নির্বাচিত কলাম

লড়াইটা দুই জাতীয়তাবাদের সীমায়

সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী


পশ্চিমবঙ্গে লড়াইটা বাহ্যত দাঁড়িয়ে গিয়েছিল দুই জাতীয়তাবাদের মধ্যে। হিন্দু জাতীয়তাবাদ বনাম বাঙালি জাতীয়তাবাদ। জয় শ্রীরামের বিরুদ্ধে জয় বাংলা। যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপিকে একদা আগ বাড়িয়ে ডেকে এনেছিলেন তিনিই শেষ পর্যন্ত বিজেপির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন, বাঙালি জাতীয়তাবাদের পতাকা হাতে তুলে নিয়ে এবং জোর গলায় ‘জয় বাংলা’ আওয়াজ দিয়ে। ইতিহাসের এ একটা মজাদার কৌতুক বটে। বিজেপির পূর্বপুরুষ হিন্দু মহাসভাপন্থিরাই একদা দাবি তুলেছিলেন মুসলমানদের সম্ভাব্য কর্তৃত্বের (আঞ্চলিক হলেও) রক্ষা করার জন্য প্রয়োজনে ভারতবর্ষকে দুভাগ করে ফেলতে হবে এবং সে দাবির প্রধান মুখপাত্র ছিলেন হিন্দুমহাসভার তখনকার সভাপতি পশ্চিমবঙ্গের শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়; সত্তর-আশি বছর পরে সেই পশ্চিমবঙ্গ থেকেই এখন আওয়াজ উঠেছে ধর্মনিরপেক্ষ বাঙালি জাতীয়তাবাদের। পশ্চিমবঙ্গ আজ চাইছে তার বাঙালিত্বকে রক্ষা করতে, কারণ সেটি এখন বিপন্ন এবং বিপদটা তথাকথিত ‘মুসলিম বাংলাওয়ালা’দের কাছ থেকে আসেনি, এসেছে সেদিন যারা ভাগ করে হলেও বাংলাকে নিজেদের মনগড়া মুসলিম বাংলার হাত থেকে বাঁচাবেন বলে অখণ্ড বাংলাকে কেটে দুভাগ করার সর্বনাশা খেলাতে মেতেছিলেন এবং শেষ পর্যন্ত সফলও হয়েছেন, কট্টর সেই হিন্দুত্ববাদীদের কাছ থেকেই।

পরিষ্কার দেখা যাচ্ছে বিজেপি পশ্চিমবঙ্গে শাসনক্ষমতা পাক বা না পাক, এটা ভেবে অবশ্যই সন্তুষ্ট হতে পারে যে রাজনীতিতে সেই পুরাতন সাম্প্রদায়িকতাকে, বলা যায় দ্বিজাতিতত্ত্বকেই তারা ফিরিয়ে আনতে পেরেছে। ভারতকে উনিশ’শ সাতচল্লিশ তো বটেই, তারও আগের অবস্থার দিকে ঠেলে দিতে সক্ষম হয়েছে। সবটা এখনো পারেনি, তবে আশা করতে থাকবে আগামীতে ওই রাজনীতিকে আরো উগ্র করে তুলে শ্রেণি-বিভাজনের সত্যটাকে অবলুপ্ত করে দিয়ে ভারতকে একটি হিন্দুরাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা করতে পারবে। জয় শ্রীরাম ভরসা!

