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান সহ আরও কয়েকজন নিজেদের তদবির বাণিজ্য করতে বছরের অধিক সময় বাংলাদেশেই অবস্থান করেন। ফলে ব্যক্তিগতভাবে তারা লাভবান হলেও দলের সাংগঠনিক কর্মকান্ড ক্রমশ স্থবির হয়ে পড়ছে। তারা সাধারণ নেতাকর্মীদের মতামতের মূল্যায়ন না করে নিজেদের ইচ্ছা অনুযায়ী দল পরিচালনা করছেন বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা।

তারা আরও জানান, আওয়ামীলীগের শীর্ষস্থানীয় নেতারা নিজেদের ব্যবসা-বাণিজ্য, তদবির-দেন-দরবার নিয়ে ব্যস্ত থাকেন। বর্তমান কমিটি বিষয়ে জানতে চাইলে তারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে বর্তমান কমিটি নিয়ে দলের অভ্যন্তরে বিভিন্নরকম কোন্দল রয়েছেল। পদবী নিয়ে ঘটছে যায় বিভিন্ন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা।
রূপসী বাংলার সঙ্গে আলাপকালে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা জানান, আওয়ামী লীগ সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে ব্যাপক সমালোচিত হয়ে আছেন। তার সিন্ধান্তের বিরুদ্ধে কেউ কথা বললেই তার ওপর খড়গ নেমে আসে। তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সজিব ওয়াজেদ জয়ের নাম ব্যবহার করে ক্ষমতার অপব্যবহার করেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীন একটি সূত্র জানিয়েছে, গেল সেপ্টেম্বরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্রে গেলে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে সেখানে ইটালি, যুক্তরাজ্য এবং যুক্তরাষ্ট্রর বিভিন্ন রাজ্য থেকে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা নিউ ইয়র্কে হাজির হন। কিন্তু এসব নেতাকর্মীদের হোটেল রুমের ভাড়া গোনাই সার হয়। তারা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে পারেন নি। সূত্রটি আরও জানায় কুচক্রী
মহল ষড়যন্ত্রমূলকভাবে তাদেরকে দেখা করতে দেয় নি। সূত্রটি আভাস দেয় কুচক্রী মহলটি আসলে ড. সিদ্দিকুর রহমান এবং তার লোকেরা।

এর আগে সংগঠনবিরোধী কার্যকলাপের অভিযোগে স্থানীয় সাধারণ সম্পাদককে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছিল। বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে সহসম্পাদকসহ আরও আটজনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। সাংগঠনিক নিয়ম লঙ্ঘন ও দলের সভানেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশ অমান্য করায় কয়েকজনকে স্থায়ীভাবে দল থেকে বহিষ্কারের প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছিল। নেতাকর্মীরা দীর্ঘদিন ধরে নতুন সাংগঠনিক কমিটি গঠনের দাবি জানিয়ে আসছেন। কিন্তু নতুন কমিটি আজও গঠন করা হয় নি।

যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের এই কোন্দল অনেক পুরনো। এই কোন্দল আর দ্বন্দ্বর কারণে ২০১০ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গণসংবর্ধনার অনুষ্ঠান আয়োজনের দায়িত্ব যুক্তরাষ্ট্রের বাংলাদেশ দূতাবাসকে দেওয়া হয়েছিল।