আমরা অবশ্য নিশ্চিত যে সেটা সম্ভব হবে না। প্রথম কারণ ভারত এক জাতির দেশ নয়, কখনো ছিল না, এখনো নয়। ভারতে বহুজাতির বসবাস এবং প্রত্যেকটি জাতিরই রয়েছে নিজস্ব ভাষা ও সংস্কৃতি। হিন্দু ও মুসলিম, এরা দুটি আলাদা সম্প্রদায় ঠিকই; কিন্তু আলাদা জাতি নয়। বিজেপির বিরুদ্ধে পশ্চিমবঙ্গের মানুষের ক্ষোভের একটা বড় কারণ হিন্দির আক্রমণ। নরেন্দ্র মোদিরা পশ্চিমবঙ্গে এসে হিন্দি ভাষায় বক্তৃতার তুফান ছুটিয়েছেন, বাঙালি সেটা পছন্দ করেনি। বাঙালিপ্রীতি দেখাতে গিয়ে মোদি রবীন্দ্রনাথের কবিতা থেকে উদ্ধৃতি দেয়ার চেষ্টা করেছেন, শুনে বাঙালি কানে আঙুল দিয়েছে, কারণ সেটা কেবল বিকৃত নয়, অশ্লীলও শুনিয়েছে। আগের দিনে একটা গল্প চালু ছিল, যার সারমর্ম হলো, রবীন্দ্রনাথ ১৯৪১ সালে মারা যাওয়ার আগেও একবার মারা গিয়েছিলেন। কোনো মতে সেরে উঠেছিলেন। আর সেটা ঘটেছিল এক হিন্দিভাষীর প্রচণ্ড রবীন্দ্রপ্রীতির কারণেই। হিন্দিভাষী ওই ভদ্রলোক ছিলেন অপ্রতিরোধ্য কবিতাপ্রেমিক, তিনি রবীন্দ্রনাথের কবিতার অনুবাদ করেছেন এবং প্রফুল্লচিত্তে তা রবীন্দ্রনাথকে শোনাতে গিয়েছিলেন। সেই যে চরণ রবীন্দ্রনাথের গীতাঞ্জলির, ‘আমার মাথা নত করে দেও হে তেমার চরণ ধুলার তলে’, তার অনুবাদ তিনি করেছিলেন ‘পাটক দে মেরি শির তেরি টেঙরি পর’। আর সেটা শুনে অমন ধৈর্যমান মানুষ যে রবীন্দ্রনাথ তিনি তৎক্ষণাৎ প্রাণ-ত্যাগ করেছিলেন, হৃদকম্প স্তব্ধ হয়ে যাওয়ার দরুন। হিন্দি বাংলায় এই তফাৎটা খুবই স্বাভাবিকভাবে ঘটে, আর ওই স্বাভাবিকতাই তো জানিয়ে দিচ্ছে যে, ও-দুটিকে এক করতে চাওয়াটা ভীষণ বিপজ্জনক। ভারতবর্ষের যে ঐক্য রবীন্দ্রনাথও কল্পনা করতেন সেটা রাজনৈতিক বা সাংস্কৃতিক কোনো পর্যায়েই অর্জন সম্ভব ছিল না, বরং বৈচিত্র্যের মাঝে যে ঐক্য গড়ে-ওঠে সেটাকে মেনে নেয়াটাই ছিল বাস্তবসম্মত। হিন্দি ও হিন্দুত্ববাদী মোদি মহাশয়েরা অবশ্য সেটা মানেন না। না মেনে বিপদ ডেকে আনেন সাধারণ মানুষের জন্য, যাদের তারা নেতা সেজে বসে আছেন।

তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে শেষ পর্যন্ত ‘জয় বাংলা’র শরণাপন্ন হয়েছেন সেটা একটা শুভ সংকেত বৈকি। ওই আওয়াজ তুলেই আমরা পূর্ববঙ্গের মানুষ পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক ঠিক করেছিলাম। পাকিস্তান এক জাতির দেশ ছিল না। সেখানে অন্তত পাঁচটি জাতি ছিল, উর্দুভাষী মোহাজেরদের বাদ দিয়েও; সেই রাষ্ট্রব্যবস্থা থেকে বের হয়ে আসতে যে মূল্যটা আমাদের দিতে হয়েছে ইতিহাসে তার তুলনা বিরল। ভারতবর্ষের বাস্তবতাও বলছে যে, যে-পন্থাতেই হোক না কেন সেখানকার জাতিকে অবশ্যই একটা মীমাংসায় আসতে হবে, এমন মীমাংসা যাতে প্রত্যেকটি জাতি নিজ নিজ স্বাতন্ত্র্য রক্ষা করে উন্নত হতে পারে, একের উন্নতি অন্যের অবনতির কারণ না হয়ে এবং মূল সমস্যা যেটি- শ্রেণি-সমস্যা সেটা যাতে বের হয়ে আসার এবং মীমাংসার পথ খুুঁজে পায়।

তা মমতা তো বাঙালি জাতীয়তাবাদের পতাকা হাত তুলে নিয়ে আপাতত টিকে গেলেন; তবে তিনি যে ওতেই সন্তুষ্ট থাকবেন তা নয়। তার দৃষ্টি দিল্লির দিকেও প্রসারিত হবে। সেটা খুবই স্বাভাবিক। চলো চলো দিল্লি চলো, এটাতো বাঙালি অনেক কাল ধরেই বলে আসছে। এবারের নির্বাচনেও তৃণমূলের যেসব নেতা ও কর্মী দলত্যাগ করে বিজেপিতে নাম লিখিয়েছিলেন তারা দিল্লি থেকে কিছু পাবেন এমন আশা বক্ষমাঝে লালন করেছেন। মমতার নিকটতম সহকর্মীদের একজন, নন্দীগ্রাম-বিজয়ী বলে যিনি খ্যাতি পেয়েছিলেন, সে-ব্যক্তি যে দল ছাড়লেন, কেবল ছাড়লেনই না নিজের নেত্রীকে নির্বাচনে হারিয়ে দিয়ে আরেকটি রেকর্ড সৃষ্টি করলেন, তারও নাকি আশা ছিল দিল্লির প্রসাদপুষ্ট হয়ে বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর আসনে আসীন হওয়ার। শেষ পর্যন্ত অবশ্য টের পেলেন যে বাঙালির জন্য দিল্লি সত্যি সত্যি অনেক দূরের রাস্তা। কংগ্রেসের প্রয়াত জ্যেষ্ঠ নেতা প্রণব মুখোপাধ্যায় দিল্লির সংলগ্ন হতে সক্ষম হয়েছিলেন এমনকি রাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টও হতে পেরেছিলেন শেষমেশ; কিন্তু ভারতের প্রধানমন্ত্রী আর হওয়া হয়নি। আক্ষেপ করে বলেছেন, তার ওই ব্যর্থতার মূল কারণ হিন্দি ভাষাটা ভালো না জানা। মমতা যদি দিল্লি দখল করে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার মনস্কামনা পূরণ করতে না পারেন তবে তার একটা কারণ হয়তো হবে হিন্দি ভাষা ভালোভাবে রপ্ত করতে না পারা। হিন্দি অবশ্য তিনি কিছুটা আয়ত্তে এনেছেন, ভবিষ্যতে হয়তো অর্জনকে অধিকতর উন্নত করতে সক্ষম হবেন; কিন্তু বাঙালির হিন্দি সে তো আর খাঁটি জিনিস না, সেটা কৃত্রিম থাকতে বাধ্য।

পশ্চিম বাংলায় বিজেপির হট্টগোল ও হস্তক্ষেপ তো থাকবেই, নিজের দলের মস্তানদের আশাপূরণ করাও কঠিন হবে। তাছাড়া নেতিবাচক ভোটেই যে জিতেছেন সেই জ্ঞানও তো অস্বস্তির কারণ হয়ে থাকবেই। আর যে বাঙালি জাতীয়তাবাদের পতাকা ও ‘জয় বাংলা’ ধ্বনিকে তিনি লড়াইয়ের মূল শক্তি হিসেবে দাঁড় করিয়েছেন সে দুটির প্রতি তার কতটা আনুগত্য তারও পরীক্ষা আগামীতে তাকে দিতে হবে বৈকি। বাংলাদেশের দিক থেকে তার বাঙালিত্বের পরীক্ষাটা হয়ে যাবে তিস্তার পানি বিতরণের অপেক্ষমাণ প্রশ্নেই। নদীর জলপ্রবাহ বাঙালির অর্থনীতি ও সংস্কৃতি উভয়ের জন্যই বিশেষ অবলম্বন, তাকে প্রাণপ্রবাহ বললেও অতিশয়োক্তি করা হবে না, সেই প্রবাহ তিনি স্বহস্তে রুদ্ধ করে রাখবেন, আর এপারের বাঙালি তাকে বাঙালির খাঁটি বন্ধু হিসেবে দেখবে এবং তার বাঙালিত্বের দাবিটিও অবিকৃত থাকবে এতটা নিশ্চয়ই আশা করা যায় না। আমরা আশা করতে পারি যে বাঙালি জাতীয়তাবাদে নব্যদীক্ষিত মমতাদিদি কিছুটা নরম হবেন, কিন্তু ভরসা করার কোনো কারণ দেখি না। ওদিকে পশ্চিমবঙ্গের বাঙালিদের জন্য মমতাদিদির বাঙালি জাতীয়তাবাদের পরীক্ষা বেশ পরিষ্কারভাবেই ঘটবে, যখন দেখা যাবে কোন বাঙালির তিনি আপনজন, শতকরা ১০ জন সুবিধাভোগীর (নিজের দলের লোকসহ) নাকি বাকি ৯০ জনকে মিলিয়ে পশ্চিমবঙ্গের সমগ্র বাঙালি জনগোষ্ঠীর? বাস্তবতার দাপটে এটা নিশ্চিত না ঘটে উপায় নেই যে, তিনি ১০ জনের হয়েই কাজ করবেন। সে ক্ষেত্রে তার বাঙালি জাতীয়তাবাদ ও ‘জয় বাংলা’ আওয়াজ উভয়েই ক্রমশ ফিকে হয়ে আসবে। দেখা যাবে যে তার নিজের ও তার দলের সঙ্গে বিজেপির যে প্রকাণ্ড প্রচণ্ড বিরোধ তার অন্তরালে দুই পক্ষের মধ্যে শত্রুতা নয়, ভীষণ অন্তরঙ্গতাই বিদ্যমান; যে অন্তরঙ্গতার ভিত্তি হলো বস্তুগত স্বার্থ। তারা বিবদমান উভয়পক্ষই, পুঁজিবাদী উন্নতির সমর্থক এবং সুবিধাভোগী মানুষদের সুবিধা দেখভাল করার দায়িত্বে স্বেচ্ছায় নিয়োজিত। লড়াইটা ক্ষমতার। যুদ্ধটা ভাইবোনের। তাই বলে বাঙালি জাতীয়তাবাদটা যে মিথ্যা তা তো নয়। এটা ততটাই সত্য যতটা সত্য গুজরাটী, তামিল বা কাশ্মিরিদের জাতীয়তাবাদ। নরেন্দ্র মোদির নির্মম আক্রমণ এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জীবনবাজি রাখা প্রতিরোধ, দুয়ে মিলে কিন্তু এই সত্যটাকে সামনে ঠেলে দিয়েছে যে, ভারতের জন্য জাতি প্রশ্নের মীমাংসা না হলে অন্য প্রশ্নগুলোর সমাধান কঠিন হবে। তবে মস্ত বড় প্রশ্ন হলো মীমাংসাটা ঘটবে কাদের নেতৃত্বে? তৃণমূলের মতো সুবিধালিপ্সু দলের নেতৃত্বে জাতীয়তাবাদের বিষয়টি কিছুটা স্পষ্ট হবে, যেমনটা এখন দেখা যাচ্ছে; কিন্তু জাতীয়তাবাদী আন্দোলনকে তার চূড়ান্ত গন্তব্যে তারা যে নিয়ে যেতে পারবে এমন নয়। খুবই সম্ভব যে তৃণমূল ভেঙে যাবে, লোভে পড়ে কেউ কেউ টোপ গিলবে, মীরজাফরী করবে; অন্যদিকে ব্যাপক জনগণ দলের সঙ্গে থাকতে চাইবে না, নেতৃত্বকে তারা নিজেদের স্বার্থবিরোধী হিসেবে চিনে ফেলবে।

পশ্চিম বাংলার বাঙালিকে মুক্ত করতে হলে কেন্দ্রের অন্যায় আধিপত্য থেকে যেমন বেরিয়ে আসা চাই, তেমনি চাই অভ্যন্তরীণ সামাজিক বিপ্লব; আর সে বিপ্লব অন্য কেউ করতে পারবে না, বামপন্থিরা ছাড়া। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে শ্রীরামপন্থি ও মমতাপন্থিদের দাপটে বামপন্থিরা তো এখন বড়ই দুর্দশার মধ্যে আছেন, কাদার ভেতরে আশ্রয় নিয়েছেন গরমকালের মাছের মতো। আশা এই যে, অচিরেই তারা বের হয়ে আসবেন এবং জনবিচ্ছিন্ন না থেকে গভীরভাবে জনসংলগ্ন হবেন। একটা বড় মুশকিল এই যে, তাদের কথা সাধারণ মানুষ বুঝতে পারে না; জাতীয়তাবাদীরা যা বলে লোকে সেটা সহজে বোঝে। কারণ তাদের কথাগুলো সোজা-সাপ্টা, চাঁছাছোলা। বামপন্থিদের কথা সে-রকম পরিষ্কার নয়। এর কারণ বামপন্থিরা যা বলতে চান তা সরল নয়, কিছুটা তাত্ত্বিক। তার চেয়েও বড় সত্য হলো, তারা যা বলতে চান সেটা তাদের নিজেদের কাছেও খুব স্পষ্ট থাকে না। তোতলামিতে পায়। ভীষণ অভাব রয়েছে অনুশীলনের। পর্যাপ্ত পত্রপত্রিকা নেই, বইপত্র পাওয়া যায় না।

পশ্চিমবঙ্গে কমিউনিস্টরা রাজনৈতিক কাজ করছেন সেই ১৯২০ সাল থেকে; রাজ্যে তারা ক্ষমতায় ছিলেন ৩৪ বছর, কিন্তু জনপ্রিয়তায় আনন্দবাজার পত্রিকাকে হারিয়ে দেবেন এমন কোনো দৈনিক পত্রিকা তারা বের করতে পারেননি। সাংস্কৃতিক ফ্রন্টে কাজও খুব সামান্য। প্রকাশনা কিছু আছে, কিন্তু তা হৃদয়গ্রাহী নয়। ধাক্কা দেয় না, ভাবিয়ে তোলে না। কমিউনিস্টরা জ্ঞানে, আবেগে, রুচিতে বুর্জোয়াদের চেয়ে উন্নত হবেন এবং বুর্জোয়ারা যা করতে পারে না সেটা করতে পারবেন এমনটাই প্রত্যাশিত। রাশিয়া ও চীনে যে বিপ্লব ঘটেছে তার পেছনে ব্যাপক ও গভীর সাংস্কৃতিক প্রস্তুতি ছিল; সেটি না থাকলে বিপ্লব কিছুতেই সম্ভব হওয়ার নয়। ওদিকে বামপন্থিরা সামনে না এলে ওই বিজেপি ও তার ছদ্মবেশী প্রতিদ্বন্দ্বী তৃণমূলই থাকবে এবং তাদের জনবিরোধী, সময়ে সময়ে অশ্লীল, কর্মকাণ্ডে মানুষের মুক্তি আসবে কী উল্টো দুর্ভোগই বাড়বে। তেমনটাই তো এখন ঘটছে।

লেখক: ইমেরিটাস অধ্যাপক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension